গ্রামীণফোনের সাবেক কর্মীদের WPPF পাওনা নিয়ে আইনি লড়াই নতুন পর্যায়ে
ঢাকা ডেস্ক॥
গ্রামীণফোনের সাবেক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের Workers’ Profit Participation Fund (WPPF)-এর ২০১০–২০১২ সময়কালের বকেয়া অর্থের ওপর আইনগত সুদ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ আবারও গুরুত্বপূর্ণ আইনি পর্যায়ে পৌঁছেছে। গ্রামীণফোন নতুন করে হাইকোর্টে রিট করে বকেয়া WPPF-এর ওপর সুদ নির্ধারণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শ্রম আইনের বিধান চ্যালেঞ্জ করেছে।
২০১০ সালে মোবাইল ফোন অপারেটরদের শ্রম আইনের সংশ্লিষ্ট বিধানের আওতায় আনার সরকারি উদ্যোগের পর গ্রামীণফোন বিষয়টি হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ করে। ২০১৩ সালে শ্রম আইন সংশোধনের মাধ্যমে মোবাইল অপারেটরদের WPPF ব্যবস্থার আওতায় অন্তর্ভুক্তি আরও স্পষ্ট করা হয়। গ্রামীণফোনের নিজস্ব বক্তব্য অনুযায়ী, ২০১৩ সালের পর থেকে তারা নিয়মিতভাবে WPPF-এ অবদান রেখে আসছে।
তবে মূল বিরোধ তৈরি হয়েছে ২০১০–২০১২ সময়কালের WPPF অর্থের বিলম্বিত পরিশোধ এবং সেই বিলম্বের জন্য আইনগত সুদ নিয়ে।
সুদের হিসাব নিয়েই মূল বিরোধ
নতুন রিটে গ্রামীণফোন শ্রম আইনের সেই বিধানকে চ্যালেঞ্জ করেছে, যার অধীনে বকেয়া WPPF অর্থের ওপর সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের দেওয়া লভ্যাংশের ৭৫ শতাংশ হারে সুদ দেওয়ার দাবি উঠেছে। কোম্পানির পক্ষ থেকে তুলনামূলকভাবে কম একটি বিকল্প হিসাব—ব্যাংক হারের চেয়ে ২৫০ বেসিস পয়েন্ট বেশি—প্রযোজ্য করার পক্ষে অবস্থান নেওয়া হয়েছে।
অর্থাৎ, এই মামলার মূল প্রশ্ন শুধু বকেয়া অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে কি না—তা নয়; বরং দীর্ঘ সময় অর্থ আটকে থাকার কারণে আইন অনুযায়ী কত সুদ দিতে হবে, সেটিও এখন বড় আইনি প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
৪,৩০০-এর বেশি কর্মী মূল অর্থ পেয়েছেন: গ্রামীণফোন
গ্রামীণফোনের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালে হাইকোর্টের অনুমতি নিয়ে ২০১০–২০১২ সময়কালের মূল WPPF অর্থ ট্রাস্টি বোর্ডের মাধ্যমে বিতরণের ব্যবস্থা করা হয়। কোম্পানির দাবি, ৪ হাজার ৩০০-এর বেশি কর্মী ওই অর্থ গ্রহণ করেছেন এবং তৎকালীন কর্মী প্রতিনিধি সংগঠন Grameenphone People’s Council (GPPC)-এর সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে অনেকেই ভবিষ্যতে সুদের দাবি না করার বিষয়ে অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করেছিলেন।
তবে সাবেক কর্মীদের পক্ষ থেকে এই ব্যাখ্যার সঙ্গে দ্বিমত রয়েছে। তাঁদের দাবি, মূল অর্থ পাওয়া গেলেও বিলম্বজনিত আইনগত সুদের বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়নি এবং এ কারণেই তাঁরা শ্রম আদালতে পৃথকভাবে দাবি তুলেছেন।
হাজারের বেশি সাবেক কর্মীর শ্রম আদালতে মামলা
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রামীণফোন ২০২৩ সালে তাদের আগের রিট প্রত্যাহার করার পর এক হাজারের বেশি সাবেক কর্মী শ্রম আদালতে বিলম্বিত WPPF অর্থের ওপর আইনগত সুদ দাবি করে মামলা করেন। তাঁদের দাবি, দীর্ঘদিন অর্থ আটকে থাকার কারণে শ্রম আইনে নির্ধারিত সুদ প্রাপ্য হয়েছে।
সাবেক কর্মীদের সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে এ বিষয়ে আন্দোলনও করে আসছে। চলতি বছরও তারা গ্রামীণফোনের প্রধান কার্যালয়ের সামনে অবস্থান ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছে এবং দাবি জানিয়েছে, তাঁদের আইনগত পাওনা দ্রুত নিষ্পত্তি করা হোক।
দাবিকৃত অর্থ নিয়ে বড় অঙ্কের হিসাব
সাবেক কর্মীদের পক্ষ থেকে বকেয়া সুদের যে অঙ্কগুলো সামনে আনা হচ্ছে, তা অত্যন্ত বড়। তবে এসব হিসাব আদালতের চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত দায় নয়। গ্রামীণফোনও সাবেক কর্মীদের দাবিকৃত হিসাব ও আইনি ব্যাখ্যার সঙ্গে একমত নয়। ফলে বর্তমানে যে বিপুল অঙ্কের দাবি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, সেটিকে চূড়ান্ত পাওনা হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক হবে না।
গ্রামীণফোন: বিষয়টি আদালতেই নিষ্পত্তি হবে
গ্রামীণফোন বলছে, সাবেক কর্মীদের উত্থাপিত দাবিগুলো বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন এবং কোম্পানি বিচারিক প্রক্রিয়ার প্রতি শ্রদ্ধাশীল। কোম্পানির ভাষ্য অনুযায়ী, তারা আইন মেনে WPPF-সংক্রান্ত দায় পালন করেছে এবং ২০১০–২০১২ সময়কালের মূল অর্থও আদালতের অনুমোদন নিয়ে পরিশোধ করা হয়েছে।
অন্যদিকে সাবেক কর্মীদের অবস্থান হলো—মূল অর্থ পরিশোধের পরও বিলম্বজনিত আইনগত সুদ তাঁদের পাওনা হিসেবে রয়ে গেছে এবং সেই দাবির নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিরোধের অবসান হচ্ছে না।
সামনে এখন আদালতের সিদ্ধান্ত
দীর্ঘ ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা এই বিরোধের কেন্দ্রবিন্দু এখন WPPF-এর বিলম্বিত অর্থের ওপর কোন আইনি সূত্রে এবং কত হারে সুদ নির্ধারিত হবে। গ্রামীণফোনের নতুন রিটের পর হাইকোর্টের সিদ্ধান্ত এই বিরোধের ভবিষ্যৎ গতিপথে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে যতক্ষণ আদালত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না দিচ্ছে, ততক্ষণ সাবেক কর্মীদের দাবিকৃত কোনো নির্দিষ্ট অঙ্ককে গ্রামীণফোনের চূড়ান্ত দায় হিসেবে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।
New York Voice Bangla |