সারা দেশে আবার শুরু হচ্ছে হাম টিকাদান কর্মসূচি
স্বাস্থ্য ডেস্ক ||
দেশে হাম সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মিত টিকাদানের আওতার বাইরে থাকা শিশুদের সুরক্ষা দিতে সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে আবারও দেশব্যাপী বিশেষ হাম টিকাদান কর্মসূচি শুরু হচ্ছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সারদার মো. সাখাওয়াত হুসাইন শুক্রবার সিলেটে এ তথ্য জানিয়েছেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির বাইরে থেকে যাওয়া শিশুদের বিশেষভাবে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হবে। সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় টিকার সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
বাদ পড়া শিশুদের অগ্রাধিকার
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি থেকে বিভিন্ন কারণে বাদ পড়া শিশুদের শনাক্ত করে টিকা দেওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সচেতনতার অভাব ও তথ্যের ঘাটতির কারণে অনেক শিশু নির্ধারিত সময়ে টিকা নিতে পারেনি বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
এর আগে চলতি বছরের এপ্রিল-মে মাসে দেশে জরুরি হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি পরিচালনা করা হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিলের শুরুতে উচ্চঝুঁকিপূর্ণ ৩০টি উপজেলায় কর্মসূচি শুরু হওয়ার পর তা ধাপে ধাপে দেশব্যাপী সম্প্রসারিত হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাদ পড়ে থাকা শিশুদের শনাক্ত করে তাদের টিকাদানের আওতায় আনার উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে।
পর্যাপ্ত টিকার সরবরাহ নিশ্চিত
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, নতুন কর্মসূচির জন্য পর্যাপ্ত টিকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর ফলে কর্মসূচি বাস্তবায়নে টিকার ঘাটতি বড় বাধা হবে না বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা হাম প্রতিরোধে নিয়মিত টিকাদানের আওতা শক্তিশালী করার পাশাপাশি যেসব শিশু নিয়মিত কর্মসূচি থেকে বাদ পড়ে যায়, তাদের জন্য সম্পূরক টিকাদান কর্মসূচির ওপর গুরুত্ব দিয়ে থাকে।
বাংলাদেশে চলতি বছরের হাম পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে শিশুদের টিকাদানের ঘাটতি পূরণ করা এখন জনস্বাস্থ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হয়ে উঠেছে।
দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নজর
আগের কর্মসূচিতে নিয়মিত টিকাদানের বাইরে থাকা এবং দুর্গম এলাকার শিশুদের কাছে পৌঁছাতে বিভিন্ন বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। নতুন কর্মসূচিতেও বাদ পড়া শিশুদের শনাক্ত করে তাদের টিকার আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ প্ল্যাটফর্মে ৪ সেপ্টেম্বরও দেশের হাম পরিস্থিতি নিয়ে দৈনিক আপডেট প্রকাশ করা হয়েছে। ফলে নতুন টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে শিশুদের মধ্যে টিকাদানের ঘাটতি আরও কমানো এবং সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ করাই এখন প্রধান লক্ষ্য।