বিলিয়ন ডলারের বোয়িং কিনছে বাংলাদেশ, চুক্তিকে ‘অসাধারণ’ বললেন সার্জিও গোর
আন্তর্জাতিক ডেস্ক॥
যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে আরও বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে বাংলাদেশের নতুন একটি বড় প্রতিশ্রুতির কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্টের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত এবং ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর।
রোববার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে গোর বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চলতি সপ্তাহে একটি ‘অসাধারণ চুক্তি’ করেছেন। ওই চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ আরও বোয়িং উড়োজাহাজ কিনতে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং আগের প্রাথমিক ক্রয়াদেশ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। (bangla.bdnews24.com)
তবে গোরের পোস্টে নতুন করে কতটি উড়োজাহাজ কেনা হবে, কোন মডেলের বিমান কেনা হবে কিংবা মোট চুক্তিমূল্য কত—এসব নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি। এমনকি এটি নতুন ক্রয়চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে, নাকি ক্রয়ের বিষয়ে নীতিগত প্রতিশ্রুতি—সেটিও বিস্তারিতভাবে পরিষ্কার করা হয়নি। বাংলাদেশের সরকার বা বোয়িংয়ের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত নতুন অর্ডারের বিস্তারিত প্রকাশ্যে আসেনি।
আগের বোয়িং অর্ডার কত ছিল?
এর আগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স গত ৩০ এপ্রিল বোয়িংয়ের সঙ্গে ১৪টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করে। বোয়িংয়ের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ওই অর্ডারে ছিল আটটি ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, দুটি ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার এবং চারটি ৭৩৭-৮ ম্যাক্স।
ওই ১৪টি উড়োজাহাজের আনুমানিক বাজারমূল্য ৩.৭ বিলিয়ন ডলার বলে জানানো হয়েছিল। নতুন ঘোষণাটি সেই প্রাথমিক অর্ডারের পরিমাণ আরও বাড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ এই ঘোষণা?
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহর আধুনিকায়ন ও আন্তর্জাতিক রুট সম্প্রসারণের পরিকল্পনার সঙ্গে বোয়িং কেনার বিষয়টি সরাসরি সম্পর্কিত। নতুন করে বড় অর্ডার হলে ভবিষ্যতে বিমানের যাত্রী ও কার্গো পরিবহন সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি পুরোনো উড়োজাহাজ প্রতিস্থাপনের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তবে নতুন অর্ডারের প্রকৃত আর্থিক পরিমাণ ও বিমানসংখ্যা প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত এটিকে চূড়ান্ত বিলিয়ন-ডলারের ক্রয়মূল্য হিসেবে উল্লেখ করা ঠিক হবে না।
সার্জিও গোর তাঁর পোস্টে মূলত যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির প্রসঙ্গে বাংলাদেশ-বোয়িং সমঝোতার কথা তুলে ধরেছেন। তিনি ট্রাম্পকে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের অন্যতম বড় কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী প্রেসিডেন্ট হিসেবেও প্রশংসা করেন।
প্রকাশ/আপডেট: ৩১ আগস্ট ২০২৬, সকাল থেকে বিভিন্ন বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমে বিস্তারিত প্রকাশিত হয়।
মূল ঘোষণা: সার্জিও গোরের ৩০ আগস্টের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্ট।
তথ্যসূত্র: সার্জিও গোরের প্রকাশিত বক্তব্য, বোয়িংয়ের অফিসিয়াল তথ্য এবং বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন।