মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশের আগ্রহ, নাগরিকত্ব প্রশ্নেও আলোচনায় হুমায়ুন কবির
ঢাকা: সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের প্রস্তাবিত ‘মক্কা ডিফেন্স প্যাক্ট’ বা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশ আগ্রহী বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তাঁর এই বক্তব্যের পর বাংলাদেশের সম্ভাব্য নতুন কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রস্তাবিত চুক্তিতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশের আগ্রহ রয়েছে। তবে এ বিষয়ে বাংলাদেশের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা অংশগ্রহণের বিস্তারিত কাঠামো এখনো স্পষ্ট নয়। ফলে বিষয়টি নিয়ে কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যেও আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
একই দিনে হুমায়ুন কবিরের ব্রিটিশ নাগরিকত্ব নিয়েও সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়। এ প্রসঙ্গে তিনি নিজেকে বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, তিনি দেশের জন্যই কাজ করছেন। তাঁর এই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বাংলাদেশের সংবিধানে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের ক্ষেত্রে নাগরিকত্বের বিষয়ে নির্দিষ্ট বিধান রয়েছে। ফলে কোনো মন্ত্রিসদস্যের দ্বৈত নাগরিকত্ব আছে কি না—এমন প্রশ্ন উঠলে তা স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যেও এ বিষয়টি নিয়ে বিতর্কের কথা উঠে এসেছে।
তবে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির বিষয়টি আলাদা গুরুত্ব বহন করছে। সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে সম্ভাব্য প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাংলাদেশের পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা নীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। একই সঙ্গে এ ধরনের কোনো চুক্তিতে যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, আঞ্চলিক ভারসাম্য এবং বিদ্যমান আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ।
এখন মূল নজর থাকবে—বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত এই প্রতিরক্ষা উদ্যোগে কী অবস্থান নেয় এবং বিষয়টি বাস্তবে কোন পর্যায়ে যায়।