জাকসু নির্বাচনে চলছে ভোটগ্রহণ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলছে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে। আজ মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া ভোটগ্রহণ বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে। দীর্ঘ ১২ বছর পর জাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ ও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মা“ভোটগ্রহণ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি। ভোটকেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত সংখ্যক শিক্ষক, কর্মচারী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। প্রতিটি বুথে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছ
এবারের নির্বাচনে মোট ৭৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে ১২টি প্যানেল ও বেশ কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন। সভাপতি, সহ-সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সহ-সম্পাদকসহ মোট ২৫টি পদে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
প্রধান দুই ছাত্র সংগঠন-ভিত্তিক প্যানেলের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি প্রতিদ্বন্দ্বিতা প্রত্যাশা করছেন শিক্ষার্থীরা। এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও ভিন্ন ভিন্ন ইস্যুতে শিক্ষার্থীদের ভোট প্রার্থনা করেছেন।
সকালে ভোট দিতে আসা শিক্ষার্থী শা“প্রথমবারের মতো জাকসু নির্বাচনে ভোট দিতে পেরে আমি সত্যিই আনন্দিত। আশা করি আমাদের প্রতিনিধি আমাদের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করবেন।”
অন্যদিকে কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের শিক্ষার্থী রাকিবুল হাসান জান“দীর্ঘদিন পর এমন একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সুযোগ পাচ্ছি। আমরা চাই, এই নির্বাচন শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কার্যকর হোক।”
ভোটগ্রহণকে ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। র্যাব, পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব নিরাপত্তা কর্মীরা সার্বক্ষণিক টহল দিচ্ছেন। ক্যাম্পাসে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা রোধে বিশেষ টিম কাজ করছে।
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভোটগ্রহণ শেষে আজ রাতেই ফলাফল ঘোষণা করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে প্রার্থীদের উপস্থিতিতে ভোট গণনা সম্পন্ন হবে।
জাকসু নির্বাচন নিয়ে শিক্ষার্থীদের দাবিদাওয়া দীর্ঘদিনের। সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১২ সালে। এরপর নানা কারণে নির্বাচন বন্ধ হয়ে যায়। শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিক আন্দোলন ও দাবি-দাওয়ার প্রেক্ষিতে অবশেষে এ বছর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ চলতে থাকায় শিক্ষার্থীরা আশাবাদী, এ নির্বাচন হবে জাবিপ্রবির ইতিহাসে গণতন্ত্র চর্চার এক উজ্জ্বল উদাহরণ। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন বলছে, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্পন্ন করতে তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
ারমিন আেহমুদ হ