Columbus, ০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বিজ্ঞাপন 728 × 90
সর্বশেষ খবর
৫০তম বিসিএসের তৃতীয় ধাপের মৌখিক পরীক্ষা শুরু ১৩ সেপ্টেম্বর তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ-অনুদান দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক কুকুরের মাধ্যমে জলাতঙ্ক নির্মূলের স্বীকৃতি পেল ভুটান অ্যান্ড্রয়েডে Gemini-র নতুন সুবিধা, এবার মনে রাখবে কোথায় রেখেছেন প্রয়োজনীয় জিনিস ঢাকার ৬ রুটে শিক্ষার্থীদের জন্য ১৮ এসি বাস চালু করল UIU সিরিয়ার কাছে ৩-০ গোলে হার, এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে কোণঠাসা বাংলাদেশ দেশের মানুষের কোনো উপকারে আসেনি: ভারতীয় টাটা কেমিক্যালসকে কেনিয়া ছাড়ার নির্দেশ সংখ্যালঘু নয়, নাগরিক পরিচয়েই সবাই সমান অধিকার ভোগ করবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পাটওয়ারীর ব্যক্তিগত আক্রমণেই মির্জা আব্বাসের স্ট্রোক: রাশেদ দুর্গম হামহাম জলপ্রপাতে অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহ উদ্ধার বাংলাদেশ-চীন প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদারের আলোচনা স্থানীয় নির্বাচন ঘিরে তৃণমূলে রাজনৈতিক তৎপরতা বাড়ছে ‘দেশের মানুষের জন্য কাজ করতেই ফিরে এসেছি’: সংসদে মির্জা আব্বাস সরকার উৎখাত নয়, গণভোটের রায় বাস্তবায়নই লংমার্চের লক্ষ্য: পরওয়ার লংমার্চ বিরোধীদের গণতান্ত্রিক অধিকার, তবে অচলাবস্থা নয়: রিজভী
হোম স্বাস্থ্য কুকুরের মাধ্যমে জলাতঙ্ক নির্মূলের স্বীকৃতি পেল ভুটান

কুকুরের মাধ্যমে জলাতঙ্ক নির্মূলের স্বীকৃতি পেল ভুটান

নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১২:১৮ পিএম, ০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ 2
কুকুরের মাধ্যমে জলাতঙ্ক নির্মূলের স্বীকৃতি পেল ভুটান

স্বাস্থ্য ডেস্ক ||


থিম্পু/নয়াদিল্লি/জেনেভা, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬: কুকুরের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে জলাতঙ্ক সংক্রমণকে জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে নির্মূল করেছে ভুটান। দেশটির এই অর্জনকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলে ভুটানই প্রথম দেশ, যারা কুকুরবাহিত মানব জলাতঙ্ক নির্মূলের এই স্বীকৃতি পেল।


জলাতঙ্ক একটি ভাইরাসজনিত রোগ, যা উপসর্গ দেখা দেওয়ার পর প্রায় সব ক্ষেত্রেই প্রাণঘাতী। তবে আক্রান্ত প্রাণীর কামড় বা আঁচড়ের পর দ্রুত ও যথাযথ চিকিৎসা নিলে এ রোগে মৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব। WHO জানিয়েছে, কুকুরের টিকাদান, দ্রুত চিকিৎসা এবং মানুষের জন্য সহজলভ্য পোস্ট-এক্সপোজার প্রোফাইল্যাক্সিস (PEP) ভুটানের সাফল্যের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।


২০২৩ সালের পর নেই কোনো মানবমৃত্যু


WHO-এর তথ্য অনুযায়ী, ভুটান জুন ২০২৩ সালের পর থেকে কুকুরের মাধ্যমে ছড়ানো জলাতঙ্কে কোনো মানুষের মৃত্যু রেকর্ড করেনি। WHO-এর নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী অন্তত ২৪ মাস ধরে কুকুরবাহিত জলাতঙ্কে কোনো মানবমৃত্যু না থাকা এবং রোগ পুনরায় ছড়িয়ে পড়া ঠেকানোর সক্ষমতা প্রমাণ করা নির্মূলের স্বীকৃতির অন্যতম শর্ত।


এই অর্জনের আনুষ্ঠানিক যাচাইয়ের জন্য ভুটান ২০২৬ সালের জুনে WHO-এর কাছে জাতীয় ডসিয়ার জমা দেয়। এরপর ১৭ থেকে ২২ আগস্ট আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের একটি দল দেশটিতে মাঠপর্যায়ে যাচাই কার্যক্রম পরিচালনা করে।


এক দশকের বেশি সময়ের সমন্বিত উদ্যোগ


WHO বলছে, ভুটানের সাফল্য একদিনে আসেনি। এক দশকের বেশি সময় ধরে দেশটি মানুষ, প্রাণী ও পরিবেশের স্বাস্থ্যকে সমন্বিতভাবে বিবেচনা করা ‘One Health’ পদ্ধতিতে জলাতঙ্ক নিয়ন্ত্রণে কাজ করেছে।


দেশটিতে ব্যাপকভাবে কুকুরের টিকাদান, কুকুরের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, রোগ পর্যবেক্ষণ, আক্রান্ত বা সন্দেহভাজন প্রাণীর বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা এবং মানুষের জন্য জলাতঙ্কের প্রতিরোধমূলক চিকিৎসা সহজলভ্য করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।


সন্দেহভাজন জলাতঙ্কের ঘটনা শনাক্ত হলে স্বাস্থ্য ও প্রাণিসম্পদ কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে সম্ভাব্য সংক্রমণের উৎস ও সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে কাজ করে।


বিনামূল্যে চিকিৎসা ও টিকাদান অব্যাহত থাকবে


ভুটান জানিয়েছে, এই অর্জনের পরও জলাতঙ্ক নিয়ন্ত্রণের কার্যক্রম বন্ধ করা হবে না। দেশের ২০টি জেলার সবগুলোতেই মানুষের জন্য বিনামূল্যে পোস্ট-এক্সপোজার প্রোফাইল্যাক্সিস (PEP) সুবিধা অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।


এর পাশাপাশি কুকুরের ব্যাপক টিকাদান, কুকুরের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, মানুষ ও প্রাণীর মধ্যে রোগ নজরদারি এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমও চালিয়ে যাবে দেশটি।


ভারতের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে আন্তঃদেশীয় সমন্বয় আরও জোরদার করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কারণ ভুটানে জলাতঙ্ক নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলো ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ছিল।


বিশ্বব্যাপী জলাতঙ্ক নির্মূলে গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ


WHO-এর মহাপরিচালক ড. টেড্রোস আধানম গেব্রেয়েসুস ভুটানের এই অর্জনকে ঐতিহাসিক বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, ২০৩০ সালের মধ্যে কুকুরের মাধ্যমে মানুষের জলাতঙ্কে মৃত্যু বন্ধ করার বৈশ্বিক লক্ষ্যে ভুটানের সাফল্য গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ।


WHO জানিয়েছে, বিশ্বজুড়ে মানুষের জলাতঙ্ক সংক্রমণের সর্বোচ্চ ৯৯ শতাংশই আক্রান্ত কুকুরের কামড় বা আঁচড়ের মাধ্যমে হয়ে থাকে। ফলে কুকুরের টিকাদান, দায়িত্বশীলভাবে কুকুরের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, মানুষের দ্রুত চিকিৎসা এবং কার্যকর নজরদারি—এই সমন্বিত ব্যবস্থাই রোগটির বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।


ভুটানের অভিজ্ঞতা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলোর জন্যও কুকুরবাহিত জলাতঙ্ক নির্মূলে একটি বাস্তব উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।