Columbus, ৩০ আগস্ট, ২০২৬
বিজ্ঞাপন 728 × 90
সর্বশেষ খবর
মানবাধিকার কমিশন ও সম্পত্তি হস্তান্তর বিল সংশোধিত আকারে পাসের সুপারিশ মানবপাচারের শিকার বাংলাদেশিদের ফেরাতে নতুন ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু যাত্রাবাড়ী হত্যা মামলায় সাবেক রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজনকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ ‘আয়নাঘর’ আর ফিরতে দেওয়া হবে না: রাষ্ট্রপতি বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা বাতিল নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিতে আদালতের বড় ধাক্কা ৬৪ জেলার দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে হাইকোর্টে জামায়াতের ১১ এমপির চ্যালেঞ্জ সেপ্টেম্বরের শেষেই শুরু হচ্ছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার, ছয় মাসে যাবে ২ লাখ বাংলাদেশি ছয় দেশের পাসপোর্ট সঙ্গে, দুবাই ছেড়ে সেন্ট লুসিয়ায় বেনজীর পাকিস্তানে তুরস্কের সামরিক বিমানের ঘন ঘন আনাগোনা, উদ্বিগ্ন ভারত মরহুম এবাদুল হক দুলুর স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত কাপ্তাই হ্রদের পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি, ১৬টি গেট খুলে দেওয়া হয়েছে ১১০ রানে পাকিস্তানের ইনিংস শেষ, লর্ডসে জয়ের পথে ইংল্যান্ড ১২ লাখ ডলারের বিনিয়োগ নিয়ে প্রতারণার মামলা, অভিযোগ খারিজ চাইলেন সেলেনা গোমেজ কঙ্গোতে ভয়াবহ ইবোলা সংক্রমণ, উগান্ডায় শেষ হলো প্রাদুর্ভাব নারী এশিয়া কাপ শুরু, বাংলাদেশের গ্রুপে শ্রীলঙ্কা-ইন্দোনেশিয়া-ইউএই
হোম জাতীয় ‘আয়নাঘর’ আর ফিরতে দেওয়া হবে না: রাষ্ট্রপতি

‘আয়নাঘর’ আর ফিরতে দেওয়া হবে না: রাষ্ট্রপতি

নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ০৫:০২ এএম, ৩০ আগস্ট, ২০২৬ 20
‘আয়নাঘর’ আর ফিরতে দেওয়া হবে না: রাষ্ট্রপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥

দেশে গুম, বিচারবহির্ভূত আটক ও নির্যাতনের মতো ঘটনা আর যাতে ফিরে না আসে, সে বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেছেন, ‘আয়নাঘর’ নামে পরিচিত গোপন বন্দিশালার সংস্কৃতি আর বাংলাদেশে ফিরতে দেওয়া হবে না।


রাষ্ট্রীয়ভাবে গুম ও জোরপূর্বক নিখোঁজের অভিযোগের তদন্ত এবং দায়ীদের বিচারের দাবির মধ্যে রাষ্ট্রপতির এই বক্তব্য নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন গোপন আটককেন্দ্র ও সেখানে আটকে রাখার অভিযোগ নিয়ে তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রমও চলছে।


গুমের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে আইনি উদ্যোগ

গুম ও জোরপূর্বক নিখোঁজের ঘটনা ঠেকাতে নতুন আইনি কাঠামোর প্রয়োজনীয়তা নিয়েও সরকারের পক্ষ থেকে আলোচনা চলছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ সম্প্রতি জানিয়েছেন, গুম প্রতিরোধ ও ভুক্তভোগীদের প্রতিকার নিশ্চিত করতে প্রস্তাবিত আইনে ক্ষতিপূরণ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, আইনটি প্রণয়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অংশীজন, জাতিসংঘ, কূটনৈতিক মিশন ও মানবাধিকার সংগঠনের মতামত বিবেচনা করা হয়েছে।


‘আয়নাঘর’ নিয়ে তদন্ত ও বিচার

অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন সময়ে আইনশৃঙ্খলা ও গোয়েন্দা সংস্থার নিয়ন্ত্রণে থাকা গোপন স্থাপনাগুলোতে মানুষকে আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই আটকে রাখা হয়েছে। এসব অভিযোগের অংশ হিসেবে তদন্তকারীরা কথিত ‘আয়নাঘর’ হিসেবে পরিচিত কয়েকটি স্থাপনাও পরিদর্শন করেছেন।


চিফ প্রসিকিউটরের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি কথিত গোপন বন্দিশালা পরিদর্শনের সময় সেখানে ২২টি ছোট-বড় কক্ষ পাওয়া গেছে। তদন্তে এসব কক্ষে দীর্ঘ সময় মানুষকে আটকে রাখার অভিযোগের কথাও উঠে এসেছে।


এসব অভিযোগ এখন বিচারিক প্রক্রিয়ার অংশ। ফলে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; আদালতের বিচার ও তদন্তের ফলই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে।


নিখোঁজ ব্যক্তিদের খুঁজে বের করার দাবি

এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে মিরাজ শেখ নামে এক ব্যক্তির নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করেও নতুন করে ‘আয়নাঘর’ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তাঁর অবস্থান নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে একটি রাজনৈতিক সংগঠন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অবশ্য তাঁকে হেফাজতে নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।


ফলে রাষ্ট্রপতির বক্তব্যের পাশাপাশি সামনে এসেছে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—অতীতের গুম ও গোপন আটকের অভিযোগের বিচার যেমন নিশ্চিত হবে, তেমনি ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঠেকাতে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহি কীভাবে নিশ্চিত করা হবে।


রাষ্ট্রপতির বক্তব্যে সেই জায়গাতেই সবচেয়ে বড় বার্তা রয়েছে—আয়নাঘরের মতো কোনো গোপন বন্দিশালা বা গুমের সংস্কৃতি যেন আর কখনো বাংলাদেশে ফিরে না আসে।