ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ জনের সম্পত্তির ৫০ শতাংশ জুলাই শহীদ-আহতদের দিতে নির্দেশ
নিউজ ডেস্ক ॥
ঢাকা: জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির সম্পত্তির ৫০ শতাংশ বাজেয়াপ্ত করে তা জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের কল্যাণে ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। মামলার সব আসামিকেই পলাতক হিসেবে দেখিয়ে বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল এবং ছাত্রলীগের সাবেক নেতা সাদ্দাম হোসেন ও শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, আসামিদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির তালিকা প্রস্তুত করে বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি থেকে পাওয়া অর্থ জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে শহীদ পরিবার এবং আহতদের চিকিৎসা ও আর্থিক সহায়তায় ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, ট্রাইব্যুনালের বিধি ও আইনে নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার সুযোগ রয়েছে। এবারের রায়ে আসামিদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির ৫০ শতাংশ বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, বাজেয়াপ্ত করা সম্পত্তি বা তার অর্থ জুলাই ফাউন্ডেশন অথবা আইনসম্মত কোনো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শহীদ ও আহতদের মধ্যে বিতরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান ঘিরে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা এই মামলায় প্রসিকিউশন আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তির পাশাপাশি তাদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার আবেদন জানিয়েছিল।
ট্রাইব্যুনালের এই আদেশের ফলে জুলাই-আগস্টের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শাস্তির পাশাপাশি অভিযুক্তদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় ব্যবহারের বিষয়টি নতুন মাত্রা পেল।