এলএনজি সংকটে চাপে বাংলাদেশ, সেপ্টেম্বরেও গ্যাস সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ
ঢাকা: আন্তর্জাতিক বাজারে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) দাম বৃদ্ধি, সরবরাহ সংকট এবং প্রয়োজনীয় কার্গো সংগ্রহে জটিলতার কারণে বাংলাদেশে গ্যাস সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পকারখানা, সার উৎপাদন থেকে শুরু করে আবাসিক গ্রাহকরাও এর প্রভাব ভোগ করছেন।
সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, দেশের দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৪ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি)। এর বিপরীতে সাম্প্রতিক সময়ে সরবরাহ নেমে এসেছে প্রায় ২ হাজার ৪০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ এমএমসিএফডিতে। ফলে দৈনিক ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ এমএমসিএফডি।
এদিকে এলএনজি আমদানির ক্ষেত্রেও দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। আগস্টের জন্য কয়েক দফা দরপত্র আহ্বান করেও প্রয়োজনীয় পরিমাণ কার্গো পাওয়া যায়নি। সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকারকে তুলনামূলক বেশি দামে এলএনজি কিনতে হচ্ছে। জরুরি ভিত্তিতে সেপ্টেম্বরের জন্য আরও দুই কার্গো এলএনজি কেনার অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। একটি কার্গো প্রতি এমএমবিটিইউ ২৪.৬২৫ ডলার এবং অন্যটি ২৪.২৫ ডলার দরে কেনা হচ্ছে।
জ্বালানি সংকটের প্রভাব পড়ছে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও। গ্যাসের ঘাটতির কারণে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় চলতে পারছে না। শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, কোথাও কোথাও বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করতে হচ্ছে। আবাসিক এলাকাতেও কম গ্যাসের চাপ এবং দীর্ঘ সময় সরবরাহ না থাকার অভিযোগ রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্থানীয় গ্যাস উৎপাদন কমে যাওয়া এবং আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির উচ্চমূল্যের পাশাপাশি সরবরাহ অনিশ্চয়তা বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সরকারকে দ্রুত আমদানি নিশ্চিত করার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি পরিকল্পনায় জোর দিতে হবে।