Columbus | ১৬ আগস্ট, ২০২৬ | ১ ভাদ্র, ১৪৩৩
সর্বশেষ খবর
মহাকাশে ধান চাষে চীনের যুগান্তকারী সাফল্য, খুলছে চাঁদ-মঙ্গলে কৃষির দ্বার খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিনে মালয়েশিয়ায় বিএনপির দোয়া ও স্মরণসভা যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ ঝড়-বন্যা: ইন্ডিয়ানায় চার বছরের শিশুসহ ৬ জনের মৃত্যু পান মসলা বিজ্ঞাপন ঘিরে বিপাকে তিন তারকা, শাহরুখ-অজয়-টাইগারকে FDA-এর নোটিশ বাসা ভাড়ার অজুহাতে অভিনব লুট, খাবারে ঘুমের ওষুধ—রহস্য উদঘাটনে পুলিশ ডারউইনে টাইগারদের ইতিহাস: ২৩ বছর পর সেই মাঠেই অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে নতুন অধ্যায় গ্যাস সরবরাহে স্বস্তির খবর, বাস্তবে কমেনি ভোগান্তি কংগ্রেস নেতা ও ছেলেকে নৃশংসভাবে হত্যা, নদীয়ায় গ্রেপ্তার ৩ সফটওয়্যারে কারসাজি করে ৫০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, তোলপাড় রংপুর সিটি করপোরেশনে কুষ্টিয়ায় গণ অধিকার পরিষদের কর্মীর পায়ের রগ কাটার অভিযোগ, জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে গুরুতর হামলার দাবি নারীদের উচ্চশিক্ষায় নতুন উদ্যোগ, অনার্স পর্যন্ত খরচ দেবে সরকার: তারেক রহমান শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত ভারতের—কোর্ট নাকি সরকারের অনুমোদন, জানালেন চিফ প্রসিকিউটর ইউক্রেনে রুশ হামলায় নিহত নারী, রোমানিয়ার আকাশে ড্রোন ভূপাতিত করল ন্যাটো মেসির পেনাল্টি মিস, ন্যাশভিলের কাছে ৪-১ গোলে বিধ্বস্ত মায়ামি ফুটবল মাঠের তুচ্ছ ঝগড়া গড়াল প্রাণঘাতী সংঘর্ষে, সুনামগঞ্জে নিহত ১
হোম খেলার মাঠ ডারউইনে টাইগারদের ইতিহাস: ২৩ বছর পর সেই মাঠেই অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে নতুন অধ্যায়

ডারউইনে টাইগারদের ইতিহাস: ২৩ বছর পর সেই মাঠেই অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে নতুন অধ্যায়

নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ০৮:২৫ পিএম, ১৬ আগস্ট, ২০২৬ 11
ডারউইনে টাইগারদের ইতিহাস: ২৩ বছর পর সেই মাঠেই অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে নতুন অধ্যায়

মো: নাজমুল হাসান বাবু ||

ডারউইন—বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য যে শহর একসময় ছিল তীব্র হতাশার প্রতীক, ২৩ বছর পর সেই ডারউইনই হয়ে উঠল ইতিহাসের সবচেয়ে উজ্জ্বল অধ্যায়ের মঞ্চ।


২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই মাঠে মাত্র ৯৭ রানে অলআউট হয়ে ইনিংস ও ১৩২ রানে হেরেছিল বাংলাদেশ। সেই সময় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল অনেক নড়বড়ে। কিন্তু ২০২৬ সালে একই ডারউইনে ফিরে এসে সেই অস্ট্রেলিয়াকেই ৯ উইকেটে হারিয়ে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট জয় তুলে নিয়েছে টাইগাররা।


এ যেন একই মাঠে ২৩ বছরের ব্যবধানে বাংলাদেশ ক্রিকেটের দুই ভিন্ন ছবির গল্প—একদিকে শুরুর দিকের অসহায়তা, অন্যদিকে পরিণত এক টেস্ট দলের আত্মবিশ্বাসী প্রত্যাবর্তন।


২০০৩: ডারউইনে দুঃস্বপ্নের শুরু


২০০৩ সালের জুলাইয়ে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো ডারউইনের মারারা ওভালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট খেলতে নামে। সেই ম্যাচটি ছিল ভেন্যুটির ইতিহাসেও গুরুত্বপূর্ণ—মারারা ওভাল তখন অস্ট্রেলিয়ার ৮ম এবং বিশ্বে ৮৯তম টেস্ট ভেন্যু হিসেবে অভিষেক করেছিল।


বাংলাদেশের জন্য অবশ্য সেই অভিষেক সুখকর ছিল না।


অস্ট্রেলিয়ার ভয়ংকর পেস আক্রমণের সামনে মাত্র ৪২.২ ওভারে ৯৭ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস। গ্লেন ম্যাকগ্রা ও ব্রেট লি নেন তিনটি করে উইকেট; জেসন গিলেস্পি ও স্টুয়ার্ট ম্যাকগিলও বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে বড় ধাক্কা দেন।


বাংলাদেশের হয়ে মোহাম্মদ আশরাফুল ২৩ এবং খালেদ মাহমুদ ২১ রান করে কিছুটা প্রতিরোধ গড়েছিলেন। কিন্তু সেই প্রতিরোধ যথেষ্ট ছিল না।


অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ের সামনে অসহায় বাংলাদেশ


৯৭ রানে বাংলাদেশকে গুটিয়ে দেওয়ার পর অস্ট্রেলিয়া নিজেদের প্রথম ইনিংসে ৭ উইকেটে ৪০৭ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে।


স্টিভ ওয়াহ করেন অপরাজিত ১০০ রান। ড্যারেন লেহম্যান করেন ১১০ এবং জাস্টিন ল্যাঙ্গার যোগ করেন ৭১ রান।


দ্বিতীয় ইনিংসেও বাংলাদেশের ব্যাটিং খুব একটা ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। ১৭৮ রানে অলআউট হয়ে ম্যাচটি ইনিংস ও ১৩২ রানে হারে বাংলাদেশ।


তখন পর্যন্ত টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের কোনো জয় ছিল না।


২৩ বছর পর বদলে গেল গল্প


২০২৬ সালে আবার যখন বাংলাদেশ ডারউইনে ফিরল, তখন দলটি আর ২০০৩ সালের সেই বাংলাদেশ নয়।


গত দুই দশকে বাংলাদেশ টেস্ট ক্রিকেটে একাধিক ঐতিহাসিক জয় পেয়েছে। পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জয়, নিউজিল্যান্ডের মাটিতে জয় এবং অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২০১৭ সালে ঢাকায় ঐতিহাসিক জয়—সব মিলিয়ে দলটি ধীরে ধীরে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে।


তবু অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট জয় ছিল অধরা।


সেই অপেক্ষার অবসান হলো ডারউইনে।


২০২৬: প্রথম দিনেই অস্ট্রেলিয়াকে চাপে ফেলে টাইগাররা


২০২৬ সালের প্রথম টেস্টে টস জিতে ব্যাটিং নেয় অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু বাংলাদেশের পেসারদের দুর্দান্ত বোলিংয়ের সামনে স্বাগতিকদের ব্যাটিং লাইনআপ ভেঙে পড়ে।


হাসান মাহমুদ একাই নেন ৬ উইকেট। অস্ট্রেলিয়া গুটিয়ে যায় মাত্র ১৯৮ রানে। বাংলাদেশের বোলাররা শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেন্থে বল করে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের চাপে রাখেন।


২৩ বছর আগে যে মাঠে বাংলাদেশ ৯৭ রানে অলআউট হয়েছিল, এবার সেই মাঠেই অস্ট্রেলিয়াকে ১৯৮ রানে থামিয়ে দেয় টাইগাররা।


তানজিদের ব্যাটে নতুন ইতিহাস


এরপর বাংলাদেশের ব্যাটিং ইনিংসে আসে আরেকটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত।


তানজিদ হাসান তামিম করেন ১০১ রান—অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের কোনো ব্যাটারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি। তাঁর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত, মুমিনুল হক ও মুশফিকুর রহিম।


বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে সংগ্রহ করে ৪২৬ রান—অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসের চেয়ে ২২৮ রানের বিশাল লিড।


এটি ম্যাচের গতিপথ প্রায় পুরোপুরি বদলে দেয়।


মেহেদী-হাসান মাহমুদের দাপটে জয়


দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়া লড়াইয়ে ফেরার চেষ্টা করলেও বাংলাদেশের বোলাররা তাদের স্বস্তি দেননি।


হাসান মাহমুদ পুরো ম্যাচে নেন ৯ উইকেট। মেহেদী হাসান মিরাজও বল হাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এবং দ্বিতীয় ইনিংসে চার উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার শেষ প্রতিরোধ ভেঙে দেন।


অস্ট্রেলিয়া শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের সামনে মাত্র ৫৭ রানের লক্ষ্য দিতে সক্ষম হয়।


সেই লক্ষ্য সহজেই পেরিয়ে যায় বাংলাদেশ। মুমিনুল হক ৩০ রানে অপরাজিত এবং শাদমান ইসলাম ২৫ রানে অপরাজিত থেকে দলকে ঐতিহাসিক জয় এনে দেন।


২৩ বছরের ব্যবধান—৯৭ থেকে ৪২৬


ডারউইনের গল্পের সবচেয়ে প্রতীকী দিকটি এখানেই।


২০০৩ সালে:

বাংলাদেশ — ৯৭ ও ১৭৮

অস্ট্রেলিয়া — ৪০৭/৭ ঘোষণা

ফল — অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস ও ১৩২ রানে জয়।


২০২৬ সালে:

অস্ট্রেলিয়া — ১৯৮ ও ২৮৫

বাংলাদেশ — ৪২৬ ও ৫৭/১

ফল — বাংলাদেশের ৯ উইকেটের জয়।


একই শহর, একই ক্রিকেট মাঠ, কিন্তু সম্পূর্ণ ভিন্ন দুই সময়ের দুই বাংলাদেশ।


অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম টেস্ট জয়


ডারউইনের এই জয় বাংলাদেশের জন্য শুধু একটি ম্যাচ জয় নয়। এটি অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয়।


এর আগে ২০১৭ সালে ঢাকায় অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। এবার দেশের বাইরে অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর স্বাদ পেল টাইগাররা।


রয়টার্সের প্রতিবেদনে এই জয়কে বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসের অন্যতম বড় সাফল্য হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তও এটিকে বাংলাদেশের সব ফরম্যাট মিলিয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জয়গুলোর একটি হিসেবে বর্ণনা করেছেন


ডারউইন এখন আর দুঃস্বপ্ন নয়


২০০৩ সালের সেই পরাজয়ের পর ২৩ বছর কেটে গেছে। সময়ের সঙ্গে বদলেছে বাংলাদেশের ক্রিকেট।


যে দল একসময় অস্ট্রেলিয়ার পেস আক্রমণের সামনে মাত্র ৯৭ রানে ভেঙে পড়েছিল, সেই দলই এখন অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে তাদের ব্যাটিং লাইনআপকে ১৯৮ রানে গুটিয়ে দিতে পারে। যে দলের জন্য বিদেশের মাটিতে টেস্ট জয় ছিল বিরল ঘটনা, সেই দল এখন বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী ক্রিকেট দলের বিপক্ষে তাদেরই মাটিতে আধিপত্য দেখাতে পারে।


ডারউইনের এই জয় তাই শুধু স্কোরবোর্ডের একটি ফলাফল নয়—এটি বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের দীর্ঘ যাত্রার প্রতিচ্ছবি।


ইতিহাসের পাতায় ডারউইন


২৩ বছর আগে ডারউইনে বাংলাদেশের জন্য লেখা হয়েছিল হতাশার গল্প। ২০২৬ সালে সেই একই শহরেই লেখা হলো প্রত্যাবর্তনের গল্প।


৯৭ রানের সেই বাংলাদেশ আজ ৪২৬ রানের বাংলাদেশ।


ইনিংস ব্যবধানে হারা সেই বাংলাদেশ আজ অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়েছে।


আর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম টেস্ট জয়ের মাধ্যমে ডারউইন এখন বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে চিরস্মরণীয় এক নাম।


-নিউ ইয়র্ক ভয়েস বাংলা