পেনসিলভানিয়া | ১৪ আগস্ট, ২০২৬ | ২৯ শ্রাবণ, ১৪৩৩
সর্বশেষ খবর
মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী করা: তারেক রহমানের বিচক্ষণ সিদ্ধান্তের প্রতিফলন মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটি থেকে পদত্যাগ করলেন মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: ইসিতে ৩টি মনোনয়নপত্র জমা লোডশেডিং ব্যবস্থাপনা ও অপেক্ষা ছাড়া আপাতত কোনো উপায় নেই: বিদ্যুৎমন্ত্রী ‘র’ প্রধানের বাংলাদেশ সফর নিয়ে জল্পনার কিছু নেই: ডা. জাহেদ ঢাকা–দিল্লি সম্পর্কে নতুন বার্তা: প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক সৌদি আরবে মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ড: রিয়াদে প্রাণ গেল ১৬ বাংলাদেশি শ্রমিকের নিউইয়র্কে করোনা ত্রাণ তহবিল জালিয়াতি: ৯ জনের দোষ স্বীকার, ফেরত দিতে হবে ১০ লাখ ডলারের বেশি কর-সংক্রান্ত জটিলতা ও আর্থিক তথ্য গোপনের প্রশ্নের মধ্যে পদত্যাগ করলেন আপার ডার্বি ট্রেজারার ড্যানি সাইদুজ্জামান অতিরঞ্জিত প্রশংসা বা অযৌক্তিক সংবাদ 🇧🇩 জুলাই বর্ষা বিপ্লবের দুই বছর 🇧🇩 বৃহত্তর কুমিল্লা সোসাইটি অব পেনসিলভেনিয়ার সাধারণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত APWU Local Area #89 নির্বাচন ২০২৬: নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত, ট্রাস্টি পদে বিজয়ী এমডি মাহিদুন্নবী রুকু ফিলাডেলফিয়া ও আশপাশের এলাকায় ঈদুল আযহার জামাতের সময়সূচি প্রকাশ Philadelphia-এ ডেমোক্র্যাটিক কমিটি পার্সন নির্বাচিত হওয়ায় মোহাম্মদ জাহেদ চৌধুরীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ
হোম জাতীয় মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী করা: তারেক রহমানের বিচক্ষণ সিদ্ধান্তের প্রতিফলন

মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী করা: তারেক রহমানের বিচক্ষণ সিদ্ধান্তের প্রতিফলন

নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১২:০২ এএম, ১৪ আগস্ট, ২০২৬ 82
মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী করা: তারেক রহমানের বিচক্ষণ সিদ্ধান্তের প্রতিফলন

নিউ ইয়র্ক ভয়েস বাংলা

সম্পাদক: নাজমুল হাসান

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে দেশের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। ১৩ আগস্ট ২০২৬ বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে মির্জা ফখরুলের প্রার্থিতা চূড়ান্ত করা হয়। দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর তিনি বিএনপির মহাসচিব ও জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যপদ থেকেও পদত্যাগ আমাদের দৃষ্টিতে, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী করার সিদ্ধান্তকে তারেক রহমানের রাজনৈতিক বিচক্ষণতার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা যায়। কারণ রাষ্ট্রপতি পদ কেবল একটি সাংবিধানিক পদ নয়; এটি রাষ্ট্রের ঐক্য, ভারসাম্য ও অভিভাবকসুলভ ভূমিকার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। এই পদে এমন একজন ব্যক্তির প্রয়োজন, যিনি দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার পাশাপাশি সংযম, সৌজন্য ও সহনশীলতার পরিচয় দিতে সক্ষমির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। দলের কঠিন ও প্রতিকূল সময়ে তিনি সংগঠনের পাশে ছিলেন এবং নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা ধরে রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। রাজনৈতিক প্রতিকূলতা, মামলা-হামলা ও কারাবরণের মতো কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও তিনি দলীয় রাজনীতিতে সক্রিয় থেকেছেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক ভূমিকা ও কঠিন সময়ে দলের নেতৃত্ব দেওয়ার বিষয়টি উঠে এসতবে মির্জা ফখরুলের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক শক্তি হয়তো তার ব্যক্তিগত আচরণ ও রাজনৈতিক ভাষা। বাংলাদেশের বিভক্ত রাজনৈতিক বাস্তবতায় একজন রাষ্ট্রপতির কাছে যে ধরনের সংযত, ভারসাম্যপূর্ণ ও অভিভাবকসুলভ আচরণ প্রত্যাশিত, মির্জা ফখরুল সেই ভূমিকার জন্য তুলনামূলকভাবে উপযুক্ত একজন ব্যক্তি—এমন প্রত্যাশা অমূলক নআমরা মনে করি, তিনি রাষ্ট্রপতি হলে তার দায়িত্ব কেবল রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক কর্মকাণ্ডে সীমাবদ্ধ থাকবে না। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আস্থা তৈরি, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মর্যাদা রক্ষা এবং সমাজে বিদ্যমান বিভাজন ও অনৈক্য কমিয়ে জাতীয় ঐক্যের পরিবেশ তৈরিতেও তিনি ভূমিকা রাখতে পারেবাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক বিভাজন, পারস্পরিক অবিশ্বাস ও সংঘাতের মধ্য দিয়ে এগিয়েছে। এই বাস্তবতায় রাষ্ট্রপতির আসনে এমন একজন ব্যক্তির প্রয়োজন, যিনি কোনো বিশেষ দল বা গোষ্ঠীর ঊর্ধ্বে উঠে রাষ্ট্রের সব নাগরিকের রাষ্ট্রপতি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেমির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সামনে তাই একটি বড় সুযোগ রয়েছে। বিএনপির একজন দীর্ঘদিনের নেতা হিসেবে তিনি যে রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন, রাষ্ট্রপতি হিসেবে সেই অভিজ্ঞতাকে যদি তিনি জাতীয় ঐক্য ও রাষ্ট্রীয় সম্প্রীতির কাজে ব্যবহার করতে পারেন, তাহলে তার রাষ্ট্রপতিত্ব বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি ইতিবাচক অধ্যায় হয়ে উঠতে পআর এখানেই তারেক রহমানের সিদ্ধান্তটির তাৎপর্য সবচেয়ে বেশি। দলের একজন পরীক্ষিত ও দীর্ঘদিনের নেতাকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে পাঠানোর মধ্য দিয়ে তিনি দলীয় রাজনীতির বাইরে একটি বৃহত্তর জাতীয় দায়িত্বের জন্য মির্জা ফখরুলকে সামনে এনেছেন—এমনটাই প্রতীয়মানরাষ্ট্রপতি নির্বাচন এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পন্ন হয়নি; তবে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুলের মনোনয়ন ইতোমধ্যে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। আমাদের প্রত্যাশা, রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করবেন। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকবে, কিন্তু রাষ্ট্রীয় স্বার্থে ঐক্য, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহনশীলতার জায়গাটি আরও শক্তিশালী হবে—এটাই আজ বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যাশা।


নিউ ইয়র্ক ভয়েস বাংলার সম্পাদকীয় অবস্থান থেকে আমরা মনে করি, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থিতা শুধু একটি রাজনৈতিক দলের সিদ্ধান্ত নয়; এটি বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় রাজনীতিতে একটি নতুন ভারসাম্য ও জাতীয় ঐক্যের সম্ভাবনাও তৈরি করতে পার— নাজমুল হাসান

সম্পাদক, নিউ ইয়র্ক ভয়েস বাংলা।