Columbus, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বিজ্ঞাপন 728 × 90
সর্বশেষ খবর
বড়লেখায় পৃথক অভিযানে ৪টি ভারতীয় গরু ও ৪০ লিটার দেশীয় মদসহ গ্রেপ্তার ৪ BRICS সম্মেলনে স্নাইপার ডিউটিতে অস্ত্র হাতে রিল, দিল্লি পুলিশের কনস্টেবল সাসপেন্ড অবহেলায় ডুবে যাচ্ছে শৈশব: নোয়াখালীর ৯ উপজেলায় ১৯৩ শিশু পানিতে, মৃত্যু ৭২ ফায়ারিং প্রশিক্ষণে নিহত দুই সেনাসদস্যের পরিবারের পাশে সরকার ওবায়দুল কাদেরসহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ৭ শীর্ষ নেতার মৃত্যুদণ্ড।আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য চলাকালে লোডশেডিং, ডিজিএমকে স্ট্যান্ড রিলিজ ওবায়দুল কাদেরসহ আওয়ামী লীগের সাত নেতার মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায় আজ সংকটে বৈশিষ্ট্য হারাচ্ছে দেশের সর্ববৃহৎ হাকালুকি হাওর বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানায় ১৪২ পদে নিয়োগ গরু খেয়ে ফেলল গাছের চারা, প্রাণ গেল কৃষকের কোম্পানীগঞ্জে ডাকাতির প্রস্তুতির অভিযোগে ছয়জন আটক দক্ষিণ চট্টগ্রামবাসীর প্রাণের দাবি কালুরঘাট সেতুর নির্মাণকাজ দ্রুত বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান সার্ভার হ্যাক করে এনআইডি-সিডিআরসহ গোপন তথ্য বিক্রি; নওগাঁয় যুবক গ্রেপ্তার নওগাঁয় ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে ছাত্রদলের পরিচ্ছন্নতা অভিযান মাটির নিচে মদের ভান্ডার, দুর্গাপুরে নারী আটক
হোম আন্তর্জাতিক BRICS সম্মেলনে স্নাইপার ডিউটিতে অস্ত্র হাতে রিল, দিল্লি পুলিশের কনস্টেবল সাসপেন্ড

BRICS সম্মেলনে স্নাইপার ডিউটিতে অস্ত্র হাতে রিল, দিল্লি পুলিশের কনস্টেবল সাসপেন্ড

নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ০৪:১৬ এএম, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ 2
BRICS সম্মেলনে স্নাইপার ডিউটিতে অস্ত্র হাতে রিল, দিল্লি পুলিশের কনস্টেবল সাসপেন্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক॥


ভারতে ১৮তম BRICS সম্মেলনের নিরাপত্তায় রুফটপ স্নাইপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সময় অস্ত্র হাতে Instagram Reel তৈরি করে বিপাকে পড়েছেন দিল্লি পুলিশের এক কনস্টেবল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর তাকে তাৎক্ষণিকভাবে নিরাপত্তা দায়িত্ব থেকে সরিয়ে সাসপেন্ড করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার বিষয়ে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করেছে দিল্লি পুলিশ।


সাসপেন্ড হওয়া ওই কনস্টেবলের নাম দীপক বাঙ্গার। তিনি দিল্লি পুলিশের নর্থওয়েস্ট জেলার ফরেনার্স সেলে কর্মরত ছিলেন। BRICS সম্মেলন উপলক্ষে তাকে নয়াদিল্লির কেন্দ্রীয় এলাকার একটি পাঁচতারকা হোটেলের ছাদে নিরাপত্তার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। ওই হোটেলেই বিদেশি প্রতিনিধিরা অবস্থান করছিলেন।


ভিডিওতে কী দেখা গেছে?

পুলিশের নজরে আসা দুটি ভিডিও নিয়ে মূলত বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। একটি ভিডিওতে দীপককে সিভিল পোশাকে BRICS Summit 2026-এর পরিচয়পত্র পরে সার্ভিস পিস্তল হাতে দেখা যায়। ভিডিওতে তার অবস্থান ও আশপাশের এলাকার কিছু দৃশ্যও দেখা যাচ্ছিল।


অন্য একটি ভিডিওতে তাকে হোটেলের ছাদ থেকে একটি স্নাইপার রাইফেলের স্কোপ দিয়ে তাকাতে দেখা যায়। পেছনের দৃশ্যে আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও দৃশ্যমান ছিল।


কেন বিষয়টি গুরুতর?

একটি আন্তর্জাতিক উচ্চ-নিরাপত্তার সম্মেলনে দায়িত্ব পালনরত কোনো নিরাপত্তাকর্মীর কাছ থেকে এ ধরনের ভিডিও ধারণ ও প্রকাশ নিরাপত্তার দিক থেকে উদ্বেগ তৈরি করতে পারে। কারণ ভিডিওর মাধ্যমে কোনো নিরাপত্তা পোস্টের অবস্থান, পর্যবেক্ষণের দিক, আশপাশের স্থাপনা বা নিরাপত্তা ব্যবস্থার কিছু অংশ অনিচ্ছাকৃতভাবে প্রকাশ হয়ে যেতে পারে।


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওগুলো ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই প্রশ্ন তোলেন—এ ধরনের সংবেদনশীল নিরাপত্তা দায়িত্বে থাকা অবস্থায় অস্ত্র ও অবস্থানের দৃশ্য প্রকাশ করা কতটা নিরাপদ ও দায়িত্বশীল আচরণ।


তদন্তে কী খতিয়ে দেখা হবে?

দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে ভিডিওগুলো কখন, কোথায় এবং কী পরিস্থিতিতে ধারণ ও Instagram-এ আপলোড করা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা হবে। একই সঙ্গে ওই সময় কনস্টেবল দায়িত্বে ছিলেন কি না এবং অস্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।


পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


আন্তর্জাতিক সম্মেলনের নিরাপত্তায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ঝুঁকি

ঘটনাটি আবারও সামনে এনেছে উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা দায়িত্বে থাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ঝুঁকি। দায়িত্ব পালনের সময় ব্যক্তিগত ছবি বা ভিডিও প্রকাশ অনেক ক্ষেত্রে শুধু ব্যক্তিগত আচরণের বিষয় থাকে না; এর সঙ্গে নিরাপত্তা ও অপারেশনাল তথ্য প্রকাশের ঝুঁকিও যুক্ত হতে পারে।


BRICS-এর মতো আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যেখানে বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধিরা অংশ নেন, সেখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থার গোপনীয়তা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ফলে দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তাকর্মীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কী প্রকাশ করা যাবে এবং কী প্রকাশ করা যাবে না—এ বিষয়ে কঠোর শৃঙ্খলা ও সতর্কতা প্রয়োজন।


দিল্লি পুলিশের এই পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে অন্তত একটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে—উচ্চ-নিরাপত্তার দায়িত্বে ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রেও দায়িত্বশীলতা ও নির্ধারিত বিধি মেনে চলাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তদন্ত শেষ হলে ওই কনস্টেবলের বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা কী হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।