রংপুরের চার খুনের পর পুলিশের বড় রদবদল: বদলি ১৯ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা
ঢাকা প্রতিনিধি॥
রংপুর নগরীতে একই পরিবারের চার সদস্য হত্যাকাণ্ডের পর বাংলাদেশ পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ে বড় ধরনের রদবদল করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পৃথক তিনটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ১৯ জন জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তাকে নতুন দায়িত্বে বদলি করা হয়েছে। এর মধ্যে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার পদেও পরিবর্তন আনা হয়েছে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, স্পেশাল ব্রাঞ্চের ডিআইজি মো. মাহবুবুর রশিদকে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পিবিআইয়ের ডিআইজি মো. হুমায়ুন কবিরকে র্যাবে অতিরিক্ত মহাপরিচালক হিসেবে বদলি করা হয়েছে। পুলিশ স্টাফ কলেজের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. হুমায়ুন কবিরকে পুলিশ সদর দপ্তরে এবং রেলওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. তোফায়েল আহমেদ মিয়াকে ঢাকা মহানগর পুলিশের যুগ্ম কমিশনার করা হয়েছে।
এ ছাড়া ঢাকা মহানগর পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মোহাম্মদ কামরুজ্জামানকে অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে পুলিশ সদর দপ্তরে বদলি, ডিএমপির উপকমিশনার আসলাম উদ্দিনকে পুলিশ সদর দপ্তরে পুলিশ সুপার এবং আরও কয়েকজন কর্মকর্তাকে পিবিআই, সিআইডি, এপিবিএন ও বিভিন্ন প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে পদায়ন করা হয়েছে।
রংপুরের হত্যাকাণ্ডে তদন্তেও পরিবর্তন
রদবদলের পাশাপাশি রংপুরের চার খুনের মামলার তদন্তও কোতোয়ালি থানা থেকে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অধিকতর নিবিড় তদন্ত এবং দ্রুত অভিযোগপত্র দেওয়ার লক্ষ্যেই তদন্তকারী সংস্থা পরিবর্তন করা হয়েছে। ডিবির পরিদর্শক মো. জিন্নাত আলীকে নতুন তদন্ত কর্মকর্তা করা হয়েছে।
রংপুর নগরীর মচ্ছুয়াপাড়া এলাকায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগমী চক্রবর্তী ও ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তী নিহত হন। পরে পুলিশ দুই তরুণকে গ্রেপ্তার করে এবং তাদের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ আনে।
রদবদলের তাৎপর্য কী?
একই সময়ে ১৯ কর্মকর্তার বদলি এবং রংপুর হত্যামামলার তদন্ত ডিবিতে স্থানান্তরের ঘটনা পুলিশের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে সরকারি প্রজ্ঞাপনে প্রতিটি বদলিকে সরাসরি ওই হত্যাকাণ্ডের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়নি। তাই পুরো রদবদলকে শুধু রংপুরের হত্যাকাণ্ডের দায়ে কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
তবে রংপুরের ঘটনা নিয়ে পুলিশের আগের বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন ওঠা এবং স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষের প্রেক্ষাপটে নতুন কমিশনার নিয়োগ ও তদন্তভার পরিবর্তন ঘটনাটিকে আরও গুরুত্বের সঙ্গে দেখার বার্তা দিচ্ছে।
এখন নজর কোথায়
নতুন পুলিশ কমিশনারের দায়িত্ব গ্রহণের পর রংপুরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং চার হত্যার তদন্ত কোন দিকে এগোয়—সেটিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে ডিবির তদন্তে নতুন কোনো তথ্য, অতিরিক্ত আসামির সম্পৃক্ততা বা হত্যার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও পরিষ্কার তথ্য বেরিয়ে আসে কি না, সেদিকেও নজর থাকবে।