পেনসিলভানিয়া, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬ | ২ মাঘ, ১৪৩২

সর্বশেষ:
ইসলামী আন্দোলনের ‘আসন’ ফাঁকা রেখেই জামায়াতসহ ১০ দলের নির্বাচনী ঐক্যের ঘোষণা বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের জন্য অভিবাসী ভিসা স্থগিত করল যুক্তরাষ্ট্র আজ ঢাকায় আসছে ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফ সংক্ষিপ্ত আয়োজন, সাধারণ দর্শকদের জন্য সীমিত সুযোগ ইরানে বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি হলে ‘খুবই কঠোর পদক্ষেপ’ নেবে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প বাংলাদেশের তিন দিক ঘিরে পাঁচটি বিমানঘাঁটি সচল করছে ভারত আকাশে সর্বোচ্চ সংখ্যক জাতীয় পতাকা উড়িয়ে গিনেস বিশ্বরেকর্ডে বাংলাদেশ বাংলাদেশের জন্য তিনটি সুখবর দিলেন ইইউ রাষ্ট্রদূত দণ্ডিত ২৫ বাংলাদেশিকে ক্ষমা করেছেন আমিরাতের প্রেসিডেন্ট বিক্ষোভকারীদের ‘আল্লাহর শত্রু’ ঘোষণা ইরানের, মৃত্যুদণ্ডের হুঁশিয়ারি ঋণখেলাপি হয়েও টিকেছেন ৩১ প্রার্থী, অর্ধেক বিএনপির দেশের সকল হাসপাতালের জন্য জরুরি নির্দেশনা সঙ্কটাপন্ন ওবায়দুল কাদের পররাষ্ট্র উপ‌দেষ্টার সঙ্গে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ফোনালাপ, হলো যে কথা মনোনয়ন বাতিলের পর যা বললেন ডা. তাসনিম জারা কল্যাণ রাষ্ট্র গড়তে বিভক্তি ভুলে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে: জামায়াত আমির

মোনার্ক প্রজাপতির চার প্রজন্মের অভিবাসন যাত্রা

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৬:৩২ পিএম, ১৬ মে, ২০২৪

মোয়াজ্জমা হোসেন

প্রকৃতির বিস্ময় মোনার্ক (বা রাজা) প্রজাপতিদের আশ্চর্য চার প্রজন্মের অভিবাসন যাত্রা | ছেলেবেলায় নজরুলের "প্রজাপতি প্রজাপতি কোথায় পেলে ভাই এমন রঙ্গীন পাখা টুকটুকে লাল নীল ঝিলিমিলি আঁকাবাঁকা" আবৃত্তি করে বড় হয়েছি | এখনকার শিশুদের অঙ্কনের হাতে খড়ি হয় প্রজাপতির লাল নীল আঁকাবাঁকা পাখা দিয়ে | রবীন্দ্রনাথ প্রজাপতির নৃত্যের সাথে গ্রীষ্মের সম্পর্ক গড়েছেন "আলোর মাঝে উঠলো জেগে হাজার প্রজাপতি" | শুধু বাংলাদেশে নয় , আমাদের সেকেন্ড হোম যুক্তরাষ্ট্র/কানাডায় প্রজাপতির ডানায় ঋতু বদলের নানা গল্প রয়েছে। এখানে মোনার্ক প্রজাপতি মরসুমের বার্তাবাহী পতঙ্গ। উত্তর আমেরিকার মানুষ মনে করেন তাদের কমলা-কালো রংবাহারি ডানায় গ্রীষ্ম মুছে দিয়ে মোনার্ক প্রজাপতিরা উড়ে যায় ক্যালিফোর্নিয়া সমুদ্র উপকূল হয়ে মেক্সিকো, কিউবার দিকে। বনে-বাগানে মোনার্ক প্রজাপতি হারিয়ে যেতে শুরু করলেই শীতের বার্তা পেয়ে যান মানুষ। অন্টারিও প্রদেশের রূপকথার গল্পে রয়েছে, ‘অ্যাবসেন্স অফ মোনার্ক শোজ দ্য প্রেসেন্স অফ উইন্টার। ১৯৩৫ সালের আগে কানাডার মানুষ জানতেননা গ্রীষ্মের আনন্দদায়ক প্রজাপতিগুলো শরদে (Fall) কোথায় হারিয়ে যায়, আবার কিভাবেই বা বসন্তে (spring) ফিরে আসে ? 

আলো বা উষ্ণতার খোঁজে কমলা ও কালো রঙ্গিন পাখা বিশিষ্ট খুব সুন্দর ঋতু বদলের মোনার্কদের অভিবাসন শুরু হয় প্রতিবছরের অক্টোবরে উত্তর আমেরিকার (কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের) কিছু এলাকা থেকে | সেই আলোর কাফেলার কিছু প্রজাপতির আমাদের ফিলাডেলফিয়া উপর দিয়ে দক্ষিনের স্টেট গুলি পেড়িয়ে মধ্য মেক্সিকোর অরণ্য পর্যন্ত, যেখানে আবহাওয়া উষ্ণ, প্রায় তিন হাজার মাইল চিত্তাকর্ষক ভ্রমণ । আবার গ্রীষ্মকালে মেক্সিকো থেকে উল্টো পথে ফিরে আসে |

মোনার্ক প্রজাপতিরা প্রতি বছর অভিবাসনের সময় সাধারণত আগেরবার যে গাছগুলোতে আশ্রয় নিয়েছিল, সেগুলোতেই আবার ফিরে আসে। এক হিসাবে এটি ভারি অদ্ভুত এক কাণ্ড, কারণ আগের বছরের প্রজাপতিগুলো আর পরের বছরেরগুলো এক নয়। কয়েকটি প্রজন্মের পর আবার একই জায়গায় ওই প্রজাপতিরা ফিরে আসে, এ নিয়ে বিস্তর গবেষণাও হয়েছে। 

সেই যাই হোক, প্রায় তিন মাস পর তিন হাজারেরও অধিক মাইল পাড়ি দিয়ে অবশেষে তাদের গন্তব্য মেক্সিকোতে পৌঁছে মেক্সিকোর পর্বতমালার পাইন জাতীয় “ওয়ামেল” গাছে এসে আশ্রয় নেয়। তবে একা নয়, উত্তর আমেরিকা থেকে আগত আরও মিলিয়ন মিলিয়ন । 

ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝিতে বসন্ত ঋতু যখন তার আগমনী বার্তা নিয়ে আসে তখন নতুন প্রজন্ম কী করে পৃথিবীতে আসবে সে চিন্তায় অস্থির হয়ে যায়। কারণ তাদের জীবন প্রদীপ নিভে যাওয়ার সময় চলে আসছে। ডিম পাড়ার জন্য তারা এবার বিপরীত দিকে অর্থাৎ উত্তরের দিকে রওয়ানা দেয়। আমেরিকার টেক্সাসে এসে তারা সদ্য অঙ্কুরিত “মিল্কউইড” গাছে ডিম পারে আর এই “মিল্কউইড” গাছই নতুন প্রজন্মের একমাত্র খাবার। নতুন প্রজন্ম পৃথিবীর আলো দেখার অনেক আগেই মা প্রজাপতি মারা যায়। 


নতুন পাখার এই সদ্য নতুন প্রথম প্রজন্ম আরও উত্তরের দিকে যেতে থাকে এবং মে মাসে উত্তর আমেরিকার মিনিসোটায় এসে তারাও আরেক নতুন প্রজন্মের জন্ম দেয় ও মা প্রজাপতি মারা যায়। গ্রীষ্মের উত্তাপে আস্তে আস্তে তারা কানাডার দিকে যেতে থাকে এবং পরবর্তী তিন মাসে আরও দুইটি নতুন প্রজন্ম পৃথিবীর আলো দেখে। প্রতিবছর এরা চার প্রজন্ম পর্যন্ত বংশবিস্তার করে; প্রথম তিনটি প্রজন্ম কোকুন অবস্থার পর থেকে ছয় সপ্তাহ পর্যন্ত বাঁচলেও চতুর্থ প্রজন্ম ছয় থেকে আট মাস পর্যন্ত বেঁচে থাকে; এই প্রজন্মটি উত্তর আমেরিকার গাছে বনে জঙ্গলে উড়ে বেড়ায়; তারা মেক্সিকোর সেই মিলিয়ন মিলিয়ন প্রজাপতিদের চতুর্থ বংশধর যারা আবারও লম্বা ভ্রমণের প্রস্তুতি নেয়, অভিবাসন করে । অভিবাসন চক্রের এ বিষ্ময় চলছে অনাদি অনন্ত কাল থেকে। 

আট থেকে নয় মাসের চতুর্থ প্রজন্মের জীবন চক্র আর তিন হাজার মাইল পাড়ি দেয়া পথে মোনার্ক বহু জীব বৈচিত্র্যকে টিকিয়ে রাখছে। বিশাল অঞ্চলের অসংখ্য উদ্ভিদের পরাগায়ন আর খাদ্যশৃঙ্খল তাদের উপর নির্ভরশীল। কাজেই প্রকৃতির এই বিস্ময় মোনার্ক প্রজাপতিদের বাঁচিয়ে রাখতে আর তাদের আশ্চর্য যাত্রা অব্যাহত রাখতে সচেতন হতে হবে আমাদের সবাইকে।

মন্তব্যঃ

দুঃখিত, কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি!

নতুন মন্তব্য করুন:

ad
সকল খবর জানতে ক্লিক করুন
ad