ইরানে বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি হলে ‘খুবই কঠোর পদক্ষেপ’ নেবে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প
ইরানে চলমান বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি কার্যকর করা হলে যুক্তরাষ্ট্র ‘খুবই কঠোর পদক্ষেপ’ নেবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার এ হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
ট্রাম্প বলেন, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক হত্যাকাণ্ড ও মৃত্যুদণ্ডের খবর উদ্বেগজনক। সিবিএস নিউজকে তিনি জানান, ইরান যদি ফাঁসি শুরু করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র এর জবাব দেবে। এর আগে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিক্ষোভকারীদের ‘চালিয়ে যেতে’ আহ্বান জানিয়ে বলেছিলেন, ‘সাহায্য আসছে।’
তবে তেহরান ট্রাম্পের বক্তব্যকে প্রত্যাখ্যান করেছে। জাতিসংঘে ইরানের মিশন এক বিবৃতিতে জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের এসব মন্তব্য সামরিক হস্তক্ষেপের অজুহাত তৈরির অংশ। তাদের অভিযোগ, ইরান বিষয়ে ওয়াশিংটনের নীতি সরকার পরিবর্তনের লক্ষ্যে নিষেধাজ্ঞা, হুমকি ও অস্থিরতা সৃষ্টির ওপর নির্ভরশীল।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, সাম্প্রতিক দমন-পীড়নে নিহতের সংখ্যা ভয়াবহ মাত্রায় পৌঁছাতে পারে। নরওয়েভিত্তিক সংস্থা ইরান হিউম্যান রাইটস (আইএইচআর) জানিয়েছে, বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত অন্তত ৭৩৪ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে নয়জন শিশু। প্রকৃত সংখ্যা হাজার ছাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিক্ষোভে আটক কয়েকজনের বিরুদ্ধে ‘মোহারেবেহ’ (ঈশ্বরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার) অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডের মামলা করা হবে। এরই মধ্যে কারাজ শহরের এক বিক্ষোভকারী এরফান সোলতানির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে পাঁচ দিনের বেশি সময় ধরে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের মাধ্যমে পরিস্থিতির প্রকৃত চিত্র আড়াল করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে তেহরানের কাহরিজাক মর্গে সারিবদ্ধ মরদেহ দেখা গেছে, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরছে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রতিক্রিয়া জোরালো হচ্ছে। ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যসহ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ ইরানি রাষ্ট্রদূতদের তলব করেছে। ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান উরসুলা ফন ডার লেয়েন ইরানে ক্রমবর্ধমান প্রাণহানিকে ‘ভয়াবহ’ আখ্যা দিয়ে আরও নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই বিক্ষোভ ইসলামী প্রজাতন্ত্রের জন্য সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। তবে বিপ্লবী গার্ডসহ শক্তিশালী দমনযন্ত্র থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে সরকারের পতন হবে কি না, সে বিষয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।