হুমায়ুন কবিরের নিয়োগে আইনের ব্যত্যয় হয়নি: আইনমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিনিধি ||
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের ব্রিটিশ নাগরিকত্ব নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্কের মধ্যে তাঁর নিয়োগ ও শপথ সাংবিধানিক বিধান মেনেই হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, হুমায়ুন কবিরের নিয়োগের ক্ষেত্রে আইনের কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সচিবালয়ে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে একটি সমঝোতা স্মারক সই অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এর আগে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে হুমায়ুন কবিরের শপথের পর তাঁর ব্রিটিশ নাগরিকত্ব নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ওঠে।
আইনমন্ত্রী বলেন, সরকার সংবিধান মেনেই হুমায়ুন কবিরকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে এবং শপথ গ্রহণের ক্ষেত্রেও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, নিয়োগের সময় আইনের কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি।
এদিকে বুধবার প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদনে আইনমন্ত্রীর বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, হুমায়ুন কবির ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন। তবে এ বিষয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বক্তব্যের উপস্থাপনায় কিছু পার্থক্য রয়েছে। ফলে নাগরিকত্ব ত্যাগের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া কখন সম্পন্ন হয়েছে—এ নিয়ে জনপরিসরে যে প্রশ্ন উঠেছে, তা নিয়ে আরও স্পষ্ট তথ্যের প্রয়োজন রয়েছে।
বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৬ ও ৬৬ অনুচ্ছেদ ঘিরেই মূলত বিতর্কটি তৈরি হয়েছে। বিদেশি নাগরিকত্বের বিষয়টি মন্ত্রিসভার সদস্য হওয়ার যোগ্যতার সঙ্গে কীভাবে সম্পর্কিত—সেই প্রশ্ন সামনে এনে রাজনৈতিক ও আইনগত মহলে আলোচনা চলছে।
আইনমন্ত্রীর বক্তব্যের পর সরকারের অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে—হুমায়ুন কবিরের নিয়োগকে তারা সাংবিধানিক ও আইনসম্মত বলেই মনে করছে। তবে নাগরিকত্ব ত্যাগের আনুষ্ঠানিক নথি বা প্রক্রিয়া নিয়ে আরও পরিষ্কার তথ্য প্রকাশ হলে বিতর্কটির অবসান হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।