পেনসিলভানিয়া | ১৩ আগস্ট, ২০২৬ | ২৯ শ্রাবণ, ১৪৩৩
সর্বশেষ খবর
মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটি থেকে পদত্যাগ করলেন মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: ইসিতে ৩টি মনোনয়নপত্র জমা লোডশেডিং ব্যবস্থাপনা ও অপেক্ষা ছাড়া আপাতত কোনো উপায় নেই: বিদ্যুৎমন্ত্রী ‘র’ প্রধানের বাংলাদেশ সফর নিয়ে জল্পনার কিছু নেই: ডা. জাহেদ ঢাকা–দিল্লি সম্পর্কে নতুন বার্তা: প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক সৌদি আরবে মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ড: রিয়াদে প্রাণ গেল ১৬ বাংলাদেশি শ্রমিকের নিউইয়র্কে করোনা ত্রাণ তহবিল জালিয়াতি: ৯ জনের দোষ স্বীকার, ফেরত দিতে হবে ১০ লাখ ডলারের বেশি কর-সংক্রান্ত জটিলতা ও আর্থিক তথ্য গোপনের প্রশ্নের মধ্যে পদত্যাগ করলেন আপার ডার্বি ট্রেজারার ড্যানি সাইদুজ্জামান অতিরঞ্জিত প্রশংসা বা অযৌক্তিক সংবাদ 🇧🇩 জুলাই বর্ষা বিপ্লবের দুই বছর 🇧🇩 বৃহত্তর কুমিল্লা সোসাইটি অব পেনসিলভেনিয়ার সাধারণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত APWU Local Area #89 নির্বাচন ২০২৬: নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত, ট্রাস্টি পদে বিজয়ী এমডি মাহিদুন্নবী রুকু ফিলাডেলফিয়া ও আশপাশের এলাকায় ঈদুল আযহার জামাতের সময়সূচি প্রকাশ Philadelphia-এ ডেমোক্র্যাটিক কমিটি পার্সন নির্বাচিত হওয়ায় মোহাম্মদ জাহেদ চৌধুরীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ঐতিহাসিক জয়: টানা ৫ম বারের মতো জর্জিয়া স্টেট সিনেটর নির্বাচিত হলেন শেখ রহমান
হোম অর্থনীতি ২০২৫ সালের শেষ দিকে স্বর্ণের আউন্সপ্রতি দাম পৌঁছবে ৩৮০০ ডলারে

২০২৫ সালের শেষ দিকে স্বর্ণের আউন্সপ্রতি দাম পৌঁছবে ৩৮০০ ডলারে

নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ০৪:১০ এএম, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ 238
২০২৫ সালের শেষ দিকে স্বর্ণের আউন্সপ্রতি দাম পৌঁছবে ৩৮০০ ডলারে

চলতি বছরের শেষ নাগাদ স্বর্ণের আউন্সপ্রতি মূল্য ৩ হাজার ৮০০ ডলারে পৌঁছতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বহুজাতিক বিনিয়োগ ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান ইউবিএস। ২০২৬ সালের মাঝামাঝি নাগাদ তা পৌঁছতে পারে ৩ হাজার ৯০০ ডলারে। ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) শিথিল মুদ্রানীতি ও বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক ঝুঁকির কারণে ডলারের বিনিময় হার হ্রাস পণ্যটির বাজার ঊর্ধ্বমুখী করে রাখবে বলে মনে করছে প্রতিষ্ঠানটি। খবর মার্কেট ওয়াচ।


এছাড়া এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ডগুলোর (ইটিএফ) স্বর্ণমজুদ বৃদ্ধিও পণ্যটির দামের ঊর্ধ্বগতিতে ভূমিকা রাখতে যাচ্ছে বলে মনে করছে ইউবিএস। সুইস ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে, ২০২৫ সালে বিশ্বব্যাপী ইটিএফের আওতায় মজুদকৃত স্বর্ণের পরিমাণ ৩ হাজার ৯০০ টন ছাড়াবে। এখন পর্যন্ত ইটিএফের আওতায় স্বর্ণের মজুদ রেকর্ড সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল ২০২০ সালের অক্টোবরে। সেবার এর পরিমাণ দাঁড়ায় ৩ হাজার ৯১৫ টনে।



বর্তমানে স্বর্ণের দাম এত দ্রুতগতিতে বাড়ছে যে চলতি ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ স্বর্ণের সম্ভাব্য মূল্য নিয়ে পূর্বাভাস এ নিয়ে পঞ্চমবারের মতো সংশোধন করে বাড়িয়েছে ইউবিএস। গতকাল প্রকাশিত সংশোধিত পূর্বাভাসে বছর শেষে পণ্যটির সম্ভাব্য দাম নিয়ে প্রাক্কলন আগেরটির তুলনায় বাড়ানো হয়েছে আউন্সে ৩০০ ডলার। ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময়ের জন্য দেয়া পূর্বাভাসে সম্ভাব্য মূল্য নিয়ে প্রাক্কলন বাড়ানো হয়েছে ২০০ ডলার।

এর আগে বৃহস্পতিবার ইউবিএসের পক্ষ থেকে গ্রাহকদের জন্য প্রকাশিত এক নোটে বলা হয়, এপ্রিলের মাঝামাঝি সময় থেকে স্বর্ণের দাম যে সীমার মধ্যে ওঠানামা করছিল সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোয় তা ভেঙে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে বেতন-মজুরির পরিসংখ্যানের অপ্রত্যাশিত নিম্নমুখিতা বাজারে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) সুদহার কমিয়ে আনা নিয়ে প্রত্যাশাকে ক্রমেই বাড়িয়ে তুলেছে, যা মূল্যবান ধাতুটির দামকে ঊর্ধ্বমুখী করে তুলেছে।

ভূরাজনৈতিক উত্তেজনাসৃষ্ট শঙ্কা ও মার্কিন সরকারের সঙ্গে ফেডারেল রিজার্ভের নীতিগত বিরোধ স্বর্ণের বাজারদরে বড় প্রভাবক হয়ে উঠেছে বলে মনে করছে ইউবিএস। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে বিশ্বব্যাপী চলতি বছর রিজার্ভ বৈচিত্র্যায়ণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর মোট স্বর্ণ ক্রয়ের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ৯০০-৯৫০ টনে। গত বছরও বিশ্বব্যাপী কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর স্বর্ণ ক্রয় রেকর্ড সর্বোচ্চের কাছাকাছি পৌঁছেছিল। ২০২৪ সালে বিশ্বব্যাপী কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর মোট স্বর্ণক্রয়ের পরিমাণ ছিল এক হাজার টন।

বর্তমান পরিস্থিতিতে স্বর্ণের বিনিয়োগ আকর্ষণ আরো বাড়ছে বলে মনে করছে ইউবিএস। সুইস ব্যাংকিং কোম্পানিটির গতকাল প্রকাশিত আরেক নোটে বলা হয়, ‘আমাদের মতে স্বর্ণের বিনিয়োগ এখন বেশ আকর্ষণীয় অবস্থায়ই রয়েছে। আমাদের বৈশ্বিক সম্পদ বণ্টনে মূল্যবান ধাতুটি নিয়ে লং পজিশন (ভবিষ্যতে আরো দরবৃদ্ধির প্রত্যাশায় কোনো পণ্য, আর্থিক সম্পদ বা মুদ্রা ক্রয় বাড়িয়ে তোলা) বজায় রাখছি। উপরন্তু, আমাদের বিশ্লেষকরাও বলছেন, আমাদের মোট সম্পদ বণ্টনে স্বর্ণের অংশ এক অংকের মধ্যম পর্যায়ের ডিজিটে বহাল রাখাটাই তুলনামূলক নিরাপদ। মূল্যস্ফীতি সংশ্লিষ্ট কিছু সূচক অপ্রত্যাশিতভাবে ঊর্ধ্বমুখী হয়ে ওঠার কারণে ফেড যদি ভবিষ্যতে সুদহার বৃদ্ধির পদক্ষেপ নেয়, তাহলে তা স্বর্ণের বিনিয়োগে কিছুটা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।’

স্বর্ণের সম্ভাব্য বাজারদর নিয়ে পূর্বাভাস সংশোধন বাড়িয়েছে জার্মানিভিত্তিক প্রতিষ্ঠান কমার্জব্যাংকও। সংস্থাটি মনে করছে, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৩ হাজার ৮০০ ডলার ছাড়াবে। আগের পূর্বাভাসে তা ৩ হাজার ৬০০ ডলার হওয়ার কথা বলেছিল ব্যাংকটি।

কমার্জব্যাংক মনে করছে, আগামী বছরের শেষ নাগাদ পর্যন্ত টানা সুদহার কমাতে বাধ্য হবে ফেড। সব মিলিয়ে এ সময়ের মধ্যে মার্কিন আর্থিক ও ব্যাংক খাতের নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানটির সুদহার হ্রাসের মোট পরিমাণ হতে পারে ২০০ বেসিস পয়েন্ট। এর আগের এক পূর্বাভাসে তা ১৫০ বেসিস পয়েন্ট হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে হিসাব করেছিল প্রতিষ্ঠান।

প্রসঙ্গত, বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার সময় আপৎকালীন বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের ওপর নির্ভরতা বাড়ে বিনিয়োগকারীদের। পাশাপাশি নিম্ন সুদহারের সময়ও মূল্যবান ধাতুটির বিনিয়োগ চাহিদা বেড়ে যায়। পণ্যটির বাজারে সাপ্তাহিক লেনদেন শেষ হয়েছে গতকাল। এর মধ্যে গত মঙ্গলবার রেকর্ড ৩ হাজার ৬৭৩ ডলার ৯৫ সেন্টে উঠে যায় পণ্যটির দাম। চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত মূল্যবান ধাতুটির দাম বেড়েছে ৩৯ শতাংশের বেশি।