বিশ্বজুড়ে মার্কিন ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্টে সাময়িক স্থগিতাদেশ
ওয়াশিংটন: যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন বিশ্বজুড়ে মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলোতে ভিসা সাক্ষাৎকারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট সাময়িকভাবে স্থগিত বা পুনর্নির্ধারণের উদ্যোগ নিয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, বিশ্বব্যাপী কনস্যুলার কর্মকর্তাদের জন্য একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। প্রশিক্ষণের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে বিভিন্ন স্থানে ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্টের সময়সূচি পরিবর্তন করা হচ্ছে।
মার্কিন প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, এই প্রশিক্ষণের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো ভিসা আবেদনকারীদের আরও সমন্বিত ও বিস্তারিতভাবে যাচাই-বাছাই করা। বিশেষ করে কোনো আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি জনকল্যাণমূলক সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন কি না, সে বিষয়টি মূল্যায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
আবেদনকারীদের কী হবে?
ইতোমধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নির্ধারিত সাক্ষাৎকারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট পরিবর্তন বা বাতিলের বিষয়ে আবেদনকারীরা ই-মেইল পেয়েছেন বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। নতুন তারিখ ও সময় পরে জানানো হবে। তবে প্রশিক্ষণ কতদিন চলবে এবং সব জায়গায় ঠিক কবে থেকে স্বাভাবিক অ্যাপয়েন্টমেন্ট চালু হবে—এ বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এখনো নির্দিষ্ট সময়সীমা দেয়নি।
কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশেষ করে স্টুডেন্ট, ওয়ার্ক ও ট্যুরিস্টসহ নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসার নির্ধারিত সাক্ষাৎকারও বিভিন্ন দেশে পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। কিছু আবেদনকারীকে ১ সেপ্টেম্বরের পর নতুন সময়ের জন্য অপেক্ষা করতে বলা হয়েছে। তবে সব দেশ ও সব আবেদনকারীর ক্ষেত্রে একই পরিস্থিতি প্রযোজ্য কি না, তা স্পষ্ট নয়।
বাংলাদেশিদের ওপর কী প্রভাব পড়তে পারে?
বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের নাগরিকদের ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যুতে আলাদা স্থগিতাদেশ দিয়েছিল। সেই সিদ্ধান্ত অবশ্য পর্যটন, ব্যবসা বা অন্যান্য নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ছিল না।
এমনকি জুন ২০২৬ থেকে ঢাকায় সব ধরনের ইমিগ্র্যান্ট ভিসার জন্য দুই দিনের প্রসেসিং ব্যবস্থা চালুর ঘোষণা দিয়েছিল মার্কিন দূতাবাস।
তবে ২২ আগস্ট নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালত ৭৫ দেশের ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিতের নীতিকে বেআইনি ঘোষণা করে। আদালতের মতে, জাতীয়তার ভিত্তিতে এভাবে ইমিগ্র্যান্ট ভিসা আটকে দেওয়া মার্কিন অভিবাসন আইনের কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বাংলাদেশও ওই ৭৫ দেশের তালিকায় ছিল।
নতুন সিদ্ধান্তের পেছনে বড় পরিবর্তন
সাম্প্রতিক অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্থগিতের ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও ভিসা ব্যবস্থায় চলমান কঠোরতার আরেকটি ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রশাসন বলছে, নতুন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মকর্তারা প্রতিটি আবেদন আরও ধারাবাহিক ও গভীরভাবে যাচাই করবেন। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ভিসা বাতিল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যাচাই এবং সম্ভাব্য সরকারি সুবিধা নির্ভরতা নিয়ে আবেদনকারীদের ওপর নজরদারি আরও বাড়িয়েছে।
তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়: বর্তমানে এটিকে সরাসরি “যুক্তরাষ্ট্র সব ধরনের ভিসা বন্ধ করে দিয়েছে” বলা পুরোপুরি নির্ভুল নয়। বরং বিশ্বব্যাপী ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট সাময়িকভাবে পুনর্বিন্যাস/স্থগিত করে প্রশিক্ষণ ও নতুন যাচাই প্রক্রিয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। যাদের অ্যাপয়েন্টমেন্ট নির্ধারিত ছিল, তাদের সংশ্লিষ্ট মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটের ই-মেইল ও অফিসিয়াল নির্দেশনা অনুসরণ করা উচিত।
তথ্যসূত্র: Reuters, U.S. Department of State, Financial Times, Associated Press।