মুক্তির আগেই বিশ্ববাজারে ঝড় তুলছে রণবীরের ‘রামায়ণ’, চীনে ট্রেলার পেরোল ১০ লাখ ভিউ
বিনোদন ডেস্ক ||
বলিউড তারকা রণবীর কাপুর অভিনীত বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘রামায়ণ’ এখনো মুক্তির অপেক্ষায়। কিন্তু প্রেক্ষাগৃহে আসার আগেই আন্তর্জাতিক বাজারে ছবিটিকে ঘিরে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। নীতেশ তিওয়ারি পরিচালিত এই মহাকাব্যিক সিনেমাটি শুধু ভারতীয় দর্শকদের জন্য নয়, বরং বিশ্ববাজারকে লক্ষ্য করেই নির্মাণ করা হয়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চীনে সিনেমাটির ট্রেলার ইতোমধ্যে ১০ লাখের বেশি ভিউ পেয়েছে। চীনা দর্শকদের অনেকে ছবিটির ভিজ্যুয়ালকে হলিউডের বড় বাজেটের সিনেমার সঙ্গে তুলনা করছেন।
এখনো বক্স অফিসে আসেনি ‘রামায়ণ’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘রামায়ণ’-এর ব্যবসা নিয়ে নানা আলোচনা চললেও বাস্তবতা হলো, সিনেমাটি এখনো কোনো বক্স অফিস আয় করেনি। নির্মাতারা প্রথম পর্বের আন্তর্জাতিক মুক্তির প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আন্তর্জাতিক বাজারে সিনেমাটি ৬ নভেম্বর এবং ভারতে দীপাবলিকে কেন্দ্র করে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে মুক্তির পরিকল্পনা রয়েছে।
অর্থাৎ বর্তমানে ‘রামায়ণ’-এর যে ‘বিশ্ববাজারে সাড়া’ নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, সেটি মূলত ট্রেলার, প্রচারণা, আন্তর্জাতিক পরিবেশকদের আগ্রহ এবং দর্শকদের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়াকে ঘিরে।
বিশ্ববাজারকে লক্ষ্য করেই নির্মাণ
‘রামায়ণ’-এর অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর আন্তর্জাতিক পরিকল্পনা। ছবিটির আন্তর্জাতিক পরিবেশনার দায়িত্ব পেয়েছে Sony Pictures, যা সিনেমাটিকে ভারতীয় ও প্রবাসী দর্শকের গণ্ডি পেরিয়ে বৃহত্তর আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি করছে।
প্রযোজক নামিত মালহোত্রার লক্ষ্যও শুরু থেকেই ছিল ভারতীয় মহাকাব্যকে বিশ্বমানের সিনেমাটিক অভিজ্ঞতায় তুলে ধরা। ছবিটির নির্মাণে বিপুল পরিমাণ ভিজ্যুয়াল এফেক্ট এবং আন্তর্জাতিক মানের প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।
চীন নিয়ে বড় পরিকল্পনা
বিশ্ববাজারে ‘রামায়ণ’-এর সবচেয়ে আলোচিত পদক্ষেপগুলোর একটি হচ্ছে চীনে মুক্তি। সেখানে সিনেমাটি ‘Ramayana: The Legend of the Prince’ নামে বাজারজাত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
চীনে ভারতীয় সিনেমার জন্য বড় বাজার তৈরির নজির অবশ্য নতুন নয়। ‘দঙ্গল’-এর মতো ভারতীয় সিনেমা দেশটিতে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই ‘রামায়ণ’-এর নির্মাতারাও চীনা দর্শকদের কাছে ভারতীয় মহাকাব্যিক গল্পকে নতুনভাবে তুলে ধরতে চাইছেন
ইতোমধ্যে চীনা দর্শকদের মধ্যে ট্রেলার নিয়ে আগ্রহ তৈরি হওয়া নির্মাতাদের জন্য ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে ছবির পৌরাণিক গল্পকে চীনা দর্শকদের নিজস্ব মহাকাব্যিক কাহিনির সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে।
রণবীরের রাম, যশের রাবণ
ছবিতে রণবীর কাপুরকে দেখা যাবে ভগবান রামের চরিত্রে। সীতার ভূমিকায় রয়েছেন সাই পল্লবী এবং দক্ষিণ ভারতের জনপ্রিয় তারকা যশ অভিনয় করছেন রাবণের চরিত্রে। হনুমানের ভূমিকায় রয়েছেন সানি দেওল।
এই তারকা সমাবেশই সিনেমাটির আন্তর্জাতিক আগ্রহ বাড়ানোর অন্যতম কারণ। বিশেষ করে রণবীর ও যশের মতো ভারতীয় সিনেমার জনপ্রিয় মুখকে একই ছবিতে দেখা যাবে—এটি ভারতীয় দর্শকদের পাশাপাশি দক্ষিণ ভারতীয় ও আন্তর্জাতিক দর্শকদের কাছেও বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করছে।
৪ হাজার কোটি রুপির প্রকল্প!
‘রামায়ণ’-এর বাজেট নিয়ে এরই মধ্যে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। প্রায় ৪ হাজার কোটি রুপি বাজেটের যে সংখ্যা বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে, অভিনেতা যশ সম্প্রতি স্পষ্ট করেছেন যে এই অর্থ দুই পর্ব মিলিয়ে পুরো প্রকল্পের জন্য। তিনি বলেছেন, সিনেমাটির সম্ভাব্য আয়ও কেবল ভারতীয় বাজার থেকে নয়, আন্তর্জাতিক বাজার থেকেও আসবে।
এত বড় বাজেটের কারণে ছবিটির ওপর বক্স অফিসে বিশাল প্রত্যাশাও তৈরি হয়েছে। শুধু ভারতের বাজারে সফল হওয়া নয়, আন্তর্জাতিক আয়ও প্রকল্পটির আর্থিক সাফল্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
৫৯ হাজারের বেশি পর্দায় মুক্তির লক্ষ্য
ছবিটির নির্মাতারা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নজিরবিহীনভাবে বড় পরিসরে মুক্তির পরিকল্পনা করছেন। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে ৫৯ হাজারের বেশি স্ক্রিনে সিনেমাটি মুক্তির লক্ষ্য নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এমন পরিকল্পনা সফল হলে এটি ভারতীয় সিনেমার অন্যতম বৃহৎ বৈশ্বিক থিয়েট্রিক্যাল রিলিজ হতে পারে।
তবে চূড়ান্ত স্ক্রিন সংখ্যা ও বিভিন্ন দেশের মুক্তির পরিসর পরিবর্তিত হতে পারে।
ভিএফএক্স নিয়েও চলছে আলোচনা
‘রামায়ণ’-এর ট্রেলার প্রকাশের পর ছবির ভিজ্যুয়াল এফেক্ট নিয়ে দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। কেউ কেউ ছবির масштаб ও ভিজ্যুয়ালকে প্রশংসা করেছেন, আবার অনলাইনে কিছু ভিএফএক্স নিয়ে সমালোচনাও হয়েছে।
পরিচালক নীতেশ তিওয়ারি, রণবীর কাপুর ও প্রযোজক নামিত মালহোত্রা এসব সমালোচনার জবাব দিয়েছেন। নির্মাতাদের দাবি, ছবিটির ভিএফএক্স তৈরিতে বিপুল পরিমাণ সময় ও পরিশ্রম ব্যয় হয়েছে এবং এটি কোনো দ্রুত তৈরি করা এআই-নির্ভর কাজ নয়।
মুক্তির আগেই আন্তর্জাতিক কৌতূহল
বিশ্ববাজারে ‘রামায়ণ’-এর সবচেয়ে বড় শক্তি হতে পারে এর গল্প। রামায়ণ শুধু ভারতের একটি ধর্মীয় বা পৌরাণিক আখ্যান নয়; এর কেন্দ্রীয় বিষয়—ভালো ও মন্দের সংঘাত, পরিবার, দায়িত্ব, প্রেম, ত্যাগ ও নৈতিকতার মতো বিষয়গুলো আন্তর্জাতিক দর্শকদের কাছেও সহজে গ্রহণযোগ্য হতে পারে।
এই কারণেই নির্মাতারা সিনেমাটিকে কেবল ভারতীয় পুরাণভিত্তিক ছবি হিসেবে নয়, বরং একটি আন্তর্জাতিক মহাকাব্যিক সিনেমাটিক ফ্র্যাঞ্চাইজি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছেন।
সামনে বড় পরীক্ষা
মুক্তির আগে ‘রামায়ণ’ নিয়ে যতই উন্মাদনা তৈরি হোক, প্রকৃত পরীক্ষা শুরু হবে সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে আসার পর। বিশেষ করে এত বড় বাজেটের ছবি হিসেবে এর আন্তর্জাতিক বক্স অফিস পারফরম্যান্সের দিকে নজর থাকবে পুরো চলচ্চিত্রশিল্পের।
চীন, উত্তর আমেরিকা, যুক্তরাজ্য, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বাজারে ছবিটি কতটা দর্শক টানতে পারে—সেটিই নির্ধারণ করবে ‘রামায়ণ’ সত্যিকার অর্থে ভারতীয় সিনেমার নতুন বৈশ্বিক মাইলফলক হতে পারবে কি না।
-নিউ ইয়র্ক ভয়েস বাংলা