Columbus, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬
বিজ্ঞাপন 728 × 90
সর্বশেষ খবর
জেলা পুলিশের বিভাগীয় পদোন্নতি পরীক্ষা ২০২৫ অনুষ্ঠিত উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও নিলামে চায়ের মূল্য বাড়ছে না শীতের আমেজে ফুটবল উন্মাদনা, কুড়িগ্রামে বসছে যোগীপাড়া মিনিবার টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় আসর আহ্বায়ক-সদস্য সচিব দুই সরকারি শিক্ষক! ফুলবাড়ী বিএনপিতে চরম ক্ষোভ, কেন্দ্রে নালিশ কুড়িগ্রামে দৈনিক কালবেলার জেলা কার্যালয় উদ্বোধন, জেলার রাজনৈতিক সাংবাদিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দের মিলন মেলায় পরিনত নেপালের রাষ্ট্রদূতের সাথে স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ: সার্ক পুনরুজ্জীবিতকরণ, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং পারস্পরিক বাণিজ্য সম্ভাবনা বৃদ্ধিতে গুরুত্বারোপ পলাশে সমতা, ডিজিটাল নিরাপত্তা ও তরুণদের অধিকার বিষয়ে আলোচনা সভা প্রতিমন্ত্রীর সফরের মধ্যেই উত্তপ্ত কুমারখালী, হাতাহাতির ঘটনায় লাঞ্ছিত ৩ সাংবাদিক চিকিৎসকের বদলে অন্য ব্যক্তির সিজার করায় নবজাতকের মৃত্যু; হাসপাতাল মালিক গ্রেপ্তার নওগাঁয় প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত ১, আহত ৯ জন; আটক ১ শিক্ষার্থীদের নিয়ে দিনব্যাপি অনুষ্ঠিত হলো বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলা ‎নাসিরনগরে রাতের আঁধারে ২টি সেচ পাম্পের ট্রান্সফরমার চুরি, ভোগান্তিতে কৃষকরা নওগাঁয় পাচারকালে আটক সার কৃষকদের মাঝে বিক্রি; অর্থ গেলো সরকারি কোষাগারে নওগাঁয় বাছুরে খড় খাওয়া নিয়ে বিরোধ, হামলায় নিহত ১ কুড়িগ্রামে ছেলের ছুরিকাঘাতে মা খুন, বাবা গুরুতর আহত
হোম › জাতীয় › দেড় দশকে দেশে নার্সিং প্রতিষ্ঠান বেড়েছে ৪২১ শতাংশ তারপরেও নার্সের ঘাটতি

দেড় দশকে দেশে নার্সিং প্রতিষ্ঠান বেড়েছে ৪২১ শতাংশ তারপরেও নার্সের ঘাটতি

নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ০৩:২৪ এএম, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ 119
দেড় দশকে দেশে নার্সিং প্রতিষ্ঠান বেড়েছে ৪২১ শতাংশ তারপরেও নার্সের ঘাটতি

দেশে স্বাস্থ্যসেবা খাতে জনবল সংকটের চিত্র নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরেই প্রয়োজনের তুলনায় কম জনবল নিয়ে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলো স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। চিকিৎসক, নার্স, মিডওয়াইফারি ও অন্যান্য সহায়ক খাত—সব জায়গাতেই কর্মী সংকট রয়েছে। তবে এ সংকট সবচেয়ে প্রকটভাবে দেখা যায় নার্সদের ক্ষেত্রে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মানদণ্ড অনুযায়ী, দেশে প্রয়োজনীয় নার্সের তুলনায় বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ১৮ শতাংশ। অর্থাৎ ঘাটতি রয়ে গেছে প্রায় ৮২ শতাংশ। অথচ পরিসংখ্যান বলছে, গত দেড় দশকে নার্সিং কলেজ ও ইনস্টিটিউটের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৪২১ শতাংশ।


স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বাংলাদেশ হেলথ ওয়ার্কফোর্স স্ট্র্যাটেজি ২০২৪-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১০ সালে দেশে মোট নার্সিং কলেজ ও ইনস্টিটিউটের (নার্সিং ও মিডওয়াইফারি) সংখ্যা ছিল ৮৭টি, ২০১৬ সালে ছিল ২২১টি, ২০২০ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩৯৭টিতে। বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিলের সর্বশেষ তথ্যানুসারে চলতি বছর প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৫৩টিতে। অর্থাৎ দেড় যুগে তা ৪২১ শতাংশ বেড়েছে। এর মধ্যে ৭০টি সরকারি এবং ৩৮৩টি বেসরকারি। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রতি বছর ভর্তি হচ্ছেন ৩৬ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী।



ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী, সেবার ক্ষেত্রে চিকিৎসক ও নার্সের অনুপাত হওয়া উচিত ১:৩। অর্থাৎ একজন চিকিৎসকের সঙ্গে কাজ করবেন তিনজন নার্স। এ অনুপাত বজায় থাকলে চিকিৎসাসেবা হবে সুষ্ঠু ও মানসম্পন্ন। স্বাস্থ্য সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জনসংখ্যার ভিত্তিতে বাংলাদেশে বর্তমানে অন্তত ৩ লাখ ১০ হাজার ৫০০ নার্স থাকার কথা। কিন্তু বাস্তবে আছেন মাত্র ৫৬ হাজার ৭৩৪ জন। অর্থাৎ ডব্লিউএইচওর মানদণ্ড অনুযায়ী মানসম্মত চিকিৎসাসেবার জন্য যে সংখ্যক নার্স প্রয়োজন, তার মাত্র ১৮ শতাংশ রয়েছে দেশে, যা প্রয়োজনের তুলনায় প্রায় ৮২ শতাংশ কম।

বাংলাদেশ নার্সেস অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব আসাদুজ্জামান জুয়েল বণিক বার্তাকে বলেন, ‘দেশে নার্সিংয়ের জনবল সংকট রয়েছে। অপরদিকে নার্সিং ইনস্টিটিউট ও কলেজের সংখ্যা বাড়ছে। বেশি বাড়ছে বেসরকারি পর্যায়ে। আমরা সামগ্রিকভাবে কোয়ান্টিটির চেয়ে কোয়ালিটির দিকটি মাথায় রাখছি। বিগত সরকারের আমলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান অনুমোদন পেয়েছে। এর মধ্যে অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান শিক্ষার মান বজায় রাখছে। তবে ঢাকার বাইরে জেলা পর্যায়ে কিছু প্রতিষ্ঠান মানদণ্ড মেনে চলছে না। আমরা এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়ার চেষ্টা করছি। এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলেছি। লিখিত আকারেও দিয়েছি। আশা করি খুব দ্রুতই এ সমস্যা নিরসনে পদক্ষেপ নেয়া হবে।’

বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের চিকিৎসাসেবার মান অসন্তোষজনক হওয়ার অন্যতম কারণ নার্স সংকট। নার্সিং ইনস্টিটিউটের সংখ্যা বাড়লেও সেগুলোর গুণগত মান বাড়েনি। বছরে ৩৬ হাজারের বেশি সংখ্যক শিক্ষার্থী ভর্তি হলেও পাস করে বের হওয়ার পর বেশির ভাগই থাকছে বেকার। তাদের একটি অংশ প্রাইভেট হাসপাতালে নিয়োগ পাচ্ছে। তবে দক্ষতা ও স্বল্প বেতনের কারণে সেখানেও তৈরি হচ্ছে অনাগ্রহ। সরকারি অনেক পদও খালি। নিয়োগ কার্যক্রম-সংক্রান্ত পরিকল্পনার অভাবে নার্সদের একটি বড় অংশ পদ ফাঁকা রয়েছে।

ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন ফর মেডিকেল এডুকেশনের (ডব্লিউএফএমই) সাবেক জ্যেষ্ঠ পরামর্শক ও ডব্লিউএইচওর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াবিষয়ক সাবেক উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. মোজাহেরুল হক বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আমাদের সঠিক পরিকল্পনা দরকার। বর্তমানে কতজন নার্স প্রয়োজন এবং ভবিষ্যতে কী পরিমাণ নার্সের প্রয়োজন হতে পারে। কোন কোন বিশেষায়িত ক্ষেত্রে নার্সের প্রয়োজন রয়েছে সেগুলো নিয়ে সরকারি পর্যায়ে একটি কৌশলগত পরিকল্পনা দরকার। প্রতি বছর যে ইনস্টিটিউটগুলোয় হাজার হাজার নার্স তৈরি হচ্ছে, তারা সঠিকভাবে প্রশিক্ষিত করছে কিনা সে বিষয়ে তদারকি জরুরি। এসব ইনস্টিটিউটের বেশির ভাগ নার্সই প্রশিক্ষিত না। সেগুলোয় পর্যাপ্ত শিক্ষক ও প্রয়োজনীয় ইকুইপমেন্ট নেই। আগামী দিনে নার্সিংয়ের ঘাটতি পূরণে বিজ্ঞানসম্মত ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। কর্মরত নার্সদেরও প্রশিক্ষণ দিতে হবে। নার্সিং পাস করার পর তাদের রেজিস্ট্রেশন দেয়ার আগে একটি পরীক্ষা নেয়া জরুরি।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাকা মেডিকেল কলেজে কর্মরত এক নার্স বণিক বার্তাকে বলেন, ‘মৌলিক নার্সিং সেবার কাজের তালিকা বেশ দীর্ঘ। গতানুগতিক কাজের বাইরেও আরো বিশেষায়িত অনেক কাজ রয়েছে। অনেক ধরনের কাজই আমরা জানি না। আমাদের প্রশিক্ষণও দেয়া হয় না। আবার অতিরিক্ত চাপও সামলাতে হয়। হয়তো ছয়জন রোগীকে সেবা দেয়ার কথা, কিন্তু দিতে হয় ৫০ জনকে। স্বাভাবিকভাবেই সব রোগীকে প্রয়োজনীয় সময় দেয়া সম্ভব হয় না। এতে রোগী সন্তুষ্ট হয় না। সেবার মানেও ঘাটতি দেখা দেয়।’

জনবল ঘাটতি নিরসনে নিয়োগ কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) মো. মোমেন উদ্দিন। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘নার্সিং কলেজ ও ইনস্টিটিউটের সবকিছুর মনিটরিংয়ের দায়িত্ব আমার না। তবে নার্সিংয়ে জনবল সংকট সংক্রান্ত যে সমস্যা রয়েছে তা সমাধানের চেষ্টা করছি। সর্বশেষ আমাদের সাড়ে তিন হাজার নার্স নিয়োগ করা হয়েছে। আরো সাড়ে তিন হাজার নার্স নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। সব ঘাটতি একবারে পূরণ করা সম্ভব না। সরকারি পর্যায়ে যে ঘাটতি রয়েছে, সেগুলো আমরা পূরণের চেষ্টা চালাচ্ছি।’