Columbus, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬
বিজ্ঞাপন 728 × 90
সর্বশেষ খবর
নেত্রকোণায় যুবকের উপর মুখোশধারীদের গুলি, গুরুতর আহত দুর্গাপুরে নির্মম হত্যার শিকার সাংবাদিক আলিফ ফকিরের পরিবারের পাশে ডেপুটি স্পিকার চা শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, বাড়বে উৎপাদন-রপ্তানি লালনের মানবধর্ম ও অসাম্প্রদায়িক দর্শনে মুখর ছেঁউড়িয়া, স্মরণোৎসবে সাধু-ভক্তদের ঢল নোয়াখালী'র বেগমগঞ্জে মুখোশধারীদের গুলিতে ব্যবসায়ী আহত, উন্নত চিকিৎসায় ঢাকায় প্রেরণ লক্ষ্মীপুরে সম্ভাব্য ৭১০ কোটি টাকার সুপারির বাজার;গাছে গাছে ব্যস্ত শ্রমিক-কৃষক নোয়াখালী'র বসুরহাটে খাজা আবুল খায়ের শিক্ষা বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত, অংশ নিল ১,৭২০ শিক্ষার্থী কোম্পানীগঞ্জে জামায়াতের চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা, চেয়ারম্যান-মেয়র পদে ১১ জন নাসিরনগরে দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন, সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান এমপি এম এ হান্নানের। নওগাঁয় সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তির চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু নওগাঁয় গাঁজাসহ আটক হওয়া ছাত্রদলের আহ্বায়ক বহিষ্কার কক্সবাজারের রিসোর্টে আগুন, দুই মেয়েসহ যশোরের দম্পতির ‘মৃত্যু দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় সীমান্তের ৯ মণ্ডপ পরিদর্শন করলেন খুলনা ২১ বিজিবি অধিনায়ক কাঁচের টুকরা দিয়ে টাকার কারসাজি! শার্শায় প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার ৩ বেনাপোলে পিস্তল, গুলি ও ম্যাগাজিনসহ ভ্যান চালক আটক
হোম › বাংলাদেশ › কক্সবাজারের রিসোর্টে আগুন, দুই মেয়েসহ যশোরের দম্পতির ‘মৃত্যু

কক্সবাজারের রিসোর্টে আগুন, দুই মেয়েসহ যশোরের দম্পতির ‘মৃত্যু

নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১১:২০ এএম, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬ 5
কক্সবাজারের রিসোর্টে আগুন, দুই মেয়েসহ যশোরের দম্পতির ‘মৃত্যু
মো: জামাল হোসেন
মো: জামাল হোসেনযশোর বেনাপোল প্রতিনিধি॥

কক্সবাজারের ইনানীতে টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের পর নিখোঁজ রয়েছেন যশোরের মণিরামপুরের এক দম্পতি ও তাদের দুই শিশুকন্যা।


রিসোর্টের শৌচাগার থেকে উদ্ধার হওয়া চারজনের দগ্ধ মরদেহ তাদের হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্বজনেরা। মরদেহগুলোর পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে শনাক্ত না হওয়ায় পরিবারটির সদস্যদের ভাগ্যে কী ঘটেছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।


তবে মণিরামপুর থানা পুলিশ বলছে, তারা নিশ্চিত হয়েছেন যে তুহিন, তার স্ত্রী ও দুই সন্তান অগ্নিকাণ্ডে মারা গেছেন।


নিখোঁজ ব্যক্তিরা হলেন, মণিরামপুর হাসপাতাল মোড়সংলগ্ন মোহনপুর এলাকার মতিয়ার রহমানের ছেলে নাহিদুর রহমান তুহিন (৪১), তার স্ত্রী আফসানা মতিন তানজি (৩৬) এবং তাদের দুই মেয়ে রুজাইনা ইনায়া (৭) ও সুনাইনা ইহানা (৩)।


পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, তুহিন ঢাকার শ্যামলীতে অবস্থিত বেসরকারি প্রতিষ্ঠান গ্র্যান্ড পাওয়ার লিমিটেডের কর্মকর্তা ছিলেন। স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে তিনি ঢাকার মিরপুরে বসবাস করতেন। কক্সবাজারে পারিবারিক ভ্রমণে যাওয়ার বিষয়টি তিনি তার বাবাকে ফোনে জানিয়েছিলেন।


তুহিনের চাচাতো ভাই ও মণিরামপুর হাসপাতাল মোড়ের ওষুধ ব্যবসায়ী রিয়াজ উদ্দিন জানান, শুক্রবার স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে কক্সবাজারের ইনানীতে টুপটুপ রিসোর্টে ওঠেন তুহিন। দুই দিন অবস্থান শেষে রোববার তাদের রিসোর্ট ছাড়ার কথা ছিল। শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টার পর থেকে তুহিনের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।


শনিবার সকালে রিসোর্টে আগুন লাগার খবর পেয়ে তানজির ফোনেও যোগাযোগের চেষ্টা করেন স্বজনেরা। তার ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। তাদের মুঠোফোনের সর্বশেষ অবস্থান রিসোর্ট এলাকায় দেখাচ্ছিল বলে জানান রিয়াজ। তিনি বলেন, দিনভর খোঁজাখুঁজি করেও তুহিন ও তার পরিবারের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।


ছেলের সঙ্গে শেষ কথোপকথনের স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে মতিয়ার রহমান বলেন, ‘‘শুক্রবার রাতেও নাহিদের সঙ্গে শেষ কথা হয়েছিল। কল করে বলছিল, ‘সি বিচে আছি, বাচ্চারা খেলা করছে।’ বুধবার ঢাকায় ফেরার কথা ছিল। কিন্তু শনিবার সকালের অগ্নিকাণ্ড আমাদের সব স্বপ্ন আর হাসিখুশি শেষ করে দিল।’’ কথাগুলো বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।


তিনি জানান, প্রায় দেড় মাস আগে তিনি গ্রামের বাড়িতে এসেছেন। বুধবার আবার ঢাকায় ফিরে যাওয়ার কথা ছিল তার। ছোট ছেলে নাহিদের সঙ্গেই ঢাকায় থাকতেন তিনি। শুক্রবার রাতেও ছেলের সঙ্গে কথা হয়েছে, অথচ পরদিন থেকেই পরিবারের চার সদস্যের কোনো খোঁজ পাচ্ছেন না।


শনিবার সন্ধ্যায় রিসোর্টের শৌচাগার থেকে পরস্পরকে জড়িয়ে থাকা অবস্থায় চারজনের দগ্ধ মরদেহ উদ্ধারের খবর পাওয়ার পর স্বজনদের মধ্যে তাদের বেঁচে থাকা নিয়ে গভীর শঙ্কা তৈরি হয়। এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পরিবার ও পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।


তুহিনের বড় ভাই জাহিদুর রহমান প্রিন্স শনিবার থেকে তার ভাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছিলেন না। রোববার সকালে তিনি কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হন।

প্রিন্স বলেন, ‘তুহিন ও তার স্ত্রী, দুই মেয়ে বেঁচে আছেন কি না, আমরা নিশ্চিত নই। কক্সবাজারে পৌঁছালে প্রকৃত অবস্থা জানতে পারবো।’


তবে মণিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাঈদ বলেন, কক্সবাজারের রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে মণিরামপুরের ওই দম্পতি ও তাদের দুই মেয়ে রয়েছেন বলে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে। তাদের মরদেহ স্থানীয় হাসপাতালে রাখা হয়েছে। তবে এখনো মরদেহ শনাক্ত করা হয়নি বলে জানান তিনি।