১২ হাজারের বেশি প্রতিষ্ঠান পেল ব্রডব্যান্ড, চাকরিমুখী প্রশিক্ষণ ২৮ হাজারের বেশি
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক ||
সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম ১৮০ দিনের কার্যক্রমে দেশের ১২ হাজারের বেশি প্রতিষ্ঠানকে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের আওতায় আনা হয়েছে। একই সময়ে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে ২৮ হাজার ৭৭০ জনকে চাকরিমুখী প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারভিত্তিক ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার অগ্রগতি তুলে ধরতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং আইসিটি বিভাগের অগ্রগতি প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এই হিসাব প্রকাশ করা হয়েছে।
১২ হাজারের বেশি প্রতিষ্ঠান ব্রডব্যান্ডে
অগ্রগতি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের ১২ হাজারের বেশি প্রতিষ্ঠানকে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগের আওতায় আনা হয়েছে। ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণ এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তিনির্ভর কার্যক্রম আরও কার্যকর করার ক্ষেত্রে এই সংযোগ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
সরকারের ডিজিটাল অবকাঠামো সম্প্রসারণের পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি সেবাকে অনলাইনে নিয়ে আসার উদ্যোগও অব্যাহত রয়েছে।
চাকরিমুখী প্রশিক্ষণ পেয়েছেন ২৮,৭৭০ জন
এক মিলিয়ন কর্মসংস্থান সৃষ্টির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে আইসিটি বিভাগের বিভিন্ন সংস্থা ২৮ হাজার ৭৭০ জনকে চাকরিমুখী প্রশিক্ষণ দিয়েছে।
এ ছাড়া ৩৪০ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে বৃত্তি, ফেলোশিপ, উদ্ভাবন অনুদান ও বিশেষ স্টাইপেন্ড হিসেবে প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির মাধ্যমে প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো এই কার্যক্রমের অন্যতম লক্ষ্য।
ডিজিটাল অবকাঠামোতে আরও কয়েকটি উদ্যোগ
১৮০ দিনের অগ্রগতি প্রতিবেদনে আইসিটি খাতের আরও কিছু উদ্যোগের কথা তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে জাতীয় ডেটা সেন্টারের সংরক্ষণ সক্ষমতা ৬ পেটাবাইট বাড়ানো, অতিরিক্ত জিপিইউ সার্ভার স্থাপন এবং নতুন দুর্যোগ পুনরুদ্ধার (ডিজাস্টার রিকভারি) ডেটা সেন্টারের নির্মাণকাজ শেষ করার তথ্য রয়েছে।
এ ছাড়া সরকারের সেবা ডিজিটালাইজেশনের অংশ হিসেবে MyGov প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ৮৭টি সরকারি সেবা ডিজিটাল করা হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সরকারি সেবা সহায়তা ব্যবস্থা তৈরির কাজও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
সরকার একই সঙ্গে স্টার্টআপ ও উদ্ভাবন খাতকে সহায়তা দিতে ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ ফান্ডকে নতুন কাঠামোর আওতায় আনা এবং জাতীয় উদ্যোক্তা ও স্টার্টআপ পোর্টাল চালুর উদ্যোগের কথাও জানিয়েছে।
তবে ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার সব লক্ষ্য এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের প্রতিবেদনে ই-কমার্স ও এফ-কমার্স লজিস্টিকসের জন্য দেশব্যাপী ১৪টি ফালফিলমেন্ট সেন্টার স্থাপনের অগ্রগতি ৬৫ শতাংশে রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।