সোনাইমুড়ী-চাষীরহাটে হেযবুত তওহীদের কার্যক্রম তদন্তের দাবি হেফাজতে ইসলামের
মোহাম্মদ উল্যা,
নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি:
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী ও চাষীরহাট এলাকায় হেযবুত তওহীদের কার্যক্রম, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। একই সঙ্গে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সংগঠনটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রাখারও দাবি জানানো হয়েছে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় সোনাইমুড়ী প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলন শেষে হেফাজতে ইসলামের একটি প্রতিনিধি দল সোনাইমুড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাছরিন আকতার ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. কবির হোসেনের কাছে পৃথক স্মারকলিপি দেয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে হেফাজতে ইসলামের নেতৃবৃন্দ হেযবুত তওহীদের কার্যক্রম, আর্থিক লেনদেন, ভূমি ক্রয়, চাষীরহাট এলাকায় অবস্থানরত বহিরাগত সদস্যদের পরিচয়, সংগঠনটির প্রকাশনা ও অনলাইন কার্যক্রম, প্রশিক্ষণ এবং অস্ত্রসংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগের তদন্ত দাবি করেন।
তারা এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে বিশেষ তদন্তের আহ্বান জানান। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি করেন তারা।
এ ছাড়া তদন্ত চলাকালে হেযবুত তওহীদের সাংগঠনিক কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা, সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ, সংগঠনটির প্রকাশনা ও অনলাইন কার্যক্রম পর্যালোচনা এবং চাষীরহাট এলাকায় অবস্থানরত বহিরাগত সদস্যদের পরিচয় ও তালিকা প্রশাসনের কাছে সংরক্ষণের দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে হেফাজতে ইসলাম নোয়াখালী জেলা শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতি মাওলানা সিদ্দিক আহমেদ নোমান, মুফতি মুহাম্মদ আছেম, সোনাইমুড়ী উপজেলা শাখার সভাপতি মাওলানা আমিনুল হক, মুফতি ফয়েজ মাহমুদ, উপজেলা শাখার সেক্রেটারি মাওলানা শফিকুল ইসলামসহ স্থানীয় আলেম-ওলামা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
হেফাজতে ইসলামের নেতৃবৃন্দ বলেন, হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে অনুমান বা গুজবের ভিত্তিতে নয়, বরং নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদঘাটন করা প্রয়োজন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া এবং অভিযোগ প্রমাণিত না হলে সংশ্লিষ্টদের দায়মুক্তির বিষয়টিও নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা।
এদিকে, হেযবুত তওহীদের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনটির ভারসাম্য ও পূর্ণতা আরও নিশ্চিত করবে।