অনলাইন, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বিজ্ঞাপন 728 × 90
সর্বশেষ খবর
এশিয়ান গেমসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে জাপান গেলেন সেনাবাহিনী প্রধান সাজাপ্রাপ্ত আসামিসহ ৭ পরোয়ানাভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার নোয়াখালী জেলা যুবলীগ সভাপতি ইমন ভট্র গ্রেপ্তার ঢাকার ইসলামবাগ থেকে নোয়াখালীর যুবক নিখোঁজ রাজশাহীতে সাংবাদিক সাগর-রুনি, সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিন হত্যার বিচার দাবিতে ও সারাদেশে সাংবাদিকদের নির্যাতন, হামলা, মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন মহাদেবপুরে নারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে মহিলা ফুটবল প্রশিক্ষণ ক্যাম্প উদ্বোধন নওগাঁয় ডেঙ্গু প্রতিরোধ অভিযানের উদ্বোধন করেন এমপি ফজলে হুদা কুমিল্লায় তৈরি হচ্ছে ভারতীয় মেসি বিড়ি, মেশিনসহ গ্রেফতার ৯ ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ জনের সম্পত্তির ৫০ শতাংশ জুলাই শহীদ-আহতদের দিতে নির্দেশ ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে হাসিনাকে ফেরানো গুরুত্বপূর্ণ: জাহেদ উর রহমান কুমিল্লায় সিরিয়াল কিলার মানিক গ্রেপ্তার, দুই হত্যার রহস্য উদঘাটন চবিতে হলের ভিপিকে পিটিয়ে বের করে দেওয়ার হুমকি, ছাত্রদল নেতার স্বীকারোক্তি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান ফটকের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ, নিরাপত্তা জোরদার বড়লেখায় পৃথক অভিযানে ৪টি ভারতীয় গরু ও ৪০ লিটার দেশীয় মদসহ গ্রেপ্তার ৪ BRICS সম্মেলনে স্নাইপার ডিউটিতে অস্ত্র হাতে রিল, দিল্লি পুলিশের কনস্টেবল সাসপেন্ড
হোম জাতীয় ওবায়দুল কাদেরসহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ৭ শীর্ষ নেতার মৃত্যুদণ্ড।আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল

ওবায়দুল কাদেরসহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ৭ শীর্ষ নেতার মৃত্যুদণ্ড।আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল

নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ০৩:০৩ এএম, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ 37
ওবায়দুল কাদেরসহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ৭ শীর্ষ নেতার মৃত্যুদণ্ড।আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল

নিজস্ব প্রতিবেদক


জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ দলটির সাত শীর্ষ নেতাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।


মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন। বেঞ্চের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। (বাংলা টেলিগ্রাফ)


মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাত আসামি

ওবায়দুল কাদের ছাড়া মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অন্য আসামিরা হলেন— আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।


মামলার সাত আসামিই পলাতক অবস্থায় রয়েছেন।

জুলাই আন্দোলন দমনে নির্দেশ ও উসকানির অভিযোগ

রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ ছিল, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলন দমনে আসামিরা রাজনৈতিকভাবে সমন্বিত সিদ্ধান্ত, নির্দেশ, উসকানি ও প্ররোচনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে দলীয় নেতাকর্মীদের রাজপথে নামিয়ে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা, সহিংসতার পরিকল্পনা এবং বিভিন্ন পর্যায়ে দমন-পীড়নে ভূমিকা রাখার অভিযোগ আনা হয়।


প্রসিকিউশনের আরও অভিযোগ ছিল, কিছু ক্ষেত্রে সশস্ত্র হামলা, হত্যা, হত্যাচেষ্টা এবং ব্যাপক সহিংসতার ঘটনা সংঘটিত হয়। এসব কর্মকাণ্ডকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বিচার করেছে ট্রাইব্যুনাল।


দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া

সাত আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গ্রহণের পর ২২ জানুয়ারি ২০২৬ ট্রাইব্যুনাল-২ বিচার শুরুর আদেশ দেন। ১৭ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপক্ষের সূচনা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়।


মামলায় তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ২৯ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব শেষ হয় ২ আগস্ট। এরপর ৪ আগস্ট থেকে শুরু হয় যুক্তিতর্ক। রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক ১৭ আগস্ট শেষ হলে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন ট্রাইব্যুনাল।


সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়েছিল প্রসিকিউশন

যুক্তিতর্কে রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে প্রত্যেকের সর্বোচ্চ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চেয়েছিল। অন্যদিকে রাষ্ট্রনিযুক্ত আসামিপক্ষের আইনজীবীরা অভিযোগ অস্বীকার করে খালাসের আবেদন করেন এবং তাদের মক্কেলদের সরাসরি কমান্ড অবস্থানে থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেন।


রায়ে নতুন অধ্যায়

দীর্ঘ তদন্ত, সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষে আজকের রায়ে সাত আসামির মৃত্যুদণ্ডের মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থানকেন্দ্রিক মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিচারিক অধ্যায়ের সমাপ্তি হলো।


ট্রাইব্যুনালের এই রায় এখন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও বিচারিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেবে। একই সঙ্গে পলাতক আসামিদের ক্ষেত্রে রায় কার্যকর করার প্রক্রিয়া এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।