Columbus, ২৫ আগস্ট, ২০২৬
বিজ্ঞাপন 728 × 90
সর্বশেষ খবর
মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশের আগ্রহ, নাগরিকত্ব প্রশ্নেও আলোচনায় হুমায়ুন কবির ১৮০ দিনে সরকার নিদারুণভাবে ব্যর্থ’—নাহিদ ইসলামের কঠোর সমালোচনা জামায়াতের ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ প্রস্তুত, শিগগিরই প্রকাশের ঘোষণা শফিকুর রহমানের চব্বিশের আন্দোলন “ফাইনাল যুদ্ধের রিহার্সেল” শিক্ষায় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত, কারিগরি শিক্ষায় জোর দিচ্ছে সরকার ব্যস্ত জীবনে সুস্থ থাকার সহজ উপায়, প্রতিদিনের অভ্যাসেই বড় পরিবর্তন বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক: বন্ধুত্ব চাই, আধিপত্য নয় এলএনজি সংকটে চাপে বাংলাদেশ, সেপ্টেম্বরেও গ্যাস সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ Upper Pottsgrove-এ পুলিশি গুলিতে ২২ বছর বয়সী যুবক নিহত, তদন্ত চলছে Center City-তে AR-15-ধরনের রাইফেল নিয়ে ডাকাতি, অন্তত চার সন্দেহভাজনকে খুঁজছে পুলিশ শিশুকে ডুবে যাওয়া থেকে বাঁচালেন নারী, এরপরই Delaware River-এ নিখোঁজ যুক্তরাষ্ট্রের ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধের’ হুমকি প্রত্যাখ্যান ইরানের, পাল্টা জবাবের সতর্কবার্তা ইরানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্রের, তেহরানের সঙ্গে ব্যবসা করা দেশগুলোকে সতর্কবার্তা তারেক রহমানের ভারত সফর এখনো অনিশ্চিত, ঢাকা বলছে জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে আপস নয় আরাকানে সংঘাতের প্রভাব: প্রতি সপ্তাহে প্রায় ১৫০ নতুন রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসে UNHCR-এর সহায়তা চাইছে
হোম মতামত বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক: বন্ধুত্ব চাই, আধিপত্য নয়

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক: বন্ধুত্ব চাই, আধিপত্য নয়

নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ০১:৪৬ এএম, ২৫ আগস্ট, ২০২৬ 3
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক: বন্ধুত্ব চাই, আধিপত্য নয়

মো. নাজমুল হাসান বাবু ॥

বাংলাদেশ ও ভারত—দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্ক শুধু কূটনৈতিক নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে ইতিহাস, সংস্কৃতি, অর্থনীতি ও মানুষের আবেগ। তাই ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সুসম্পর্ক থাকা জরুরি। কিন্তু সেই সম্পর্ক কখনোই এমন হতে পারে না, যেখানে একজনের স্বার্থ বড় আর অন্যজনের স্বার্থ গৌণ হয়ে যায়।


আমার দৃষ্টিতে, তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, সেটিকে কেবল একটি সফর হচ্ছে কি না—এই প্রশ্নে দেখলে বিষয়টির গভীরতা বোঝা যাবে না। এর মধ্যে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিতও রয়েছে। বাংলাদেশ এখন এমন একটি সম্পর্কের কথা বলতে চাইছে, যেখানে বন্ধুত্ব থাকবে, সহযোগিতা থাকবে, কিন্তু সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে থাকবে জাতীয় স্বার্থ ও পারস্পরিক সম্মানের অগ্রাধিকার।


গত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ককে অনেক সময় ‘বন্ধুত্বের’ দৃষ্টান্ত হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষের একটি বড় অংশের প্রশ্ন ছিল—এই বন্ধুত্বের বাস্তব সুফল বাংলাদেশ কতটা পেয়েছে? সীমান্তে প্রাণহানি, তিস্তার পানিবণ্টন, বাণিজ্য বৈষম্যসহ বিভিন্ন ইস্যুতে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত প্রশ্নগুলো সেই বিতর্ককে আরও জোরালো করেছে।


বাংলাদেশ ভারতের বৈধ স্বার্থকে সম্মান করবে—এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু বাংলাদেশের ভূখণ্ড, বাজার, নদীর পানি, নিরাপত্তা কিংবা কৌশলগত অবস্থান কোনো দেশের একতরফা সুবিধা অর্জনের মাধ্যম হতে পারে না। একইভাবে ভারতকেও বাংলাদেশের সার্বভৌম সিদ্ধান্ত ও জনগণের স্বার্থকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে।


তাই বর্তমান সরকারের ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্নির্ধারণের প্রচেষ্টাকে আমি ভারতবিরোধী অবস্থান হিসেবে দেখি না। বরং এটি হওয়া উচিত সমতার ভিত্তিতে নতুন সম্পর্ক গড়ার উদ্যোগ। এমন সম্পর্ক, যেখানে ঢাকা দিল্লির দিকে তাকিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে না; বরং দুই দেশ আলোচনার টেবিলে বসবে সমমর্যাদার অংশীদার হিসেবে।


তারেক রহমানের ভারত সফর শেষ পর্যন্ত হোক বা না হোক, মূল প্রশ্নটি সফর নয়—মূল প্রশ্ন হলো, বাংলাদেশ তার জাতীয় স্বার্থের জায়গায় কতটা দৃঢ় থাকতে পারছে।


আমরা ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্ব চাই। সহযোগিতা চাই। শান্তি ও স্থিতিশীলতা চাই। কিন্তু সেই বন্ধুত্বের ভিত্তি হতে হবে সম্মান ও সমতা।


বাংলাদেশ কারও প্রতিপক্ষ হতে চায় না; তবে বাংলাদেশ কারও অধীনও হতে চায় না।