পেনসিলভানিয়া, ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬ | ১ মাঘ, ১৪৩২

সর্বশেষ:
বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের জন্য অভিবাসী ভিসা স্থগিত করল যুক্তরাষ্ট্র আজ ঢাকায় আসছে ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফ সংক্ষিপ্ত আয়োজন, সাধারণ দর্শকদের জন্য সীমিত সুযোগ ইরানে বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি হলে ‘খুবই কঠোর পদক্ষেপ’ নেবে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প বাংলাদেশের তিন দিক ঘিরে পাঁচটি বিমানঘাঁটি সচল করছে ভারত আকাশে সর্বোচ্চ সংখ্যক জাতীয় পতাকা উড়িয়ে গিনেস বিশ্বরেকর্ডে বাংলাদেশ বাংলাদেশের জন্য তিনটি সুখবর দিলেন ইইউ রাষ্ট্রদূত দণ্ডিত ২৫ বাংলাদেশিকে ক্ষমা করেছেন আমিরাতের প্রেসিডেন্ট বিক্ষোভকারীদের ‘আল্লাহর শত্রু’ ঘোষণা ইরানের, মৃত্যুদণ্ডের হুঁশিয়ারি ঋণখেলাপি হয়েও টিকেছেন ৩১ প্রার্থী, অর্ধেক বিএনপির দেশের সকল হাসপাতালের জন্য জরুরি নির্দেশনা সঙ্কটাপন্ন ওবায়দুল কাদের পররাষ্ট্র উপ‌দেষ্টার সঙ্গে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ফোনালাপ, হলো যে কথা মনোনয়ন বাতিলের পর যা বললেন ডা. তাসনিম জারা কল্যাণ রাষ্ট্র গড়তে বিভক্তি ভুলে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে: জামায়াত আমির বাংলাদেশ নীতিতে দিল্লির রাজনৈতিক পরাজয়

যুগে যুগে নজরুলের গানে ঈদ

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৩:১৭ পিএম, ০৮ এপ্রিল, ২০২৪

কবি কাজী নজরুল ইসলামের নাম আসলেই প্রথম যে শব্দ মাথায় আসে তা হলো ‘বিদ্রোহী’। তবে এই পরিচয় ছাড়াও কবির রয়েছে অনেক পরিচিতি। প্রেমের কবি, সাম্যের কবি ও মুসলিম রেনেসাঁর কবি। তার লিখা ‘ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ’ গানটি ছাড়া বাঙালি মুসলিমদের ঈদ যেন অসম্পন্ন থেকে যায়। রমজান মাস শেষে পশ্চিম আকাশে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখার সাথে সাথে এই গান প্রচারের মধ্য দিয়ে শুরু হয় বাঙালি মুসলমানদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব ঈদ-উল-ফিতর। 

সময়টা ছিল ১৯৩১ সাল! তখনো রমজানের রোজা শুরু হয়নি। তবে মাসিক মোহাম্মদী’র ঈদ সংখ্যা প্রকাশের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে। একদিন বিকেল চারটার দিকে কবি কাজী নজরুল ইসলাম এলেন মোহাম্মদী’র সম্পাদক মওলানা আকরম খাঁর কাছে কোলকাতার অফিসে।


এসেই কবি বললেন, চার আনা পয়সা দেন চাচা দুপুরে খাইনি। পকেটে হাত দিয়ে একটা সিকি বের করে দিয়ে মওলানা আকরম খাঁ বললেন, এই নাও চার আনা পয়সা, বাইরে থেকে খেয়ে এসো। তারপর একটা কবিতা দিয়ে যাবে মাসিক মোহাম্মদী’র ঈদ সংখ্যার জন্য। খেতে গেলেন না নজরুল। কলম হাতে নিয়ে লিখতে বসে গেলেন। আধ ঘণ্টার মধ্যে লেখা শেষ করে মওলানা আকরম খাঁর হাতে খাতাটি ধরিয়ে দিয়ে বললেন ‘কবিতাটি পড়েন চাচা, আমি খেয়ে আসি’। এটাই সেই বিখ্যাত কবিতা, ‘ও মন রমজানের ওই রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ।’


লেখার চারদিন পর কবির শিষ্য শিল্পী আব্বাস উদ্দীনের গলায় গানটি রেকর্ড করা হয়। রেকর্ড করার দুই মাস পরে ঈদের আগে এই রেকর্ড প্রকাশ হয়। গ্রামফোন কোম্পানি এই রেকর্ড প্রকাশ করে। বাংলা ইসলামি গানের প্রথম রেকর্ড হিসেবে ‘সুপার-ডুপার হিট’।


কাজী নজরুল ইসলামের ঈদের কালজয়ী এই গানটিতে আনন্দ-উচ্ছ্বাস, সাম্য ও ভ্রাতৃত্ব, ইসলামের মমার্থ, ঈদের তাৎপর্য নিখুঁতভাবে ফুটে উঠেছে। এই গান ছাড়া যেমন ঈদের আনন্দ পূর্ণতা পায় না, তেমনি ইসলামে মানব প্রেমের গুরুত্ব যে অপরিসীম, সে বিষয়টিও দ্যার্থহীনভাবে উচ্চারিত হয়েছে এই গানে। গানের একটি জায়গায় নজরুল পরিষ্কার করে বলেছেন, ‘আজ ভুলে যা তোর দোস্ত-দুশমন, হাত মেলাও হাতে, তোর প্রেম দিয়ে কর বিশ্ব নিখিল ইসলামে মুরিদ, ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ।’ অর্থাৎ ঈদের এই আনন্দক্ষণে শত্রুতা ভুলে প্রেম বিতরণের মধ্য দিয়ে গোটা বিশ্বকে ইসলামের মুরিদ বানানোর পরামর্শ দিয়েছেন কবি।


কবি আজ নেই, তবে রয়ে গেছে তার সৃষ্টকর্ম। এই গানের মধ্য দিয়ে অমর হয়ে থাকবেন কবি নজরুল!

মন্তব্যঃ

দুঃখিত, কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি!

নতুন মন্তব্য করুন:

ad
সকল খবর জানতে ক্লিক করুন
ad