নেপাল–তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ বন্যা, নিখোঁজ শত শত পর্যটক; মৃতের সংখ্যা ১৬৫
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ॥
নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও কাদাধসে মানবিক বিপর্যয় আরও গভীর হয়েছে। হিমালয়ের দুর্গম এলাকায় প্রবল পানির স্রোত, কাদা ও পাথরের ধাক্কায় ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতু ও বিভিন্ন স্থাপনা ধ্বংস হয়ে গেছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নেপাল ও তিব্বত মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা অন্তত ১৬৫ এবং নিখোঁজের সংখ্যা প্রায় ১,৫০০-তে পৌঁছেছে।
দুর্যোগের সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো বিপুলসংখ্যক পর্যটক ও বিদেশি নাগরিকের নিখোঁজ থাকা। নেপালের পর্যটন কর্মকর্তাদের হিসাবে, দেশটিতে ৫৭৯ জন পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৪০০-এর বেশি বিদেশি নাগরিক। ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, কানাডা, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের নাগরিকদেরও সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না।
হিমালয়ের একটি হিমবাহের বড় অংশ ধসে বিপুল বরফ, পাথর ও কাদার স্রোত নদীতে নেমে আসার পর এই ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার তথ্যও হিমবাহ ধসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ভূকম্পন শনাক্ত হওয়ার বিষয়টি সামনে এনেছে।
নেপাল ও চীন উভয় দেশেই উদ্ধার অভিযান চলছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় উদ্ধারকারীদের ব্যাপক সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। হেলিকপ্টার, সেনা, পুলিশ ও জরুরি উদ্ধারকারী দল নিখোঁজদের সন্ধানে কাজ করছে।
এদিকে তিব্বতের গিরং এলাকায় উজানে পানি আটকে একটি হ্রদ তৈরি হওয়ায় নতুন করে বন্যার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে। ফলে উদ্ধার অভিযানের পাশাপাশি সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফার দুর্যোগ ঠেকাতে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
তথ্যসূত্র: Reuters