“৯০ দশকের অসাধারন কিছু স্মৃতি নিয়ে আমার লেখা”
তানজিমা আক্তার
ঠিক কোন স্মৃতি দিয়ে শুরু করব বুঝতে পারছি না তবে শুরুটা হওয়া জরুরি। শুরুটা কি এমন হতে পারে ধরুন আমাদের ৯০ দশকের শৈশবের কিছু স্মৃতি এবং তার প্রতি ভালোবাসা।তবে তাই হোক।
আমি শুরু করছি আমার কিছু শৈশবের অভিজ্ঞতা নিয়ে যা আশা করছি অনেকের শৈশবের সাথে মিলে যাবে।
আমাদের বাড়িটা ছিল ঐ সময়ের ঢাকার মধ্যে বিশাল বড় একতালা বাড়ি।বাড়িটির উপরে ছাদের পাশে ছাদ ঘর ছিল সেখানে সন্ধ্যায় জমে উঠত আড্ডা।আর নিচতালায় অনেকগুলো ঘর একসাথে ছিল যেখানে আমরা জেঠা জেঠী ভাই বোনরা একসাথে সবাই ছিলাম।
আমার বড় জ্যাঠামনির ঘরে একটাই টিভি ছিল সেটাও আবার “সাদাকালো”।যার মধ্যে একটাই চ্যানেল ছিল “বিটিভি”।আমাদের বাসায় আমার বলে কিছু ছিল না সব সময় সবাই বলতাম “আমাদের“এই ছোট্ট শব্দটির মধ্যে অনেক আবেগ লুকিয়ে আছে যা আজ আর খুজেঁ পাওয়া যায় না।
সেই “সাদাকালো” টিভিতে শুক্রবার হলেই আমরা ভাই বোনেরা অনেক ধরনের অনুষ্ঠান দেখার জন্য অপেক্ষা করতাম এবং একসাথে সবাই দেখতাম এ যেন মিলন মেলা। শুক্রবার হলে আমাদের বাসার সবাই থাকতো সকাল থেকে পুরো বাসা সবার কথায় গুমগুম করত এবং আমরা ছোট ছোট ভাই বোনেরা খুবই খুশি থাকতাম কারণ আমাদের আব্বু,বড় জ্যাঠা,ছোট জ্যাঠা,বড় ভাই সবাই বাসায় থাকতো।
আমার বড় জ্যাঠা সব সময় অফিস থেকে বাড়ি ফেরার সময় পকেট ভরে “মিমি” নিয়ে আসতেন আমাদের ভাই বোনদের জন্য।সময়ের সাথে এখন মিমির প্যাকেট পরিবর্তন হয়ে গেছে কিন্তু স্মৃতি রয়ে গেছে।বড় জ্যাঠা ঘরে আসলেই আমাদের সাহস বেরে যেত কারন মা পড়াতে বসিয়ে আর কিছু বলতে পারবে না।আমাদের বড়জ্যাঠা আমাদের কাধেঁ করে রাখতেন।আমাদের একটু শব্দ শুনলেই জ্যাঠা বলে উঠতেন “কি হইছেরে আমার জ্যাঠার” আর আমরাও আল্লাদে বড় করে কান্না করে ফেলতাম।সেই স্মৃতিগুলো মনে হলে আজ ও চোখে পানি চলে আসে।
অনেক স্মৃতি ভরা আমার সেই শৈশব যা ভুলার নয়।আমি আরো ছোট ছোট ৯০ দশকের স্মৃতি সবাইকে মনে করিয়ে দিতে চাই।আমার এই চেষ্টা।