Columbus, ২৭ আগস্ট, ২০২৬
বিজ্ঞাপন 728 × 90
সর্বশেষ খবর
এশিয়া-প্যাসিফিকে বার্ড ফ্লু মোকাবিলায় প্রস্তুতি জোরদারের আহ্বান WHO-এর এএফসি অনূর্ধ্ব-১৭ বাছাইয়ে বাংলাদেশের গ্রুপে সিরিয়া, ইউএই, ভুটান ও ম্যাকাও G20-এর প্রযুক্তি বৈঠকে মাস্ক, অল্টম্যান ও হুয়াং—AI নিয়ে বিশ্বনেতাদের আলোচনায় প্রযুক্তি দুনিয়ার শীর্ষ ব্যক্তিরা বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন হয়রানির অভিযোগে গাফিলতি হলে ব্যবস্থা: ইউজিসি নিউজিল্যান্ডকে ২৩ রানে হারিয়ে টপ এন্ড টি-টোয়েন্টির শীর্ষে বাংলাদেশ জোড়া সেঞ্চুরিতে দিনুশার বীরত্ব, জয় হাতছাড়া ভারতের—ড্রয়ে শেষ কলম্বো টেস্ট চীনের J-10CE যুদ্ধবিমান কেনার প্রক্রিয়ায় নতুন অগ্রগতি রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থাকব: রাষ্ট্রপতি স্বাধীনতা আন্দোলন থেকে ২৪-এর গণঅভ্যুত্থান, নজরুলই মূল অনুপ্রেরণা: রিজভী তারেক রহমানের যুক্তরাষ্ট্র সফর ঘিরে যুবদলের প্রস্তুতি সভা নেপাল–তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ বন্যা, নিখোঁজ শত শত পর্যটক; মৃতের সংখ্যা ১৬৫ ইরান–ওমানের হরমুজ চুক্তি এখনো চূড়ান্ত হয়নি, চলছে আলোচনা মক্কায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস, সর্বোচ্চ ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি সৌদি আরবে এমবাপ্পের হ্যাটট্রিকে রিয়াল মাদ্রিদের বড় জয়, সোসিয়েদাদকে উড়িয়ে দিল ৪-১ গোলে ভিকারুননিসায় একাদশে ভর্তি: ২ সেপ্টেম্বর থেকে আবেদন, জানুন যোগ্যতা ও আবেদনের বিস্তারিত
হোম স্বাস্থ্য এশিয়া-প্যাসিফিকে বার্ড ফ্লু মোকাবিলায় প্রস্তুতি জোরদারের আহ্বান WHO-এর

এশিয়া-প্যাসিফিকে বার্ড ফ্লু মোকাবিলায় প্রস্তুতি জোরদারের আহ্বান WHO-এর

নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ০২:৪১ পিএম, ২৭ আগস্ট, ২০২৬ 1
এশিয়া-প্যাসিফিকে বার্ড ফ্লু মোকাবিলায় প্রস্তুতি জোরদারের আহ্বান WHO-এর

স্বাস্থ্য ডেস্ক ||



এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে উচ্চমাত্রায় সংক্রামক এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা A(H5N1)-এর বিস্তার এবং প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে সংক্রমণের সম্ভাবনা বিবেচনায় স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও প্রস্তুত রাখার আহ্বান জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)। সংস্থাটি বলেছে, দ্রুত শনাক্তকরণ, কার্যকর নজরদারি এবং মানুষ, প্রাণী ও পরিবেশ—এই তিন খাতের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করাই সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলার গুরুত্বপূর্ণ উপায়।


WHO-এর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের কার্যালয়ের যৌথ আয়োজনে ২৫ থেকে ২৭ আগস্ট অনুষ্ঠিত ১৯তম দ্বি-আঞ্চলিক National Influenza Centres and Influenza Surveillance Meeting-এ বিষয়টি গুরুত্ব পায়। তিন দিনের ভার্চুয়াল বৈঠকে ১৫০ জনের বেশি ইনফ্লুয়েঞ্জা বিশেষজ্ঞ, গবেষক, পরীক্ষাগার বিজ্ঞানী ও জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তারা অংশ নেন।


প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে H5N1 নিয়ে উদ্বেগ


WHO জানিয়েছে, এশিয়া-প্যাসিফিকের বিভিন্ন দেশে প্রাণীর মধ্যে উচ্চমাত্রায় সংক্রামক H5N1-এর প্রাদুর্ভাব দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে সাম্প্রতিক সময়ে পাখির মধ্যে ভাইরাসটির উপস্থিতি শনাক্ত হওয়ার পর প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপাঞ্চলেও সম্ভাব্য বিস্তার নিয়ে প্রস্তুতি বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে।


বৈঠকে অস্ট্রেলিয়া তাদের পাখির মধ্যে H5N1 শনাক্ত হওয়ার পর নেওয়া জাতীয় পদক্ষেপ এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সম্ভাব্য আরও বিস্তারের জন্য প্রস্তুতির বিষয় তুলে ধরে। নিউজিল্যান্ডের পরিস্থিতিও আলোচনায় আসে।


WHO-এর পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক ড. সাইয়া মাউ পিউকালা বলেন, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে H5N1-এর সাম্প্রতিক প্রবেশ আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে যে নজরদারিতে কোনো ধরনের শিথিলতার সুযোগ নেই। তাঁর মতে, মানুষ, প্রাণী ও পরিবেশের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের মধ্যে কার্যকর One Health সমন্বয় থাকলে সম্ভাব্য প্রাণী-মানব সংক্রমণের ঝুঁকি দ্রুত শনাক্ত ও মোকাবিলা করা সম্ভব।


বাংলাদেশের অভিজ্ঞতাও আলোচনায়


বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও One Health পদ্ধতিতে নজরদারি ও সমন্বয়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়। WHO জানিয়েছে, বাংলাদেশে মানবস্বাস্থ্য, প্রাণীস্বাস্থ্য ও পরীক্ষাগারভিত্তিক নজরদারিকে সমন্বিত করে প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে সংক্রমণের সম্ভাব্য সংকেত দ্রুত শনাক্ত, তথ্য আদান-প্রদান এবং যৌথ তদন্তের ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করা হচ্ছে।


WHO-এর জুলাইয়ে প্রকাশিত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের প্রস্তুতি-সংক্রান্ত আপডেটেও বলা হয়েছিল, বাংলাদেশে H5N1-সংক্রান্ত মানব সংক্রমণ ও অস্বাভাবিক পোলট্রি মৃত্যুর ঘটনায় একাধিক One Health outbreak investigation পরিচালনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের শ্বাসতন্ত্রের রোগের মহামারি মোকাবিলার প্রস্তুতি পরিকল্পনাও হালনাগাদ করা হয়েছে।


দ্রুত শনাক্তকরণ ও তথ্য ভাগাভাগিতে জোর


WHO-এর সাম্প্রতিক বৈঠকের অন্যতম লক্ষ্য ছিল নজরদারি থেকে পাওয়া তথ্যকে দ্রুত জনস্বাস্থ্য সিদ্ধান্তে রূপান্তর করা। অর্থাৎ শুধু ভাইরাস শনাক্ত করাই নয়, শনাক্তকরণের পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যাতে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে, সে ধরনের সক্ষমতা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।


এ জন্য জাতীয় ইনফ্লুয়েঞ্জা কেন্দ্র, পরীক্ষাগার, WHO সহযোগী কেন্দ্র এবং H5 রেফারেন্স ল্যাবরেটরিগুলোর মধ্যে তথ্য ও দক্ষতা বিনিময় বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এই সমন্বিত নেটওয়ার্কের লক্ষ্য হলো নতুন বা অস্বাভাবিক ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের সংকেত দ্রুত শনাক্ত করা এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত জনস্বাস্থ্য পদক্ষেপ নেওয়া।


One Health ঝুঁকি মূল্যায়ন


H5N1-এর সম্ভাব্য বিস্তার মোকাবিলায় WHO, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO), জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচি (UNEP), World Organisation for Animal Health (WOAH), Pacific Community এবং বিভিন্ন দেশের জনস্বাস্থ্য, প্রাণী ও বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি Rapid Joint One Health Risk Assessment তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


এর মাধ্যমে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপদেশ ও অঞ্চলগুলোতে H5N1 প্রবেশের ঝুঁকি মূল্যায়ন করে আগাম প্রস্তুতির অগ্রাধিকার নির্ধারণের চেষ্টা করা হচ্ছে।


মানুষের মধ্যে সংক্রমণ নিয়ে WHO-এর অবস্থান


H5N1 মূলত পাখির রোগ হিসেবে পরিচিত হলেও আক্রান্ত প্রাণীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে থাকা মানুষের মধ্যে সংক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। তবে WHO-এর সর্বশেষ নিয়মিত মানব-প্রাণী সংক্রমণ মূল্যায়ন অনুযায়ী, মানুষের মধ্যে সংক্রমণের ঘটনাগুলো নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং পরিস্থিতি পরিবর্তিত হলে ঝুঁকি পুনর্মূল্যায়নের প্রয়োজন রয়েছে।


WHO বলছে, ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস প্রাণীর মধ্যে ক্রমাগত পরিবর্তিত ও বিস্তার লাভ করতে পারে। তাই পরিস্থিতি অনুযায়ী ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং নজরদারি অব্যাহত রাখা জরুরি।


এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে H5N1-এর সাম্প্রতিক প্রাণী সংক্রমণকে সামনে রেখে WHO-এর বার্তাটি মূলত আগাম প্রস্তুতি, দ্রুত শনাক্তকরণ এবং সমন্বিত নজরদারি জোরদারের ওপর কেন্দ্রীভূত। সংস্থাটি তাৎক্ষণিকভাবে কোনো নতুন মহামারি ঘোষণা করেনি; বরং সম্ভাব্য zoonotic influenza ঝুঁকি মোকাবিলায় দেশগুলোর প্রস্তুতি আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।