Columbus | ১৬ আগস্ট, ২০২৬ | ৩১ শ্রাবণ, ১৪৩৩
সর্বশেষ খবর
ইউক্রেনে রুশ হামলায় নিহত নারী, রোমানিয়ার আকাশে ড্রোন ভূপাতিত করল ন্যাটো মেসির পেনাল্টি মিস, ন্যাশভিলের কাছে ৪-১ গোলে বিধ্বস্ত মায়ামি ফুটবল মাঠের তুচ্ছ ঝগড়া গড়াল প্রাণঘাতী সংঘর্ষে, সুনামগঞ্জে নিহত ১ বয়স বাড়লেও সুস্থ থাকুন, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী রাখতে যেসব খাবার জরুরি সুস্থ নারী, সুস্থ জীবন: প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজের তালিকা ব্যায়াম ছাড়াই ওজন কমাতে সহায়ক হতে পারে প্রতিদিনের এই অভ্যাসগুলো ৬৬ বছর নখ না কেটে বিশ্বরেকর্ড, শ্রীধরের অবিশ্বাস্য কীর্তি হারিকেন লালার তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড হাওয়াই, বিদ্যুৎহীন ৪২ হাজারের বেশি মানুষ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিতে রানি মুখার্জি, পেলেন সম্মানসূচক ডক্টরেট যুদ্ধবিরতি জোরদারে কায়রো যাচ্ছে হামাস, মিসরীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক জিম্বাবুয়েতে ভয়াবহ ফেরিডুবি, নিহত ৬৮; এখনো চলছে নিখোঁজদের সন্ধান ইন্দোনেশিয়ায় ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্প, নিহত ৪৭—ধ্বংসস্তূপে চলছে প্রাণের সন্ধান রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে নতুন অগ্রগতি, ৩ লাখের বেশি মানুষের পরিচয় নিশ্চিত মিয়ানমারের ডারউইন টেস্টে ইতিহাসের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ ‘আওয়ারাপন ২’-এর বাজিমাত, প্রথম দিনেই ২৭ কোটি পার ইমরান হাশমির
হোম লাইফস্টাইল সুস্থ নারী, সুস্থ জীবন: প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজের তালিকা

সুস্থ নারী, সুস্থ জীবন: প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজের তালিকা

নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ০১:৪২ এএম, ১৬ আগস্ট, ২০২৬ 3
সুস্থ নারী, সুস্থ জীবন: প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজের তালিকা

নারীর সুস্থতা ধরে রাখতে শুধু সুষম খাবার ও নিয়মিত জীবনযাপনই নয়, শরীরে প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজের পর্যাপ্ত উপস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ। বয়স, মাসিক, গর্ভাবস্থা, স্তন্যদান এবং মেনোপজ—জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে নারীর পুষ্টির চাহিদাও বদলে যায়। বিশেষ করে আয়রন, ফলিক অ্যাসিড, ভিটামিন ডি, ভিটামিন বি১২ ও ক্যালসিয়ামের মতো পুষ্টি উপাদানের দিকে বাড়তি নজর দেওয়া প্রয়োজন।

তবে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি ভিটামিন গ্রহণ করলেই স্বাস্থ্য ভালো থাকবে—এমন ধারণা ঠিক নয়। অধিকাংশ নারী বৈচিত্র্যময় ও পুষ্টিকর খাবার থেকেই প্রয়োজনীয় পুষ্টি পেতে পারেন। কারও ক্ষেত্রে সাপ্লিমেন্ট প্রয়োজন হলে তা চিকিৎসক বা নিবন্ধিত পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী নেওয়াই নিরাপদ।


আয়রন: মাসিক হওয়া নারীদের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ


নারীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খনিজগুলোর একটি হলো আয়রন। মাসিকের সময় রক্তক্ষরণের মাধ্যমে শরীর থেকে আয়রন কমে যায়। শরীরে আয়রনের ঘাটতি হলে আয়রন-ঘাটতিজনিত অ্যানিমিয়া হতে পারে, যার ফলে ক্লান্তি, দুর্বলতা ও মাথা ঘোরার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।


১৯ থেকে ৫০ বছর বয়সী নারীদের সাধারণত প্রতিদিন ১৮ মিলিগ্রাম আয়রন প্রয়োজন। গর্ভাবস্থায় এই প্রয়োজন বেড়ে ২৭ মিলিগ্রামে পৌঁছে যায়। মাংস, মাছ, ডাল, পালং শাক, টোফু ও আয়রন-সমৃদ্ধ শস্য থেকে আয়রন পাওয়া যায়।


ফলিক অ্যাসিড: গর্ভধারণের আগে থেকেই গুরুত্বপূর্ণ


ফোলেট বা ভিটামিন বি৯ শরীরে নতুন কোষ ও রক্তকণিকা তৈরিতে ভূমিকা রাখে। গর্ভধারণের আগে এবং গর্ভাবস্থার শুরুতে এটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ, কারণ পর্যাপ্ত ফলিক অ্যাসিড শিশুর মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ডের কিছু গুরুতর জন্মগত ত্রুটির ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।


গর্ভধারণের সম্ভাবনা রয়েছে এমন নারীদের প্রতিদিন ৪০০–৮০০ মাইক্রোগ্রাম ফলিক অ্যাসিড নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। পালং শাকসহ সবুজ শাকসবজি, ডাল, বাদাম এবং ফলিক অ্যাসিড-সমৃদ্ধ ফোর্টিফায়েড শস্য ভালো উৎস।


ভিটামিন ডি: হাড় ও ক্যালসিয়ামের জন্য


ভিটামিন ডি শরীরকে ক্যালসিয়াম শোষণে সাহায্য করে এবং হাড়ের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য সাধারণ সুপারিশ প্রতিদিন ৬০০ IU (১৫ মাইক্রোগ্রাম) ভিটামিন ডি।


ভিটামিন ডির ঘাটতি থাকলে বিশেষ করে বয়স বাড়ার সঙ্গে হাড়ের স্বাস্থ্য নিয়ে সমস্যা তৈরি হতে পারে। খাবার, সূর্যালোক এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শে সাপ্লিমেন্টের মাধ্যমে এর ঘাটতি পূরণ করা যায়।


ক্যালসিয়াম: বয়স বাড়ার সঙ্গে আরও গুরুত্বপূর্ণ


হাড় ও দাঁতের গঠন ও শক্তি বজায় রাখতে ক্যালসিয়াম অপরিহার্য। এটি শুধু হাড়ের জন্য নয়, পেশির স্বাভাবিক কাজ এবং স্নায়ুর মাধ্যমে সংকেত আদান-প্রদানেও ভূমিকা রাখে।


১৯ থেকে ৫০ বছর বয়সী নারীদের প্রতিদিন প্রায় ১,০০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম প্রয়োজন। ৫১ থেকে ৭০ বছর বয়সী নারীদের প্রয়োজন বেড়ে ১,২০০ মিলিগ্রাম হয়। দুধ, দই, পনির, ক্যালসিয়াম-সমৃদ্ধ সয়া পানীয়, টোফু ও কিছু সবুজ শাকসবজি এর ভালো উৎস।


ভিটামিন বি১২: রক্ত ও স্নায়ুর জন্য


ভিটামিন বি১২ লোহিত রক্তকণিকা তৈরি এবং স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ। প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণত প্রতিদিন ২.৪ মাইক্রোগ্রাম বি১২ প্রয়োজন; গর্ভাবস্থায় প্রয়োজন বেড়ে ২.৬ মাইক্রোগ্রামে যায়।


বিশেষ করে নিরামিষ বা ভেগান খাদ্যাভ্যাস অনুসরণকারী নারীদের বি১২-এর উৎস সম্পর্কে বাড়তি সচেতন হওয়া প্রয়োজন। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শে সাপ্লিমেন্ট নেওয়া যেতে পারে।


ভিটামিন এ: দৃষ্টি ও রোগ প্রতিরোধে ভূমিকা


ভিটামিন এ দৃষ্টিশক্তি, কোষের স্বাভাবিক বৃদ্ধি এবং রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। গাজর, মিষ্টি আলু, পালং শাকসহ বিভিন্ন সবজি ও ফল থেকে ভিটামিন এ পাওয়া যায়।


তবে গর্ভাবস্থায় উচ্চমাত্রার ভিটামিন এ সাপ্লিমেন্ট নিজের ইচ্ছায় নেওয়া উচিত নয়। অতিরিক্ত ভিটামিন এ ভ্রূণের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।


ভিটামিন সি: আয়রন শোষণেও সহায়ক


কমলা, পেয়ারা, লেবু, স্ট্রবেরি, টমেটোসহ বিভিন্ন ফল ও সবজিতে থাকা ভিটামিন সি শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে উদ্ভিদজাত খাবার থেকে পাওয়া আয়রন শরীরে শোষণে এটি সহায়তা করতে পারে।


তাই আয়রনসমৃদ্ধ খাবারের সঙ্গে ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ ফল বা সবজি রাখা একটি ভালো খাদ্যাভ্যাস হতে পারে।


মেনোপজের পর পুষ্টির চাহিদায় পরিবর্তন


মেনোপজের পর নারীদের হাড়ের ঘনত্ব কমার ঝুঁকি বাড়তে পারে। এ সময়ে পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি গ্রহণের পাশাপাশি ওজন বহনকারী শারীরিক কার্যক্রম হাড়ের স্বাস্থ্য ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ।


তাই বয়স বাড়ার সঙ্গে খাবারের মান, শারীরিক সক্রিয়তা এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টির দিকে বিশেষ নজর দেওয়া জরুরি।


খাবার থেকেই পুষ্টি নেওয়া সবচেয়ে ভালো


বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণভাবে ভিটামিন ও খনিজের প্রধান উৎস হওয়া উচিত বৈচিত্র্যময় ও পুষ্টিকর খাবার। ফল, সবজি, শস্য, দুধ বা বিকল্প, ডাল, মাছ, ডিম, মাংস ও অন্যান্য প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার মিলিয়ে সুষম খাদ্য তৈরি করা যায়।


সাপ্লিমেন্টের প্রয়োজন হতে পারে গর্ভবতী বা গর্ভধারণের সম্ভাবনা থাকা নারী, মেনোপজ-পরবর্তী নারী কিংবা নির্দিষ্ট খাদ্যাভ্যাস বা পুষ্টির ঘাটতিতে থাকা ব্যক্তিদের। তবে সবার জন্য একই সাপ্লিমেন্ট বা একই মাত্রা প্রযোজ্য নয়।


প্রয়োজনের অতিরিক্ত ভিটামিনও ক্ষতিকর


‘ভিটামিন’ শব্দটি শুনে অনেকেই মনে করেন বেশি গ্রহণ করলে বেশি উপকার হবে। বাস্তবে তা নয়। কিছু ভিটামিন ও খনিজ অতিরিক্ত মাত্রায় গ্রহণ করলে ক্ষতির কারণ হতে পারে। বিশেষ করে আয়রন, ভিটামিন ডি ও ভিটামিন বি৬-এর মতো পুষ্টি উপাদানের অতিরিক্ত গ্রহণ স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।


তাই রক্ত পরীক্ষায় ঘাটতি ধরা পড়লে বা চিকিৎসক প্রয়োজন মনে করলে তবেই নির্দিষ্ট সাপ্লিমেন্ট ও মাত্রা নির্ধারণ করা উচিত।


গর্ভাবস্থায় বাড়তি সতর্কতা


গর্ভাবস্থায় নারীর পুষ্টির চাহিদা বাড়ে। ফলিক অ্যাসিড, আয়রন, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি ও বি১২সহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদানের পর্যাপ্ততা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। গর্ভবতী নারীদের জন্য সাধারণ ভিটামিনের বদলে চিকিৎসকের পরামর্শে প্রেনাটাল ভিটামিন নেওয়া নিরাপদ পদ্ধতি।


সবশেষে, নারীর সুস্থতার জন্য কোনো একটি ‘ম্যাজিক ভিটামিন’ নেই। বয়স ও জীবনপর্ব অনুযায়ী পুষ্টির চাহিদা বদলায়। তাই সুষম খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ—এই সমন্বিত জীবনযাপনই দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতার ভিত্তি।


-নিউ ইয়র্ক ভয়েস বাংলা