এশিয়া কাপের সুপার ফোরে বাংলাদেশ
সমীকরণ এবং ভাগ্য, দুটোই ছিল শ্রীলঙ্কার হাতে। আফগানিস্তান ও শ্রীলঙ্কার মধ্যকার ম্যাচে তাই শ্রীলঙ্কার দিকেই তাকিয়ে ছিল টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া হয়ে আরব আমিরাতের প্রবাসী বাঙালিরা। নিরাশ করেনি দ্বীপরাষ্ট্রটি। আফগানিস্তানকে ৬ উইকেটে হারিয়ে বাংলাদেশকে সুপার ফোরে তুলে দিয়েছেন চারিথ আসালঙ্কারা।
আবুধাবির শেখ জায়েদ জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে মোহাম্মদ নবীর ঝড়ো ফিফটিতে (৬০*) ভর করে ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৬৯ রান জমা করে আফগানিস্তান। জবাবে ওপেনার কুসল মেন্ডিসের অপরাজিত ৭৪ রানে ভর করে ৮ বল হাতে রেখেই জয় তুলে নেয় শ্রীলঙ্কা।
১৭০ রানের লক্ষ্যে খেলতে নামার আগে সুপার ফোরে খেলতে শ্রীলঙ্কার সামনে সমীকরণ দাঁড়ায়, ১০১ রান করলেই সুপার ফোর নিশ্চিত।খানিকটা দেখেশুনে খেলে ১২.৪ ওভারে ওই লক্ষ্য স্পর্শ করে লঙ্কানরা। তখনও জয়ের জন্য লঙ্কানদের দরকার ছিল ৬৯ রান, হাতে ছিল ৪৪ বল। সেই সঙ্গে বাংলাদেশের ভাগ্যও ছিল তাদের হাতে।
৩ উইকেটে ১০১ রান করা শ্রীলঙ্কা ১১৯ রানের মাথায় হারিয়ে বসে চতুর্থ উইকেট। ফিরে যান ১২ বলে ১৭ রান করা অধিনায়ক চারিথ আসালাঙ্কা। তখন লঙ্কানদের জয়ের জন্য দরকার ৫১ আর হাতে ছিল ৩১ বল। বাকি পথটা কোনো বিপদ হতে দেননি দুই মেন্ডিস, কুসল ও কামিন্দু।দুজনের ৫ম উইকেট জুটিতে ২৩ বলে ৫২ রানে জয় নিশ্চিত হয় শ্রীলঙ্কার। সেই সঙ্গে বাংলাদেশের সুপার ফোর।
এর আগে, আগে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে পাওয়ার প্লেতে ৩ উইকেট হারিয়ে আফগানরা তোলে ৪৫ রান। স্কোরবোর্ডে ৭৯ রান জমা হতেই নেই ৬ ব্যাটার। একপ্রান্ত আগলে রেখেছিলেন অভিজ্ঞ মোহাম্মদ নবী। ৭ নম্বরে নামা এই ব্যাটার ধীরগতিতে এগিয়ে চড়াও হন শেষ ওভারে।
অনভিজ্ঞ দুনিথ ভেল্লালেগেকে পেয়ে শুরু করেন তাণ্ডব। ৫ ছক্কায় ওই ওভার থেকে তুলে নেন ৩২ রান। তাতে তার রান দাঁড়ায় ২২ বলে ৬০ আর আফগানিস্তানের ৭ উইকেটে ১৬৯। তাতে লড়াইয়ের পুঁজি পেয়ে সুপার ফোরের আশা টিকিয়ে রাখে আফগানিস্তান। তবে কুসল সেটা হতে দিলেন না।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
আফগানিস্তান : ২০ ওভারে ১৬৯/৮ (নবী ৬০, জাদরান ২৪, রশিদ ২৪, আতাল ১৮, গুরবাজ ১৪; তুষারা ৪/১৮, শানাকা ১/২৯, ভেল্লালাগে ১/৪৯, চামিরা ১/৫০)।
শ্রীলঙ্কা : ১৮.৪ ওভারে ১৭১/৪ (কুসল মেন্ডিস ৭৪*, কুশল পেরেরা ২৮, কামিন্দু মেন্ডিস ২৬*, আসালাঙ্কা ১৭; ওমরজাই ১/১০, নবী ১/২০, নুর ১/৩৭, মুজিব ১/৪২)।
ফল : শ্রীলঙ্কা ৬ উইকেটে জয়ী।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ : কুসল মেন্ডিস