নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির চেক জালিয়াতকারী মামুন গ্রেপ্তার
নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির ইনক এর চেক জালিয়াতকারী মামুনকে গ্রেপ্তার করেছে নিউ ইয়র্ক পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত মামুন বাংলাদেশ সোসাইটির ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে ১ লাখ ৬৫ হাজার ডলার জালিয়াতির চেষ্টাকারী। তার বিরুদ্ধে কুইন্স ক্রিমিনাল কোর্টে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার ডকেট নম্বর সিআর-০১৭২৫৭০-২৪ কিউএন। তার বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে চেক জালিয়াতি, চুরি এবং ব্যক্তিগত তথ্য চুরি। আগামী ৮ই মে তার মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ ধার্য করা হয়েছে। মামুন গ্রেপ্তার হওয়ায় তার সহযোগীরাও আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন।
গত বছর ১৯ সেপ্টেম্বর সোসাইটির চেক জালিয়াতি করে এস্টোরিয়াস্থ টিডি ব্যাংক থেকে অর্থ তোলার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু ব্যাংক কর্মকর্তা ও সোসাইটির নেতৃবৃন্দের দ্রুত হস্তক্ষেপে মামুন ১ লাখ ৬৫ হাজার ডলার উত্তোলন করতে ব্যর্থ হয়। চেক জালিয়াতির পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সোসাইটির কর্মকর্তারা মামলাও দায়ের করেন। সেই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে গত ৫ মাস ধরে গোয়েন্দা পুলিশ তদন্তের পর ব্যাংকের ভিডিও ফুটেজ থেকে মামুনকে শনাক্ত করা হয়। অবশেষে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় নিউ ইয়র্ক পুলিশ।
বাংলাদেশ সোসাইটির কোষাধ্যক্ষ নওয়াদ হোসেন সিদ্দিকী সাংবাদিকদের জানান, বাংলাদেশ সোসাইটির ফিউনারেল হোমের জন্য নির্ধারিত অ্যাকাউন্ট থেকে ১ লাখ ৬৫ হাজার ডলার আত্মসাথের করার চেষ্টা করেন মামুন। জালিয়াতকারী সোসাইটির রেগুলার অ্যাকাউন্টের মতো নকল চেক তৈরি করে, রাউটিং নম্বর দেয়, চেক নম্বর দেয় এবং জাল স্বাক্ষরও করে। সাধারণত এই পর্যন্ত হ্যাকিংয়ের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, তথ্য চুরি করে অন্যভাবে আত্মসাৎ করে, কিন্তু জালিয়াতকারী এতোই ধুরন্ধর যে অবিকল সব জাল করে নিজেই যায় ব্যাংকে। কয়েক ধাপে সে সফলও হয়। কিন্ত সোসাইটির দায়িত্বশীলদের তৎপরতায় বড় ধরনের বিপর্য়ের হাত থেকে রক্ষা পায় সোসাইটির ব্যাংক অ্যাকাউন্ট।
একজন বাংলাদেশি হয়ে মামুন, প্রবাসীদের অন্যতম বৃহৎ সংগঠনের অ্যাকাউন্ট হ্যাকসহ চেক জালিয়াতের ঘটনায় কমিউনিটিতে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশ কমিউনিটির সবাই মামুনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন ।