অনলাইন, ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বিজ্ঞাপন 728 × 90
সর্বশেষ খবর
বিএনপি ক্ষমতায় আসা মানেই দুর্নীতি-সংকট—সংসদে রুমিনের বিস্ফোরক বক্তব্য হাটহাজারীতে ফিল্ড ফায়ারিংয়ে দুর্ঘটনা: ২ সেনাসদস্য নিহত, আহত কর্মকর্তা বুলগেরিয়ার IJSO-তে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবে ৬ মেধাবী শিক্ষার্থী এশিয়া কাপের সেমিফাইনালে বাংলাদেশ-ভারত মহারণ, ম্যাচ বৃহস্পতিবার খেলনা বিমান’ বলায় বিপাকে নোরা ফাতেহি, ৩ কোটি রুপির মানহানি মামলা ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, প্রাণ-আরএফএল, আড়ং ও মোল্লা সল্টে নতুন নিয়োগ স্যামসাংয়ের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের চিপ উন্নয়নে সহযোগিতা বাড়াচ্ছে OpenAI দিল্লির নদী উৎসবে বাংলাদেশের প্রামাণ্যচিত্র ‘পানকৌড়ি’ মাধ্যমিক শিক্ষকদের ৪২ দিনের পেশাগত প্রশিক্ষণ, শুরু ১২ সেপ্টেম্বর ইউএস ওপেনে সেমিফাইনালে তিয়াফো-শেলটন, বিদায় ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আলকারাজ যুক্তরাষ্ট্রে অ্যাসাইলাম আবেদনে বড় ধাক্কা, প্রত্যাখ্যানের হার ৯৪ শতাংশ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোনো বেআইনি নির্দেশ দেবে না ইসি মিস ওয়ার্ল্ডে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক স্বীকৃতি নিয়ে দেশে ফিরলেন সামানজার সাঈদ সোনাইমুড়ী-চাষীরহাটে হেযবুত তওহীদের কার্যক্রম তদন্তের দাবি হেফাজতে ইসলামের অন্যায়ের বিরুদ্ধে ছাত্রদের দাঁড়াতে হবে, লেখাপড়াও চালিয়ে যেতে হবে: এলজিআরডি মন্ত্রী
হোম জাতীয় বিএনপি ক্ষমতায় আসা মানেই দুর্নীতি-সংকট—সংসদে রুমিনের বিস্ফোরক বক্তব্য

বিএনপি ক্ষমতায় আসা মানেই দুর্নীতি-সংকট—সংসদে রুমিনের বিস্ফোরক বক্তব্য

নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১২:২৬ পিএম, ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ 16
বিএনপি ক্ষমতায় আসা মানেই দুর্নীতি-সংকট—সংসদে রুমিনের বিস্ফোরক বক্তব্য

নিউজ ডেস্ক | নিউইয়র্ক ভয়েস বাংলা


জাতীয় সংসদে বিএনপির অতীত শাসনামল নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। গ্যাস-বিদ্যুৎ ও সার সংকট, দুর্নীতি এবং ঋণখেলাপির প্রসঙ্গ তুলে বিএনপি ক্ষমতায় এলে এসব সংকট আবারও তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।


বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে ব্যাংক রেজল্যুশন (সংশোধন) বিল নিয়ে আলোচনার সময় বক্তব্য দেন রুমিন ফারহানা। তাঁর বক্তব্যের একপর্যায়ে সংসদে ব্যাপক হট্টগোল শুরু হয়। সরকারি দলের সদস্যরা প্রতিবাদ জানালেও তিনি বক্তব্য চালিয়ে যান।


বক্তব্যের শুরুতেই রুমিন ফারহানা বলেন, “প্রত্যেকটা সরকারের একটা চরিত্র থাকে।” এরপর বিএনপির ক্ষমতায় আসা এবং অতীতের বিভিন্ন সংকটের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট হবে না—এমনটা হওয়ার সম্ভাবনা নেই। একইভাবে সার সংকট এবং কৃষকদের সারসংক্রান্ত ভোগান্তির বিষয়টিও তিনি তুলে ধরেন।


এরপর দুর্নীতির প্রসঙ্গ টেনে রুমিন বলেন, “বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আর দুর্নীতিতে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হবে না”— এমনটা হওয়ার সম্ভাবনা নেই। একই ধারাবাহিকতায় তিনি ঋণখেলাপির প্রসঙ্গও সামনে আনেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বিএনপি ক্ষমতায় থাকার সময় বাংলাদেশ ঋণখেলাপির ক্ষেত্রে বড় অবস্থানে পৌঁছেছিল এবং বিপুল পরিমাণ ঋণখেলাপির প্রসঙ্গও তিনি সংসদে তুলে ধরেন।


রুমিনের এই বক্তব্যের সময় সংসদে হইচই শুরু হলে তিনি সংসদের পরিবেশ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, “এত অসহিষ্ণু সংসদ, মনে হয় যেন একবারে আওয়ামী লীগের আমলে ফিরে গেছি আমরা।” এরপর আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তাঁর বক্তব্যের সময়ও হট্টগোল হওয়ার কথা উল্লেখ করে বর্তমান সংসদে একই ধরনের আচরণ—বরং আরও খারাপ আচরণ—হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন।


ঋণখেলাপি নিয়ে সরাসরি আক্রমণ


বক্তব্যের আরেক পর্যায়ে রুমিন ফারহানা বর্তমান সংসদের সদস্যদের মধ্যেও ঋণখেলাপি থাকার প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি দাবি করেন, নির্বাচনের আগে ঋণখেলাপির তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার জন্য আদালতে যাওয়ার প্রবণতা নতুন নয়; এটি দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ।


তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে দ্রুত ঋণখেলাপির তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার ঘটনা তিনি আগেও দেখেছেন। তাঁর এই বক্তব্যের পর সংসদে আবারও উত্তেজনা তৈরি হয়।


দুই মিনিটের সময় শেষ, মাইক বন্ধ


রুমিন ফারহানার জন্য নির্ধারিত বক্তব্যের সময় শেষ হয়ে গেলে তাঁর মাইক বন্ধ করে দেওয়া হয়। কিন্তু সংসদে তখনও হইচই চলছিল এবং তিনি মাইক ছাড়াই বক্তব্য চালিয়ে যান। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল একাধিকবার সংসদ সদস্যদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান।


পরে সংসদ ভবনে সাংবাদিকদের কাছে রুমিন ফারহানা অভিযোগ করেন, বিএনপির কয়েকজন সংসদ সদস্য তাকে অশালীন ভাষায় গালাগাল করেছেন। তবে তিনি কারও নাম উল্লেখ করেননি। এ নিয়ে সংসদে বিরোধী পক্ষের কয়েকজন সদস্যও প্রতিবাদ জানান।


ডেপুটি স্পিকারও বলেন, একজন সংসদ সদস্যকে বক্তব্য দিতে বাধা দেওয়া সংসদীয় গণতান্ত্রিক রীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বক্তব্যে অসংসদীয় কিছু থাকলে তা সংসদের চেয়ার থেকে বাদ দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে; কিন্তু বক্তব্য চলাকালে বাধা সৃষ্টি করা ঠিক নয়—এমন অবস্থানও তিনি জানান।


যে বিল নিয়ে এত বিতর্ক


রুমিন ফারহানার এই বক্তব্যের সময় যে ব্যাংক রেজল্যুশন (সংশোধন) বিল নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল, সেটি শেষ পর্যন্ত জাতীয় সংসদে পাস হয়। বিলটির আলোচিত ১৮(ক) ধারা বিলুপ্ত করার বিষয়টি আলোচনায় ছিল। সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগের একটি সংশোধনের মাধ্যমে এই ধারা যুক্ত হয়েছিল এবং পরবর্তী সময়ে তা নিয়ে সমালোচনা তৈরি হওয়ায় ধারা বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হয়।


অর্থাৎ, ব্যাংকিং খাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ আইন সংশোধনের আলোচনা থেকেই রুমিন ফারহানা বিষয়টিকে বিএনপির অতীত শাসন, ঋণখেলাপি, দুর্নীতি এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতির বৃহত্তর প্রসঙ্গে নিয়ে যান। আর সেখান থেকেই সংসদে তৈরি হয় তীব্র উত্তেজনা।


রুমিন ফারহানার বক্তব্যের মূল রাজনৈতিক বার্তা ছিল—বিএনপির অতীত শাসনামলে যেসব সমস্যা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, দলটি আবার ক্ষমতায় এলে সেসব সমস্যা ফিরে আসার আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে বিএনপির সংসদ সদস্যরা তাঁর বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ করেন। ফলে কয়েক মিনিটের বক্তব্য ঘিরেই সংসদে ব্যাপক হট্টগোলের সৃষ্টি হয়।