খায়রুল হকের দেশত্যাগে আদালতের অনুমতি বাধ্যতামূলক
ঢাকা প্রতিনিধি ||
সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক আদালতের অনুমতি ছাড়া দেশত্যাগ করতে পারবেন না। এ বিষয়ে আদেশ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। গত ১১ আগস্ট প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন। সোমবার (১৭ আগস্ট) আদেশটির লিখিত অনুলিপি প্রকাশ্যে আসে।
আদালতের এই নির্দেশের ফলে বিচারপতি খায়রুল হকের বিদেশযাত্রার ক্ষেত্রে নতুন করে আইনি সীমাবদ্ধতা তৈরি হলো। তিনি যদি দেশের বাইরে যেতে চান, তাহলে সংশ্লিষ্ট আদালতের অনুমতি নিতে হবে।
জামিন পেলেও বিদেশযাত্রায় বাধা
বিচারপতি খায়রুল হকের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা চলমান রয়েছে। এসব মামলায় বিভিন্ন সময়ে তিনি জামিন পেয়েছেন। সর্বশেষ রাজধানীর বনানী থানায় দায়ের করা একটি হত্যাচেষ্টা মামলায়ও তার জামিন বহাল রেখেছেন চেম্বার আদালত।
এর আগে গত ৩০ জুন যাত্রাবাড়ী থানায় দায়ের করা খোয়াইব হত্যা মামলায় হাইকোর্ট তাকে ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন। পরে ২ জুলাই চেম্বার আদালত সেই জামিন বহাল রাখেন।
তবে একটি মামলায় জামিন পাওয়া বা মুক্তির সুযোগ তৈরি হওয়া মানেই বিদেশে যাওয়ার অনুমতি পাওয়া নয়। আপিল বিভাগের সর্বশেষ আদেশে সেই বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে—দেশত্যাগের আগে আদালতের অনুমতি প্রয়োজন হবে।
একের পর এক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো
চলতি বছরের মে মাসে পৃথক সাতটি মামলায় জামিন পাওয়ার পরও খায়রুল হককে যাত্রাবাড়ী থানায় দায়ের করা খোয়াইব হত্যা মামলায় নতুন করে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এ বিষয়ে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আবেদন করেছিল পুলিশ।
এর আগে তাকে যাত্রাবাড়ী ও আদাবর থানার পৃথক হত্যা মামলাতেও গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল। এসব মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পাওয়ার পর আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতও সেই জামিন বহাল রাখেন।
তবে তাকে সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া গ্রেপ্তার দেখানো ও হয়রানি না করতে হাইকোর্ট এর আগে নির্দেশ দিয়েছিলেন। মে মাসে দেওয়া ওই অন্তর্বর্তীকালীন আদেশটি পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়াতেও আলোচনায় আসে।
এর আগে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞাও ছিল
খায়রুল হকের বিদেশযাত্রা নিয়ে আদালতের নির্দেশ এবারই প্রথম নয়। চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ—রাজউকের একটি প্লটসংক্রান্ত দুর্নীতি মামলায় তাকে ও আরও সাতজনকে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল ঢাকার একটি আদালত।
দুদকের করা ওই মামলায় অভিযোগ করা হয়, মিথ্যা তথ্য দিয়ে রাজধানীতে ১০ কাঠার একটি প্লট নেওয়া হয়েছিল। মামলায় খায়রুল হকসহ রাজউকের সাবেক কয়েকজন কর্মকর্তা আসামি ছিলেন।
বিদেশযাত্রা বন্ধের আইনি ভিত্তি
বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ফৌজদারি অভিযোগ থাকলে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে তার বিদেশযাত্রা সীমিত করার সুযোগ রয়েছে। তবে শুধু কোনো মামলায় কারও নাম থাকলেই তার বিদেশযাত্রা বন্ধ করা যায় না—এমন পর্যবেক্ষণও দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।
২০২১ সালে একটি মামলার রায়ে আপিল বিভাগ বলেছিল, সুনির্দিষ্ট ফৌজদারি অভিযোগ থাকলে পাসপোর্ট জব্দ বা বিদেশযাত্রা আটকে দেওয়া যেতে পারে। তবে কেবল ফৌজদারি মামলায় নাম থাকার কারণেই কাউকে বিদেশযাত্রা থেকে বিরত রাখা যাবে না।
খায়রুল হকের ক্ষেত্রে আপিল বিভাগের সর্বশেষ আদেশটি এসেছে তার বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলোর প্রেক্ষাপটে। ফলে তিনি বিদেশে যেতে চাইলে সংশ্লিষ্ট আদালতের অনুমতির বিষয়টি এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সামনে কী
সর্বশেষ মামলাগুলোতে জামিন বহাল থাকায় খায়রুল হকের মুক্তির ক্ষেত্রে আইনি বাধা কমেছে। তার আইনজীবীরাও জানিয়েছেন, জামিন বহাল থাকায় মুক্তির সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে মুক্তি পেলেও আদালতের অনুমতি ছাড়া দেশত্যাগ করতে পারবেন না তিনি।
ফলে বিচারপতি খায়রুল হকের ক্ষেত্রে এখন দুটি বিষয় আলাদাভাবে গুরুত্বপূর্ণ—একদিকে চলমান মামলাগুলোর বিচারিক কার্যক্রম, অন্যদিকে আদালতের অনুমতি ছাড়া বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা।
আইনি প্রক্রিয়ায় পরবর্তী কোনো আদালতের আদেশ না আসা পর্যন্ত বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে এই বিধিনিষেধ কার্যকর থাকবে।
-নিউইয়র্ক ভয়েস বাংলা