Columbus, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬
বিজ্ঞাপন 728 × 90
সর্বশেষ খবর
উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও নিলামে চায়ের মূল্য বাড়ছে না শীতের আমেজে ফুটবল উন্মাদনা, কুড়িগ্রামে বসছে যোগীপাড়া মিনিবার টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় আসর আহ্বায়ক-সদস্য সচিব দুই সরকারি শিক্ষক! ফুলবাড়ী বিএনপিতে চরম ক্ষোভ, কেন্দ্রে নালিশ কুড়িগ্রামে দৈনিক কালবেলার জেলা কার্যালয় উদ্বোধন, জেলার রাজনৈতিক সাংবাদিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দের মিলন মেলায় পরিনত নেপালের রাষ্ট্রদূতের সাথে স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ: সার্ক পুনরুজ্জীবিতকরণ, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং পারস্পরিক বাণিজ্য সম্ভাবনা বৃদ্ধিতে গুরুত্বারোপ পলাশে সমতা, ডিজিটাল নিরাপত্তা ও তরুণদের অধিকার বিষয়ে আলোচনা সভা প্রতিমন্ত্রীর সফরের মধ্যেই উত্তপ্ত কুমারখালী, হাতাহাতির ঘটনায় লাঞ্ছিত ৩ সাংবাদিক চিকিৎসকের বদলে অন্য ব্যক্তির সিজার করায় নবজাতকের মৃত্যু; হাসপাতাল মালিক গ্রেপ্তার নওগাঁয় প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত ১, আহত ৯ জন; আটক ১ শিক্ষার্থীদের নিয়ে দিনব্যাপি অনুষ্ঠিত হলো বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলা ‎নাসিরনগরে রাতের আঁধারে ২টি সেচ পাম্পের ট্রান্সফরমার চুরি, ভোগান্তিতে কৃষকরা নওগাঁয় পাচারকালে আটক সার কৃষকদের মাঝে বিক্রি; অর্থ গেলো সরকারি কোষাগারে নওগাঁয় বাছুরে খড় খাওয়া নিয়ে বিরোধ, হামলায় নিহত ১ কুড়িগ্রামে ছেলের ছুরিকাঘাতে মা খুন, বাবা গুরুতর আহত যুক্তরাষ্ট্রে শরণার্থীদের স্ট্যাটাস বাতিলের বিরুদ্ধে আপিলের সময় কমে ১০ দিন
হোম › জাতীয় › পৃথিবী দেখেছে বাংলাদেশের মানুষ কীভাবে একনায়কতন্ত্র রুখে দিয়েছে ॥ জাতিসংঘে ভাষণে ড. ইউনূস

পৃথিবী দেখেছে বাংলাদেশের মানুষ কীভাবে একনায়কতন্ত্র রুখে দিয়েছে ॥ জাতিসংঘে ভাষণে ড. ইউনূস

নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ০৪:২৮ পিএম, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ 956
পৃথিবী দেখেছে বাংলাদেশের মানুষ কীভাবে একনায়কতন্ত্র রুখে দিয়েছে ॥ জাতিসংঘে ভাষণে ড. ইউনূস

আজ শুক্রবার (২৭ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় জাতিসংঘ সদর দপ্তরের জেনারেল অ্যাসেম্বলি হলে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৯তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, সারা পৃথিবী অবাক বিস্ময়ে দেখেছে কীভাবে সমগ্র বাংলাদেশের মানুষ একনায়কতন্ত্র, নিপীড়ন, বৈষম্য, অবিচার ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে রাজপথ এবং সামাজিক-যোগাযোগ মাধ্যমে দৃঢ়ভাবে রুখে দাঁড়িয়েছিল।


তিনি বলেন, আমাদের ছাত্র ও যুব সমাজের আন্দোলন প্রথমদিকে মূলত ছিল বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন। পর্যায়ক্রমে তা গণআন্দোলনে রূপ নেয়। এরপর সারা পৃথিবী অবাক বিস্ময়ে দেখেছে কীভাবে সমগ্র বাংলাদেশের মানুষ একনায়কতন্ত্র, নিপীড়ন, বৈষম্য, অবিচার ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে রাজপথ এবং সামাজিক-যোগাযোগ মাধ্যমে দৃঢ়ভাবে রুখে দাঁড়িয়েছিল। ড. ইউনূস বলেন, জুলাই-আগস্টে বাংলাদেশে যে যুগান্তকারী পরিবর্তন সংঘটিত হয়েছে, তার প্রেক্ষিতেই আজ আমি বিশ্বসম্প্রদায়ের এ মহান সংসদে উপস্থিত হতে পেরেছি। আমাদের গণমানুষের, বিশেষ করে তরুণ সমাজের, অফুরান শক্তি আমাদের বিদ্যমান রাষ্ট্র কাঠামো ও প্রতিষ্ঠানগুলোর আমূল রূপান্তরের এক নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।


প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আমাদের ছাত্রজনতা তাদের অদম্য সংকল্প ও প্রত্যয়ের মাধ্যমে একটি স্বৈরাচারী ও অগণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা থেকে আমাদের মুক্তি এনে দিয়েছে। তাদের এই সম্মিলিত সংকল্পের মধ্যেই আমাদের দেশের ভবিষ্যত নিহিত, যা এ দেশটিকে বিশ্ব সম্প্রদায়ের মাঝে একটি দায়িত্বশীল জাতির মর্যাদায় উন্নীত করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

তিনি বলেন, এই গণআন্দোলন রাজনৈতিক অধিকার ও উন্নয়নের সুবিধা বঞ্চিত বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণকে ঐক্যবদ্ধ করেছে। বাংলাদেশের মানুষ উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অন্তর্ভুক্তিমূলক অংশীদারিত্ব চেয়েছিল। আমাদের জনগণ একটি ন্যায্য, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও কার্যকর গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছে, যার জন্য আমাদের নতুন প্রজন্ম জীবন উৎসর্গ করেছিল।

ভাষণে কোটা সংস্কার আন্দোলনকে গণঅভ্যুত্থানে রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে তরুণদের অদম্য সাহসের ভূয়সী প্রশংসা করেন ড. ইউনূস। তিনি বলেন, আমাদের এই তরুণরা যে প্রজ্ঞা, সাহস ও প্রত্যয় দেখিয়েছে তা আমাদের অভিভূত করেছে। বন্দুকের গুলি উপেক্ষা করেও বুক পেতে দাঁড়িয়ে গিয়েছিল আমাদের এই তরুণরা।

তিনি আরও বলেন, স্কুলপড়ুয়া কিশোর-কিশোরীরা নিঃশঙ্কচিত্তে উৎসর্গ করেছিল তাদের জীবন। শত শত মানুষ চিরতরে হারিয়েছে তাদের দৃষ্টিশক্তি। আমাদের মায়েরা, দিনমজুরেরা ও শহরের অগণিত মানুষ তাদের সন্তানদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নেমেছিল রাজপথে। তপ্ত রোদ, বৃষ্টি ও মৃত্যুভয়কে তোয়াক্কা না করে তারা সত্য ও ন্যায়সঙ্গত আকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে দীর্ঘকালব্যাপী রাষ্ট্রযন্ত্রকে পরিচালনা করার অশুভ ষড়যন্ত্রকে পরাভূত করেছিল। জনগণের এই আন্দোলনে আমাদের জানামতে, আট শতাধিক জীবন আমরা হারিয়েছি স্বৈরাচারী শক্তির হাতে।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশের এই ‘মুনসুন অভ্যুত্থান’ আগামী দিনগুলোতে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে মানুষকে মুক্তি ও ন্যায়বিচারের পক্ষে দাঁড়াতে প্রেরণা যুগিয়ে যাবে। আমাদের মুক্তি ও গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবে রূপ দিতে বিশ্ব সম্প্রদায়কে আমাদের নতুন বাংলাদেশের সঙ্গে নতুনভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানাই