বিচার ন্যায়সংগত হয়নি: অ্যামনেস্টি
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে জুলাই আন্দোলনের মোকাবিলায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা নিয়ে রায় দিয়েছে ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল। কিন্তু মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল মনে করে, এই বিচার ন্যায্য ও ন্যায়সংগত হয়নি।
সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাগনেস ক্যালামার্ডের প্রতিক্রিয়া হলো, ''যাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এসেছে, তাদের অভিযোগ তদন্ত করে দেখা উচিত ছিল এবং ন্যায্য বিচারপ্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যাওয়া উচিত ছিল। যারা এই অপরাধের শিকার তাদের ন্যায় পাওয়া দরকার ছিল। মৃত্যুদণ্ড মানবাধিকার লংঘন করে। এটা অমানবিক শাস্তি, কোনো ন্যায় প্রক্রিয়ায় মৃত্যুদণ্ডের শাস্তি থাকা উচিত নয়।''
অ্যাগনেস বলেছেন, ''যে আদালতে এই বিচার হয়েছে, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল দীর্ঘদিন ধরে সেই কোর্টের বিরোধিতা করে আসছে। অভিযুক্তদের অনুপস্থিতিতে অভূতপূর্ব দ্রুততায় একটি জটিল মামলার রায় দেওয়া হয়েছে, তাতে তার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন থাকছে। যদিও শেখ হাসিনার পক্ষ সমর্থন করতে আদালতের ঠিক করে দেওয়া একজন আইনজীবী ছিলেন, কিন্তু তাকে যথেষ্ট সময় দেওয়া হয়নি।''
অ্যাগনেস জানিয়েছেন, ''এটা ন্যায়সংগত বিচার নয়। বাংলাদেশে এমন একটি বিচার ব্যবস্থা দরকার যা সম্পূর্ণভাবে ন্যায্য, পুরোপুরি নিরপেক্ষ, যা সবরকম সন্দেহের উপরে থাকবে এবং মৃত্যুদণ্ড দিয়ে মানবাধিকার ভঙ্গ করবে না।''
ডিডাব্লিউর কনটেন্ট পার্টনার প্রথম আলো জানাচ্ছে, ইন্টারন্যা্শনাল ক্রাইসিস গ্রুপ(আইসিজি)-র বাংলাদেশবিষয়ক জ্যেষ্ঠ কনসালট্যান্ট থমাস কিয়ান বিবৃতিতে বলেন, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য দোষী সাব্যস্ত করার রায়কে বাংলাদেশে ব্যাপকভাবে স্বাগত জানানো হবে। কারণ, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে বিক্ষোভকারীদের ওপর সংঘটিত নৃশংসতার জন্য তাঁর দায় নিয়ে সন্দেহের অবকাশ খুব কম।’
এই বিচারপ্রক্রিয়া সমালোচনার বাইরে নয় উল্লেখ করে আইসিজি বলেছে, ‘(আসামির) অনুপস্থিতিতে হওয়া বিচার প্রায়ই বিতর্কের সূত্রপাত করে। এ মামলার ক্ষেত্রে যে দ্রুততার সঙ্গে শুনানি হয়েছে, সেটা এবং বিবাদী পক্ষের স্পষ্টত সুযোগ-সুবিধার ঘাটতিও সুষ্ঠু বিচার নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে। এসব সমালোচনা বাংলাদেশের ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার দীর্ঘস্থায়ী চ্যালেঞ্জগুলোকে তুলে ধরছে। ২০২৪ সালের আগস্টে ক্ষমতায় আসার পর দেশটির অন্তর্বর্তী সরকার (এসব চ্যালেঞ্জ) সমাধান করতে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেয়নি। কিন্তু এসব সমালোচনা শেখ হাসিনার কর্মকাণ্ড, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বের কর্মকাণ্ড বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি অংশের কর্মকাণ্ডকে হালকাভাবে নেওয়ার জন্য ব্যবহার করা উচিত নয়।’