ঢাবির তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল গঠন, সাময়িক বরখাস্ত
ঢাকা প্রতিনিধি ||
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ‘বিতর্কিত ভূমিকা’ এবং আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের অভিযোগের ভিত্তিতে ট্রাইব্যুনাল গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই সঙ্গে ওই তিন শিক্ষককে সাময়িকভাবে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
তিন শিক্ষক সাময়িক বরখাস্ত
ট্রাইব্যুনালের মুখোমুখি হওয়া তিন শিক্ষক হলেন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মশিউর রহমান, শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. এম ওয়াহিদুজ্জামান এবং অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। অভিযোগগুলোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি; ট্রাইব্যুনালের প্রক্রিয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আবদুস সালাম জানিয়েছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ওই শিক্ষকদের ভূমিকা এবং আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ভিত্তিতে ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে।
কী করবে ট্রাইব্যুনাল
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাইব্যুনাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ একটি শৃঙ্খলামূলক ফোরাম। শিক্ষক, কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে তদন্ত ও শুনানির পর দায় নির্ধারণ এবং প্রয়োজনীয় শাস্তির সুপারিশ করার এখতিয়ার এই ফোরামের রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে ট্রাইব্যুনালের সুপারিশের ভিত্তিতে চাকরিচ্যুতিসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। তবে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগ পর্যন্ত তিন শিক্ষককে দোষী হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে না।
আরও শিক্ষক-কর্মকর্তার বিষয়ে তদন্ত
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিরোধিতা বা এ-সংক্রান্ত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে—এমন শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের বিষয়ে আরও অনুসন্ধানের জন্য আলাদা একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক আলমোজাদ্দেদী আলফেছানীকে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক কাজী মাহবুবুর রহমান এবং সিনেট সদস্য ফরহাদ হালিম ডোনার।
অর্থাৎ, তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে সরাসরি ট্রাইব্যুনাল গঠনের পাশাপাশি আরও অভিযোগের বিষয়ে প্রাথমিকভাবে তথ্য যাচাই ও তদন্তের প্রক্রিয়াও চালু করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
আরও একজন শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত
একই সিন্ডিকেট সভায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে নির্ধারিত শিক্ষাগত যোগ্যতা পূরণ না করার অভিযোগে সংগীত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. জিয়াউর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
তার নিয়োগের সময় প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা পূরণ হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই অভিযোগটি তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে গঠিত ট্রাইব্যুনালের অভিযোগ থেকে আলাদা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বশেষ সিদ্ধান্তগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ, শৃঙ্খলা এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসনিক জবাবদিহির প্রক্রিয়াকে নতুন করে সামনে এনেছে। তবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা ও শাস্তির বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের পরবর্তী সিদ্ধান্তের অপেক্ষা রয়েছে।