কংগ্রেস নেতা ও ছেলেকে নৃশংসভাবে হত্যা, নদীয়ায় গ্রেপ্তার ৩
পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলায় বাড়ি ফেরার পথে কংগ্রেস নেতা আনিসুর রহমান ও তাঁর ২৪ বছর বয়সী ছেলে আবু সুফিয়ানকে গুলি করে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নৃশংস এই জোড়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ ইতোমধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় নদীয়ার বেথুয়াডহরি রেলক্রসিংয়ের কাছে এ হামলার ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, বাড়ি থেকে মাত্র প্রায় ২০০ মিটার দূরে তাঁদের গাড়ি আটকে হামলা চালানো হয়। প্রথমে গুলি ছোড়া এবং পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তাঁদের হত্যা করা হয় বলে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।
গাড়ি থামিয়ে হামলা
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, আনিসুর রহমান ও তাঁর ছেলে আবু সুফিয়ান গাড়িতে করে বাড়ির দিকে ফিরছিলেন। পথে তাঁদের গাড়ি আটকে হামলাকারীরা আক্রমণ চালায়।
হামলার ধরন ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ। গুলি চালানোর পর ধারালো অস্ত্র দিয়ে দুজনের ওপর হামলা করা হয়। ঘটনাস্থলেই তাঁদের মৃত্যু হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আবু সুফিয়ান আইন নিয়ে পড়াশোনা করছিলেন। তাঁর বাবা আনিসুর রহমান ছিলেন কংগ্রেসের সক্রিয় নেতা এবং দলটির প্রাদেশিক ও জেলা পর্যায়ের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
তিনজন গ্রেপ্তার
জোড়া হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তদন্তকারীদের ধারণা, হামলার পেছনে পূর্বপরিকল্পনা থাকতে পারে। পুলিশের পক্ষ থেকে একজন কারাবন্দি ব্যক্তিকে এই হত্যাকাণ্ডের মূলহোতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
তবে হামলার সুনির্দিষ্ট কারণ, কার নির্দেশে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের প্রত্যেকের ভূমিকা কী—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।
রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ
ঘটনার পর নিহতদের পরিবার ও কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এটিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ফল বলে অভিযোগ করা হয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক বিরোধের জেরেই এই হামলা হয়েছে বলে তাঁদের দাবি।
কংগ্রেসের স্থানীয় নেতারা হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে সরব হয়েছেন এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। দলটি এই ঘটনার প্রতিবাদে রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক কর্মসূচির কথাও জানিয়েছে
তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত উদ্দেশ্য এবং এর সঙ্গে রাজনৈতিক বিরোধের সম্পর্ক তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
এলাকায় উত্তেজনা
একই পরিবারের বাবা ও ছেলেকে এভাবে হত্যার ঘটনায় নদীয়ার স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
রাজনৈতিক উত্তেজনার আশঙ্কায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্তে যেসব প্রশ্ন
এই জোড়া হত্যাকাণ্ডের পর বেশ কয়েকটি প্রশ্ন সামনে এসেছে—কীভাবে হামলাকারীরা তাঁদের গাড়ি থামাতে সক্ষম হলো, হামলার আগে তাঁদের গতিবিধি সম্পর্কে কারা জানত, হামলার পেছনে ব্যক্তিগত নাকি রাজনৈতিক বিরোধ ছিল এবং কার নির্দেশে এই হামলা চালানো হয়েছে।
পুলিশ গ্রেপ্তার তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে। একই সঙ্গে হামলায় আরও কেউ জড়িত কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
কংগ্রেসের প্রতিবাদ
হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে কংগ্রেস নেতৃত্ব কঠোর অবস্থান নিয়েছে। দলটির পক্ষ থেকে ঘটনাটিকে রাজনৈতিক সহিংসতার গুরুতর উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
নদীয়ার এই জোড়া হত্যাকাণ্ড পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে। এখন তদন্তের ফলাফলের দিকেই নজর—হত্যার প্রকৃত কারণ কী এবং এই নৃশংসতার সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্তেই স্পষ্ট হবে।
-নিউ ইয়র্ক ভয়েস বাংলা