কওমি ও আলিয়া শিক্ষার্থীদের জন্য এসএসসি-এইচএসসির নতুন সুযোগ, বাউবির ‘নিশ-৩’
শিক্ষা ডেস্ক ||
কওমি ও আলিয়া ধারার শিক্ষার্থীদের মূলধারার শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত করার লক্ষ্যে এসএসসি ও এইচএসসি পর্যায়ে দুটি বিশেষ প্রোগ্রাম চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (বাউবি)। ‘নিশ-৩’ নামে প্রস্তাবিত এসব প্রোগ্রামের মাধ্যমে কওমি ধারার আগ্রহী শিক্ষার্থী এবং আলিয়া ধারার ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য বাউবির মাধ্যমে এসএসসি ও এইচএসসি পর্যায়ের শিক্ষার সুযোগ তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছে।
এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে ১ সেপ্টেম্বর ঢাকার বাউবি আঞ্চলিক কেন্দ্রে এসএসসি (নিশ-৩) ও এইচএসসি (নিশ-৩) প্রোগ্রামের সিলেবাস ও রেগুলেশন প্রণয়ন নিয়ে দুই দিনব্যাপী কর্মশালা শুরু হয়। বাউবির ওপেন স্কুলের আয়োজনে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় শিক্ষাবিদ, বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত নেওয়া হচ্ছে।
ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক ও কর্মমুখী শিক্ষা
কর্মশালার উদ্বোধন করেন বাউবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান। তিনি বলেন, প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার বাইরে থাকা জনগোষ্ঠীর জন্য দ্বিতীয়বার শিক্ষার সুযোগ তৈরি করা বাউবির অন্যতম লক্ষ্য।
উপাচার্যের বক্তব্য অনুযায়ী, কওমি ধারার শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় শিক্ষার স্বকীয়তা বজায় রেখেই আধুনিক, কর্মমুখী ও জাতীয় মূলধারার শিক্ষার সঙ্গে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে এ উদ্যোগে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, আর্থ-সামাজিক জ্ঞান এবং পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এখনো চূড়ান্ত হয়নি সিলেবাস ও রেগুলেশন
বাউবি জানিয়েছে, ‘নিশ-৩’ প্রোগ্রামের সিলেবাস ও রেগুলেশন এখনো চূড়ান্ত হয়নি। কর্মশালায় শিক্ষাবিদ, বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞ এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত নিয়ে এগুলোকে আরও যুগোপযোগী করার কাজ চলছে।
কর্মশালায় শিক্ষার্থীদের নৈতিক মূল্যবোধ, মানবিকতা, দেশপ্রেম ও মননশীলতা বিকাশের পাশাপাশি আত্মকর্মসংস্থান ও উপার্জনমুখী কর্মকাণ্ডের উপযোগী করে গড়ে তোলার বিষয়ও আলোচনায় এসেছে।
২০২৭ সালে চালুর লক্ষ্য
বাউবি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে ২০২৭ সাল থেকে প্রোগ্রামটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে। তবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে সময়সূচি নিয়ে কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে—কিছু প্রতিবেদনে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের কথা বলা হয়েছে, আবার বাউবির সাম্প্রতিক এক সরকারি তথ্যসূত্রে জানুয়ারি ২০২৭ থেকে একাডেমিক কার্যক্রম শুরুর বিষয়ে মতৈক্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে নির্দিষ্ট ভর্তি সময়সূচি ও কার্যক্রম শুরুর তারিখ চূড়ান্তভাবে বাউবির পরবর্তী বিজ্ঞপ্তির ওপর নির্ভর করবে।
উচ্চশিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নের পথ সম্প্রসারণের প্রত্যাশা
বাউবির ভাষ্য অনুযায়ী, ‘নিশ-৩’ উদ্যোগ সফল হলে ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে সংযোগ এবং ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষার সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হতে পারে। একই সঙ্গে কর্মমুখী শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতেও এ প্রোগ্রাম ভূমিকা রাখতে পারে।
বাউবি বাংলাদেশের উন্মুক্ত ও দূরশিক্ষা ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান সরকারি প্রতিষ্ঠান। বিশ্ববিদ্যালয়টির তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি ১৯৯২ সাল থেকে নমনীয় ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে কাজ করছে। বর্তমানে বাউবির ১২টি আঞ্চলিক কেন্দ্র, ৬৩টি উপ-আঞ্চলিক কেন্দ্র ও ১,৪৫২টি স্টাডি সেন্টার রয়েছে।
কওমি ও আলিয়া ধারার শিক্ষার্থীদের জন্য প্রস্তাবিত ‘নিশ-৩’ প্রোগ্রাম সেই উন্মুক্ত শিক্ষার সুযোগকে আরও বিস্তৃত করার একটি নতুন পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে ভর্তি যোগ্যতা, আসনসংখ্যা, পাঠ্যক্রম, পরীক্ষাপদ্ধতি ও আবেদন প্রক্রিয়ার বিস্তারিত তথ্য এখনো চূড়ান্তভাবে প্রকাশ করা হয়নি।