Columbus | ১৮ আগস্ট, ২০২৬ | ২ ভাদ্র, ১৪৩৩
সর্বশেষ খবর
প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে জাতীয় সংসদের দেয়ালে কালেমা তাইয়্যেবা ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় বড় ধস, অনুমোদন নেমে ৩৩ শতাংশে অরুণাচল সীমান্তে চীনা অনুপ্রবেশের অভিযোগ, ফের উত্তপ্ত ভারত–চীন সম্পর্ক ধীরে ধীরে গণতন্ত্র সংকুচিত হয়ে আসছে: নাহিদ ইসলাম ‘আওয়ামী লীগ কোনো দিনই পরিবর্তন হবে না’: ডা. সায়মা আফরোজ কয়েকটি রাস্তা-ব্রিজ বানিয়ে দেশ বানানোর দাবি নয়, প্রয়োজন সামগ্রিক উন্নয়ন: তারেক রহমান দোয়া ও স্মৃতিচারণে বাফেলোতে খালেদা জিয়ার জন্মদিন পালন ব্রেন টিউমারের চিকিৎসায় ইলিয়াস কাঞ্চন, দেড় বছর পর দেশে ফিরে আবার লন্ডনে ইনফান্তিনোর চতুর্থ মেয়াদের পথে বাধা, প্রার্থিতা ঠেকাতে ফিফার কাছে ফেয়ারস্কয়ারের চিঠি দুদকে নতুন নেতৃত্ব: চেয়ারম্যান বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান খায়রুল হকের দেশত্যাগে আদালতের অনুমতি বাধ্যতামূলক ‘নতজানু পররাষ্ট্রনীতির অবসান, জাতীয় স্বার্থই এখন অগ্রাধিকার’: মাহদী আমিন চীনা বাজারে নতুন কৌশল, আলিবাবার সহায়তায় নিজস্ব এআই মডেল বানাচ্ছে অ্যাপল ইরান ইস্যু ও কিমের সঙ্গে সম্পর্ক: দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে মহড়া কমালেন ট্রাম্প রাজধানীতে কাল থেকে পিংক বাস, চালক-কন্ডাক্টরও নারী
হোম আমেরিকা ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় বড় ধস, অনুমোদন নেমে ৩৩ শতাংশে

ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় বড় ধস, অনুমোদন নেমে ৩৩ শতাংশে

নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ০২:৩৮ এএম, ১৮ আগস্ট, ২০২৬ 18
ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় বড় ধস, অনুমোদন নেমে ৩৩ শতাংশে

ওয়াশিংটন ||

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় বড় ধরনের ধস নেমেছে। Reuters/Ipsos-এর সর্বশেষ জরিপে তাঁর কাজের প্রতি অনুমোদন কমে মাত্র ৩৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা দ্বিতীয় মেয়াদে তাঁর সর্বনিম্ন অনুমোদন। একই সময়ে ৬৪ শতাংশ মার্কিন নাগরিক বলেছেন, তারা প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের কর্মকাণ্ড অনুমোদন করেন না।


চার দিনের এই জরিপটি ১৪ থেকে ১৭ আগস্ট পরিচালনা করা হয়। এতে দেশজুড়ে ১,১৬৬ জন প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিক অংশ নেন এবং জরিপটির মার্জিন অব এরর ছিল প্রায় ৩ শতাংশ। এর আগে আগস্টের শুরুতে Reuters/Ipsos জরিপে ট্রাম্পের অনুমোদন ছিল ৩৫ শতাংশ। অর্থাৎ অল্প সময়ের মধ্যেই আরও ২ শতাংশীয় পয়েন্ট কমেছে তাঁর জনপ্রিয়তা।


ইরান যুদ্ধেই কি বড় ধাক্কা?

Reuters-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমার অন্যতম বড় কারণ হয়ে উঠেছে ইরান যুদ্ধ। ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে জড়িয়ে পড়ার পর সংঘাত দীর্ঘায়িত হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহ এবং যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বাজারেও। ফলে সাধারণ মার্কিন পরিবারের ওপর বেড়েছে পেট্রোলের দাম ও জীবনযাত্রার ব্যয়।


জরিপে দেখা গেছে, ৮০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করেন ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সম্পৃক্ততা দীর্ঘ সময় ধরে চলবে। এমনকি রিপাবলিকানদের মধ্যেও ৭১ শতাংশ একই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন; ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে এই হার ৮৭ শতাংশ। বিপরীতে মাত্র ১৬ শতাংশ মনে করেন কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সংঘাত শেষ হতে পারে।


যুদ্ধটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আদৌ সার্থক হয়েছে কি না—এ প্রশ্নেও জনমতের বড় ধরনের নেতিবাচকতা দেখা গেছে। মাত্র পাঁচজনের একজন মার্কিন নাগরিক মনে করেন যুদ্ধটি সার্থক হয়েছে। রিপাবলিকানদের মধ্যেও এ মত পোষণ করেন মাত্র প্রায় অর্ধেক।


অর্থনীতিও ট্রাম্পের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ

শুধু যুদ্ধ নয়, জীবনযাত্রার ব্যয় ও অর্থনীতি নিয়েও ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে অসন্তোষ বাড়ছে।

Reuters/Ipsos-এর আগস্টের আগের জরিপে দেখা যায়, ৭০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক জীবনযাত্রার ব্যয় এবং মূল্যস্ফীতি—দুই ক্ষেত্রেই ট্রাম্পের কার্যক্রমকে অনুমোদন করেন না। জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্পের অনুমোদন ছিল মাত্র ২৩ শতাংশ এবং মূল্যস্ফীতি মোকাবিলায় ২২ শতাংশ। একই জরিপে ৪৮ শতাংশ নাগরিক বলেছেন, ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্তে জীবনযাত্রার ব্যয় হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি।


অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায়ও রিপাবলিকানদের দীর্ঘদিনের সুবিধা ক্ষয় হচ্ছে। সর্বশেষ Reuters/Ipsos জরিপে ৩৮ শতাংশ ভোটার বলেছেন, অর্থনীতি পরিচালনায় তারা ডেমোক্র্যাটদের বেশি বিশ্বাস করেন; রিপাবলিকানদের পক্ষে ছিলেন ৩৫ শতাংশ। প্রায় এক দশকের মধ্যে এই প্রথম অর্থনৈতিক ইস্যুতে ডেমোক্র্যাটরা রিপাবলিকানদের ওপর এগিয়ে গেল।


অভিবাসন ইস্যুতেও কমছে রিপাবলিকানদের সুবিধা

অভিবাসন নীতিতে এতদিন ট্রাম্প ও রিপাবলিকানদের বড় রাজনৈতিক সুবিধা ছিল। কিন্তু সেই ব্যবধানও দ্রুত সংকুচিত হচ্ছে।


সর্বশেষ জরিপে ৪০ শতাংশ নিবন্ধিত ভোটার বলেছেন, অভিবাসন নীতি পরিচালনায় রিপাবলিকানদের পদ্ধতি ভালো; ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে ছিলেন ৩৮ শতাংশ। অর্থাৎ ব্যবধান মাত্র ২ শতাংশীয় পয়েন্ট। অথচ ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে এই ব্যবধান ছিল ২৬ শতাংশীয় পয়েন্ট।


মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে সতর্ক সংকেত


ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার এই পতন শুধু প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত রাজনৈতিক অবস্থানের জন্য নয়, তাঁর দল রিপাবলিকান পার্টির জন্যও বড় সতর্ক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।


আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ইতোমধ্যে খুবই সংকীর্ণ। একই সঙ্গে ডেমোক্র্যাটরা সিনেটেও নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার সম্ভাবনা দেখছে। উচ্চ জ্বালানি মূল্য, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং দীর্ঘায়িত ইরান যুদ্ধ—এই তিনটি বিষয় নির্বাচনে রিপাবলিকানদের জন্য বড় বোঝা হয়ে উঠতে পারে।


বিশেষ করে অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় যদি ভোটারদের প্রধান ইস্যু হয়ে থাকে, তাহলে ট্রাম্পের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে। কারণ সাম্প্রতিক Reuters/Ipsos জরিপগুলোতে দেখা যাচ্ছে, এই দুটি বিষয়ে তাঁর অনুমোদন সামগ্রিক প্রেসিডেন্ট অনুমোদনের চেয়েও অনেক নিচে।


সর্বনিম্নে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা

২০২৫ সালে দ্বিতীয়বার হোয়াইট হাউসে ফেরার সময় ট্রাম্পের প্রতি দেশের প্রায় অর্ধেক মানুষের সমর্থন ছিল। কিন্তু ২০২৬ সালে এসে সেই জনপ্রিয়তা ধারাবাহিকভাবে কমেছে। মার্চে Reuters/Ipsos জরিপে তাঁর অনুমোদন ৩৬ শতাংশে নেমেছিল; এরপর এপ্রিলেও তা ৩০-এর ঘরে ছিল। জুনের Reuters/Ipsos জরিপে অনুমোদন ছিল ৩৫ শতাংশ। আগস্টের শুরুতে তা ৩৫ শতাংশ থাকলেও সর্বশেষ জরিপে নেমে এসেছে ৩৩ শতাংশে।


অর্থাৎ, ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার সংকট এখন আর বিচ্ছিন্ন কোনো জরিপের ফল নয়; বরং যুদ্ধ, জ্বালানি মূল্য, মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়—একাধিক ইস্যুতে জনঅসন্তোষের সম্মিলিত প্রতিফলন হিসেবে এটিকে দেখা হচ্ছে।


তবে ৩৩ শতাংশ অনুমোদন মানেই ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভিত্তি ভেঙে পড়েছে—এমন সিদ্ধান্তে এখনই পৌঁছানো ঠিক হবে না। তাঁর রিপাবলিকান সমর্থকদের মধ্যে এখনও উল্লেখযোগ্য সমর্থন রয়েছে। কিন্তু মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র কয়েক মাস আগে এই পর্যায়ের সামগ্রিক জনসমর্থন রিপাবলিকানদের জন্য নিঃসন্দেহে একটি গুরুতর রাজনৈতিক সতর্কবার্তা।


সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন একটাই—ইরান যুদ্ধ, বাড়তি জ্বালানি মূল্য এবং জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে মার্কিন ভোটারদের অসন্তোষ কি নভেম্বরের নির্বাচনে ট্রাম্প ও রিপাবলিকান পার্টির বিরুদ্ধে সরাসরি ভোটে পরিণত হবে?


Reuters/Ipsos-এর সর্বশেষ পরিসংখ্যান অন্তত এটুকু স্পষ্ট করছে—ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের জনপ্রিয়তা এখন সবচেয়ে কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।


তথ্যসূত্র: Reuters-এর ১৭ আগস্টের মূল প্রতিবেদন এবং Ipsos-এর Reuters/Ipsos আগস্ট ২০২৬ জরিপের ফলাফলকে ভিত্তি করা হয়েছে। Reuters-এর মূল প্রতিবেদন⁠ Ipsos-এর Reuters/Ipsos জরিপ⁠