শিক্ষায় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত, কারিগরি শিক্ষায় জোর দিচ্ছে সরকার
ঢাকা: বাংলাদেশের শিক্ষা খাতে দীর্ঘদিনের নানা সংকটের মধ্যে সরকার এখন দক্ষতাভিত্তিক ও কর্মমুখী শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলছে। সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের কয়েকটি বক্তব্যে এ নীতিগত পরিবর্তনের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।
গত ২৩ আগস্ট শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, দেশের বিপুল জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তর করতে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণের (TVET) বিকল্প নেই। তাঁর মতে, দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন এবং বৈশ্বিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের কর্মীদের সক্ষমতা বাড়াতে দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ।
তবে বাস্তব চিত্রে বড় একটি চ্যালেঞ্জও সামনে এসেছে। শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের আগ্রহের অভাবে দেশের অনেক পলিটেকনিক ও ভোকেশনাল প্রতিষ্ঠানের আসন খালি থাকছে। একই সময়ে সরকার আরও চারটি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে।
শিক্ষা খাতের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হলো শিক্ষক সংকট। সম্প্রতি শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, সমস্যার সমাধানে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের নিয়ে ‘রিটায়ার্ড টিচার্স পুল’ গঠনের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।
এদিকে ২০২৭ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার সময়সূচিও নতুন করে নির্ধারণ করা হয়েছে। পরীক্ষা আগামী ১৪ মার্চ শুরু হয়ে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে।
সব মিলিয়ে সরকারের বক্তব্যে একটি বিষয় স্পষ্ট—শুধু সনদনির্ভর শিক্ষা নয়, কর্মসংস্থান ও বাস্তব দক্ষতার সঙ্গে শিক্ষাকে যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব বাড়ছে। তবে এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে শিক্ষক সংকট দূর করা, কারিগরি শিক্ষার প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়ানো এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর মান নিশ্চিত করাই হবে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।