স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোনো বেআইনি নির্দেশ দেবে না ইসি
নিউজ ডেস্ক | নিউইয়র্ক ভয়েস বাংলা
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য করতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) কোনো ধরনের বেআইনি নির্দেশনা দেবে না বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। তিনি বলেছেন, নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে কমিশনের অঙ্গীকারে কোনো ঘাটতি নেই। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের ভিত্তিতেই নির্বাচন পরিচালনা করা হবে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স অডিটোরিয়ামে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে পুলিশের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সিইসি এসব কথা বলেন।
সিইসি বলেন, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে পুলিশের সক্ষমতার ওপর নির্বাচন কমিশনকে ব্যাপকভাবে নির্ভর করতে হবে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন খুব শিগগির আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি। নির্বাচনের তফসিল কবে ঘোষণা করা হবে—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার পর সময়মতো তফসিল ঘোষণা করা হবে।
নির্বাচনকে আরও স্বচ্ছ, নিরাপদ ও গ্রহণযোগ্য করতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর কথাও জানিয়েছেন এ এম এম নাসির উদ্দিন। নির্বাচনের সময় সিসিটিভি, বডি-ওর্ন ক্যামেরা, ডিজিটাল নজরদারি, অনলাইন মনিটরিং এবং মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি তাৎক্ষণিক পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা রাখা হবে। কোনো এলাকায় পরিস্থিতির অবনতি হলে প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত হস্তক্ষেপের ব্যবস্থাও থাকবে বলে জানান তিনি।
নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার আশ্বাস দিয়েছে পুলিশও। অনুষ্ঠানে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, সরকার দলীয় হলেও গণতান্ত্রিক সরকার। নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে নির্বাচন কমিশনের পরামর্শ অনুযায়ী পুলিশ প্রয়োজনীয় ইতিবাচক ব্যবস্থা নেবে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে মোট ৩৮ হাজার ৮৪৭ জন পুলিশ সদস্যকে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে এ প্রশিক্ষণ পূর্ণমাত্রায় শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। বুধবার প্রাথমিকভাবে ২২০ জন পুলিশ সদস্য প্রশিক্ষণে অংশ নেন।
সিইসি আরও জানান, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত হবে না। তবে প্রার্থীদের যোগ্যতা বিদ্যমান আইন অনুযায়ী নির্ধারিত হবে। আইনি বাধা না থাকলে যোগ্য প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারবেন। অন্যদিকে আইনগতভাবে অযোগ্য কোনো ব্যক্তি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অতীতে প্রার্থী ও সমর্থকদের মধ্যে সংঘাতের প্রবণতার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে নির্বাচন কমিশন। এমনকি একই পরিবারের একাধিক প্রার্থীর মধ্যেও বিরোধ ও সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে উল্লেখ করে সিইসি বলেন, নির্বাচনী সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নির্বাচন কমিশনের লক্ষ্য জাতীয় নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনকেও অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য করা। এজন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি এবং মাঠপর্যায়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।