পুলিশের সক্রিয়তা বৃদ্ধি ভেড়ামারায় আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নের নতুন বার্তা।
তানভীর আজাদ, কুষ্টিয়া প্রতিনিধি | New York Voice Bangla
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলায় অপরাধ দমন, মাদকবিরোধী অভিযান, কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নিয়ন্ত্রণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তৎপরতা জোরদার করেছে থানা পুলিশ। গত ১ অক্টোবর দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে বিভিন্ন অপরাধ প্রতিরোধে নানা পদক্ষেপ নিয়েছেন ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শামীম শেখ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দায়িত্ব গ্রহণের পর ২০ দিনের বেশি সময় ধরে পরিচালিত অভিযানে টাপেন্টাডল ট্যাবলেট, ইয়াবা ও গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় ১৭ জন মাদক কারবারি এবং পাঁচজন সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পাশাপাশি অপরাধপ্রবণ এলাকায় নজরদারি, নিয়মিত টহল এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে।
শুধু মাদক ও অপরাধ দমন নয়, মানবিক ও জননিরাপত্তাসংক্রান্ত কয়েকটি ঘটনায় পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপও আলোচনায় এসেছে। রেললাইনে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দেওয়ার চেষ্টা করা এক মা ও তাঁর দুই সন্তানকে উদ্ধার, নিখোঁজ তিন শিশুকে খুঁজে বের করা এবং অপহরণের শিকার দুজনকে উদ্ধারের ঘটনায় পুলিশি তৎপরতার কথা জানা গেছে।
এ ছাড়া শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে উপজেলার ১২টি পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করেছে থানা পুলিশ। উৎসবকালীন সময়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশের দায়িত্ব পালন ছিল উল্লেখযোগ্য।
ভেড়ামারা থানার ওসি মোহাম্মদ শামীম শেখ বলেন, “আমরা ভেড়ামারা উপজেলাকে সম্পূর্ণ অপরাধমুক্ত ও শান্তিকামী মানুষের নিরাপদ আবাসস্থল হিসেবে গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর। অপরাধী যেই হোক না কেন, কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।”
তিনি আরও বলেন, অপরাধপ্রবণ এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি ও পুলিশি টহল জোরদার করা হবে। সাধারণ মানুষের অভিযোগের দ্রুত সাড়া দেওয়া, প্রতিটি অভিযোগের যথাযথ তদন্ত এবং অপরাধের ধরন অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
ওসি জানান, নারী ও শিশুসহ ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং পুলিশ সদস্যদের জবাবদিহি বজায় রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে পুলিশের ধারাবাহিক তৎপরতার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতনতা ও সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অপরাধ বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড চোখে পড়লে আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে দ্রুত পুলিশকে জানানো উচিত। কাউকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হলে মারধর না করে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় পুলিশের কাছে হস্তান্তর করাই সঠিক পন্থা।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, পুলিশের নিয়মিত অভিযান, দ্রুত সাড়া প্রদান এবং জনগণের সক্রিয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে ভেড়ামারায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে আরও ইতিবাচক অগ্রগতি অর্জিত হবে।