Columbus, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬
বিজ্ঞাপন 728 × 90
সর্বশেষ খবর
আগামীকাল দেশে আসছে সৌদি আরবের আগুনে নিহত নওগাঁর বাকি ৫ জনের মরদেহ দীর্ঘ আট বছর পর চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন শ্রীমঙ্গলে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শোভাযাত্রা কুলাউড়ায় ডাকাতির ঘটনায় ২ জনসহ গ্রেপ্তার-৭ কেন্দুয়ায় জুয়ার আসরে পুলিশের হানা, দুই ইউপি সদস্যসহ আটক ৬ নেত্রকোণায় ভ্যানের গোপন চেম্বারে লুকিয়ে অভিনব কৌশলে বিদেশী মদ পাচারকালে আটক ১ উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন ঝাড়ুকে দল থেকে বহিষ্কার যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মৌলভীবাজার জেলা যুবদলের আলোচনা সভা শ্রীমঙ্গল রেলস্টেশনে টিকিট কালোবাজারিতে যুক্ত ১ যুবককে গ্রেপ্তার আলোচিত সাবানা বেগম হত্যা মামলার চার জনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ কুড়িগ্রামে জেলা পরিবার পরিকল্পনার উপ-পরিচালকের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুনীতির অভিযোগ উঠেছে নোয়াখালীতে দেশীয় অস্ত্র তৈরির কারখানায় ডিবির অভিযান, বন্দুক ও সরঞ্জামসহ আটক ১ কোম্পানীগঞ্জে পল্টন ট্রাজেডি দিবসে জামায়াতের বিক্ষোভ কুষ্টিয়ায় ছয় হত্যা: হানিফের মৃত্যুদণ্ড, তিন আওয়ামী লীগ নেতার আমৃত্যু কারাদণ্ড। ফেনসিডিল মামলায় বেনাপোলের দুই ব্যক্তির ১০ বছর করে কারাদণ্ড
হোম › রাজনীতি › কোম্পানীগঞ্জে পল্টন ট্রাজেডি দিবসে জামায়াতের বিক্ষোভ

কোম্পানীগঞ্জে পল্টন ট্রাজেডি দিবসে জামায়াতের বিক্ষোভ

নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১১:২৭ পিএম, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬ 2
কোম্পানীগঞ্জে পল্টন ট্রাজেডি দিবসে জামায়াতের বিক্ষোভ
মোহাম্মদ উল্যা
মোহাম্মদ উল্যানোয়াখালী প্রতিনিধি॥

“লগি-বৈঠায় হত্যাকাণ্ডের বিচার ও শেখ হাসিনাসহ অভিযুক্তদের শাস্তির দাবি”


২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর রাজধানীর পল্টনে লগি-বৈঠা দিয়ে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচার ও ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।


বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা ও বসুরহাট পৌরসভা শাখার উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়। এতে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন।


বিকেলে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা জামে মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি বসুরহাট বাজারের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে আরডি শপিং মলের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশটি সঞ্চালনা করেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি জিয়াউল হক জিয়া।


সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমির ও নোয়াখালী-৫ আসনে দলটির সাবেক সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যক্ষ বেলায়েত হোসেন।


এ সময় বক্তব্য দেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মিজানুর রহমান, বসুরহাট পৌরসভা জামায়াতের আমির ও দলীয় মেয়র প্রার্থী মাওলানা মোশাররফ হোসাইন এবং চরপার্বতী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন জামায়াতের আমির কাজী মো. হানিফ আনসারী। এ ছাড়া উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মী, সমর্থক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।


সমাবেশে বক্তারা বলেন, ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর রাজধানীর পল্টনে প্রকাশ্যে লগি-বৈঠা দিয়ে মানুষ হত্যার ঘটনা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি রক্তাক্ত অধ্যায়। ওই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা জরুরি। তাঁরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।


বক্তারা আরও বলেন, পল্টন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলাগুলোর যথাযথ তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম নিশ্চিত করতে হবে। শেখ হাসিনাসহ ওই হত্যাকাণ্ডে জড়িত বলে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তাঁরা।


তাঁরা বলেন, জামায়াতে ইসলামীকে ছোট দল হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। জনগণের অধিকার, ন্যায়বিচার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে দলটি ঐক্যবদ্ধ রয়েছে। দেশে ফ্যাসিবাদী রাজনীতির পুনরাবৃত্তি রোধ এবং মানুষের বাক্‌স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।


বক্তারা আরও বলেন, “হাসিনা আর ফিরে আসবে না। তাঁর রাজনীতির পরিসমাপ্তি ঘটেছে।” তাঁদের ভাষ্য, অতীতের রাজনৈতিক সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলোর বিচার নিশ্চিত না হলে দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথ বাধাগ্রস্ত হবে।


সমাবেশে ২৮ অক্টোবরের ঘটনাকে দেশের রাজনৈতিক সংকটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, রাজনৈতিক সহিংসতার পুনরাবৃত্তি রোধে নিরপেক্ষ তদন্ত, আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা অপরিহার্য।


উল্লেখ্য, ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর তৎকালীন চারদলীয় জোট সরকারের মেয়াদ শেষে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ওই দিন রাজধানীর বায়তুল মোকাররম ও পল্টন এলাকায় আওয়ামী লীগ ও জামায়াতে ইসলামীর পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। লগি-বৈঠাসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগে ঘটনাটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। পরবর্তী সময়ে দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও বৃদ্ধি পায় এবং ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি জরুরি অবস্থা জারি করা হয়।


কোম্পানীগঞ্জে আয়োজিত কর্মসূচিতে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা পল্টন ট্রাজেডির বিচার, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি এবং দেশে গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন।