সাবের হোসেন চৌধুরীর বাসায় তিন রাষ্ট্রদূতের বৈঠক: রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম
ঢাকা, ৬ অক্টোবর ২০২৫:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেই সাবেক পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী এবং ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের অন্যতম কেন্দ্রীয় নেতা সাবের হোসেন চৌধুরীর সঙ্গে নর্ডিক তিন দেশের রাষ্ট্রদূতদের গোপন বৈঠক রাজনৈতিক মহলে নতুন কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত নরওয়ের রাষ্হ্যাকন আরাল্ড গুলব্রানস, সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস লিনাস রাগনার উইকস এবং ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক্স মলার।
এই তিন দেশ স্ক্যান্ডিনেভিয়ান অঞ্চলের—যাদের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তন, ও মানবাধিকার সহযোগিতার সম্পর্ক রয়েছে।
সূত্র জানায়, সোমবার (৬ অক্টোবর) দুপুর ২টা ৫৫ মিনিটে রাজগুলশান-২-এর নিজ বাসভবনে সাবের হোসেন চৌধুরীর সঙ্গে এই বৈঠক শুরু হয় এবং চলে প্রায় দুই ঘণ্টা, বিকেল ৫টা পর্যন্ত।
রাষ্ট্রদূতরফ্ল্যাগ ছাড়া একই গাড়ি প্রবেশ করেন এবং বৈঠক শেষে বিকল্প রাস্তা ব্যবহার করেস্থান ত্যাগ করেন—যা বৈঠকের গোপনীয়তা আরও স্পষ্ট করে।
বিশ্বস্ত সূত্রের দাবি,
রাষ্ট্রদূতরা আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিকল্পনা, বিশেষ করে নিষিদ্ধ থাকা দলেনির্বাচনে অংশগ্রহণের সম্ভাবনা নিয়ে জানতে চান।
এছাড়া কীভাবে দলটিরাজনৈতিক কার্যক্রমে ফিরে আসতে পার, সে বিষয়েও আলোচনা হয়।
কূটনীতিকদের মতে, যদি আওয়ামী লীগের “স্বচ্ছ ভাবমূর্তির” ব্যক্তিরা অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন, তাহলে তা বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রক্রিযলেভেল প্লেয়িং ফিল্তৈরিতে সহায়ক হবে।
এর আগে গত১১ মে একইভাবে সাবের হোসেন চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠক করেন যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসন।
তখনও আলোচনার মূল বিষয় ছিল আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পুনরায় সংগঠিত হওয়া ও অংশগ্রহণের কৌশল।
যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস জানিয়েছিল, তারা “সব পক্ষের সঙ্গে সংলাপ” বজায় রাখে—যা তাদের নিয়মিত কূটনৈতিক প্রথার অংশ।
২০২৪আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতনের পর আওয়ামী লীগ কার্যত নিষিদ্ধ অবস্থায় আছে।
দলটির হাজারো নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার বা আত্মগোপনে, অনেকেই বিদেশে আশ্রয় নিয়েছেন।
অন্তর্বর্তী সরকারে ড. মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বে দেশ চলছে, কিন্তু রাজনৈতিক উত্তেজনা এখনও তীব্র।
সাবের হোসেন চৌধুরী নিজেও ২০২৪ সালের অক্টোবরে গুলশান থেকে গ্রেপ্তার হন; পরে জামিনে মুক্তি পান।
নর্ডিক দেশগুলোর সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের কাজের সম্পর্কই এই বৈঠকের প্রেক্ষাপটে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে,
এই বৈঠক শুধু একটি কূটনৈতিক সাক্ষাৎ নয়—বরং এটি বাংলাদেশের রাজনীনতুন সমীকরণের ইঙ্গিত হতে পারে।
নর্ডিক রাষ্ট্রগুলো জলবায়ু, মানবাধিকার ও গণতন্ত্রে যেভাবে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের সহযোগী, তাতে তাদের এই “গোপন” আগ্রহ ইঙ্গিত দিচ্ছে—
বাংলাদেশেরাজনৈতিক পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া আন্তর্জাতিকভাবে ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
বৈঠকের বিষয়বস্তু নিয়ে কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ খোলেননি।
তবে রাজনৈতিক মহল বলছে, “এটি হয়তো নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ পুনরাবির্ভপ্রথম কূটনৈতিক সিগন্যাল।”
📰 প্রতিবেদন: নিউইয়র্ক ভয়েস বাংলা বিশেষ ডেস্ক
�তারিখ: ৭ অক্টোবর ২০২৫
📍 ঢাকা / গুলশান / আন্তর্জাতিক ডেস্ক� াবের তিতে সালের ড়ায় ে র তো ধানীর েনট্রদূত