Columbus | ১৭ আগস্ট, ২০২৬ | ২ ভাদ্র, ১৪৩৩
সর্বশেষ খবর
খায়রুল হকের দেশত্যাগে আদালতের অনুমতি বাধ্যতামূলক ‘নতজানু পররাষ্ট্রনীতির অবসান, জাতীয় স্বার্থই এখন অগ্রাধিকার’: মাহদী আমিন চীনা বাজারে নতুন কৌশল, আলিবাবার সহায়তায় নিজস্ব এআই মডেল বানাচ্ছে অ্যাপল ইরান ইস্যু ও কিমের সঙ্গে সম্পর্ক: দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে মহড়া কমালেন ট্রাম্প রাজধানীতে কাল থেকে পিংক বাস, চালক-কন্ডাক্টরও নারী সেলেনা গোমেজের বিরুদ্ধে বিনিয়োগকারীদের মামলা বিশ্ববাজারে ফের চড়ছে স্বর্ণের দাম ঢাবিতে হল প্রাধ্যক্ষকে উদ্ধারে সংঘর্ষ, ভিপি\-জিএসসহ আহত অনেকে ১৫ আগস্টে বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ, পেনসিলভেনিয়ায় শোক ও শ্রদ্ধার আয়োজন আনন্দ-উচ্ছ্বাসে সম্পন্ন হলো গ্রেটার ময়মনসিংহ অ্যাসোসিয়েশন অব পেনসিলভানিয়ার বার্ষিক বনভোজন মহাকাশে ধান চাষে চীনের যুগান্তকারী সাফল্য, খুলছে চাঁদ-মঙ্গলে কৃষির দ্বার খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিনে মালয়েশিয়ায় বিএনপির দোয়া ও স্মরণসভা যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ ঝড়-বন্যা: ইন্ডিয়ানায় চার বছরের শিশুসহ ৬ জনের মৃত্যু পান মসলা বিজ্ঞাপন ঘিরে বিপাকে তিন তারকা, শাহরুখ-অজয়-টাইগারকে FDA-এর নোটিশ বাসা ভাড়ার অজুহাতে অভিনব লুট, খাবারে ঘুমের ওষুধ—রহস্য উদঘাটনে পুলিশ
হোম বিনোদন চিকিৎসা নিয়ে দেশে সাবিনা, কেমন আছেন শিল্পী?

চিকিৎসা নিয়ে দেশে সাবিনা, কেমন আছেন শিল্পী?

নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ০২:৪০ পিএম, ০৪ জুন, ২০২৪ 3
চিকিৎসা নিয়ে দেশে সাবিনা, কেমন আছেন শিল্পী?

চিকিৎসার জন্য তিন মাসের বেশি সময় সিঙ্গাপুরে অবস্থানের পর দেশে ফিরেছেন কণ্ঠশিল্পটী সাবিনা ইয়াসমিন।

গত ৩১ মে তিনি দেশে ফিরেছেন বলে সোমবার গ্লিটজকে নিশ্চিত করেছেন শিল্পীর মেয়ে ফাইরুজ ইয়াসমীন বাঁধন। তবে সাবিনা ইয়াসমিনের শারীরিক অবস্থা নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি তিনি।


তবে শিল্পীর ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রে জানা গেছে, এই দফায় চিকিৎসা প্রক্রিয়া শেষ করে দেশে ফিরলেও সাবিনা ইয়াসমিনকে আরও কয়েকবার সিঙ্গাপুরে যেতে হবে। আগামী এক বছর চিকিৎসকের নির্দেশমতই তাকে চলতে হবে।


গেল ফেব্রুয়ারিতে ফের সাবিনার ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার খবর রটে। দেশের পাশাপাশি ভারতীয় গণমাধ্যমেও প্রকাশ হয় এই খবর। যদিও তার অসুস্থতার সত্যতা তখন নিশ্চিত হওয়া যায়নি।


পরে সাবিনা ইয়াসমিন দেশবাসীর উদ্দেশে এক বার্তায় সিঙ্গাপুরে তার চিকিৎসা নেওয়ার প্রসঙ্গে বলেছিলেন, প্রতিবছরই তাকে নিয়মিত চেকআপের জন্য সিঙ্গাপুর যেতে হয়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। তবে এবার চেকআপে এসে দাঁতে সমস্যা দেখা দেয়। পরে গত ৭ ফেব্রুয়ারি দাঁতে ছোট একটি সার্জারিও হয়।


অযথা বিভ্রান্তিমূলক তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কিংবা গণমাধ্যমে দিয়ে জাতিকে বিভ্রান্তিতে না ফেলতেও অনুরোধ জানিয়েছিলেন এই সংগীতশিল্পী।


২০০৭ সালে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছিলেন সাবিনা ইয়াসমিন। পরে চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে গানেও সরব দেখা যায় তাকে।


পাঁচ দশকের ক্যারিয়ারে দশ হাজারেও বেশি গান কণ্ঠে তুলেছেন সাবিনা ইয়াসমিন। গীতিকার নয়ীম গহরের লেখা ও সুরকার আজাদ রহমানের সুরে সাবিনা ইয়াসমিনের গাওয়া দেশাত্মবোধক গান ‘জন্ম আমার ধন্য হলো মাগো’ একাত্তরের রণাঙ্গনে মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রাণিত করেছিল।


নজরুল ইসলাম বাবুর কথায় আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের সুরে সাবিনার কণ্ঠে অমর হয়েছে ‘সব কটা জানালা খুলে দাও না’; হাসান মতিউর রহমানের কথা ও মলয় কুমার গাঙ্গুলীর সুরে তার কণ্ঠে ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে ‘যদি রাত পোহালে শোনা যেত বঙ্গবন্ধু মরে নাই’র মতো গান।


বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা গানের পাশাপাশি চলচ্চিত্রের গানে কণ্ঠ দিয়ে সব শ্রেণির শ্রোতাদের মাঝে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন সাবিনা ইয়াসমিন।


সাবিনা ইয়াসমিনের জন্ম ১৯৫৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর; ঢাকায়। তার পৈতৃক নিবাস সাতক্ষীরায়। বাবার চাকরি সূত্রে নারায়ণগঞ্জ, রাজশাহীসহ বেশ কয়েকটি শহরে তার শৈশব কেটেছে। সংস্কৃতিমনা পরিবারে বেড়ে উঠেছেন তিনি। এ শিল্পীর বাবা লুতফর রহমান ও মা মৌলুদা খাতুন গানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।


পাঁচ বোনের মধ্যে ফরিদা ইয়াসমিন, ফওজিয়া খান, নীলুফার ইয়াসমিনও গানের জগতের মানুষ।


কয়েক বছর আগে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাবিনা ইয়াসমিন বলেছিলেন, “ছোট থেকেই গান গাইছি। বাড়িতে একটা সংগীতের পরিবেশ দেখেছি। মা গান গাইছেন, বাবাও খুব ভালো গাইতেন। বোনেরা তো গাইছেন। আম্মার গানের গলা অসম্ভব সুন্দর ছিলো এবং তিনি গাইতেনও খুব সুন্দর। এতো সুন্দর হারমোনিয়াম বাজাতেন, আমি অবাক হয়ে দেখতাম এবং ‍শুনতাম।


আমার বড় বোন ফরিদা ইয়াসমীন, ফৌজিয়া খান উচ্চাঙ্গ শিখতেন ওস্তাদ দূর্গাপ্রসাদ রায়ের কাছে। আমরা তখন বাবার চাকরির সুবাদে নারায়ণগঞ্জ থাকতাম। আমি আর নীলুফার মাঝেমাঝে বসতাম তাদের পাশে। দেখতাম কী শিখছেন।“


তার শিল্পী হয়ে উঠার পেছনে মায়ের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি জানিয়ে এ শিল্পী বলেন, “গানের ব্যাপারটা আমার ভেতরে ছিলই। আমার মা ও নানা একসঙ্গে গান শিখতেন মুর্শিদাবাদে, ওস্তাদ কাদের বক্সের কাছে। তিনি সে সময়ের নামকরা একজন সংগীতজ্ঞ ও ওস্তাদ ছিলেন। সেই সময় মুসলিম নারীদের জন্য গান-বাজনা চর্চা করা সহজ ছিলো না। পরে অল্প বয়সেই বিয়ে হয়ে যাওয়ায় সংসারে ঢুকে গান-বাজনা কিছুই হলো না আম্মার।


“আমার মায়ের মনে জিদ ছিল এজন্য, আমাদের অর্থ্যাৎ তার সন্তানদের গান শেখানোর বিষয়ে। আরেকটা ব্যাপার, আম্মা পড়াশোনাতেও অসম্ভব ভালো ছিলেন, সেটাও চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি তার পক্ষে। এজন্য আমাদের এ দুটি দিকেই সমান মনোযোগী করতে সচেষ্ট ছিলেন তিনি।”


মাত্র সাত বছর বয়সে প্রথমবার স্টেজে গান করেছেন সাবিনা; ১৯৬২ সালে এহতেশাম পরিচালিত ‘নতুন সুর’ সিনেমাতে শিশুশিল্পী হিসেবে প্রথম গান করেন তিনি। ১৯৬৭ সালে প্রথম প্লেব্যাক করেন আমজাদ হোসেন ও নুরুল হক বাচ্চু পরিচালিত ‘আগুন নিয়ে খেলা’ সিনেমায়।


এরপর আর ডি বর্মণ, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, সত্য সাহা, সুবল দাস, আলম খান, বাপ্পি লাহিড়ী, আলী হোসেন, খন্দকার নুরুল আলম, আলাউদ্দিন আলী, আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের মতো সুরকারদের সুরে অসংখ্য চলচ্চিত্রের গান কণ্ঠে তুলেছেন তিনি।


সহশিল্পী হিসেবে কুমার শানু, আশা ভোঁসলে, শ্যামল মিত্র, মানবেন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের মতো শিল্পীকে পেয়েছেন তিনি।


শিক্ষাজীবনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজবিজ্ঞানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন সাবিনা ইয়াসমিন।


সংগীতে অবদানের জন্য ১৯৮৪ সালে একুশে পদক, ১৯৯৬ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার ও ১৪ বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন সাবিনা ইয়াসমিন।