কঙ্গোতে ভয়াবহ ইবোলা সংক্রমণ, উগান্ডায় শেষ হলো প্রাদুর্ভাব
স্বাস্থ্য ডেস্ক ||
আফ্রিকার মধ্যাঞ্চলে ইবোলা পরিস্থিতিতে একদিকে স্বস্তির খবর, অন্যদিকে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) জানিয়েছে, উগান্ডায় Bundibugyo প্রজাতির ইবোলা প্রাদুর্ভাব আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়েছে। টানা ৪২ দিন নতুন কোনো নিশ্চিত সংক্রমণ শনাক্ত না হওয়ায় ২৭ আগস্ট প্রাদুর্ভাবের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। তবে একই ভাইরাসে প্রতিবেশী ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে সংক্রমণ এখনো ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে। (WHO |
৪২ দিন নতুন সংক্রমণ নেই উগান্ডায়
WHO ও আফ্রিকা সেন্টার্স ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (Africa CDC) জানিয়েছে, উগান্ডায় সর্বশেষ রোগী—যিনি কঙ্গো থেকে আসা একজন আমদানিকৃত রোগী—১৬ জুলাই চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান। এরপর টানা ৪২ দিন নতুন কোনো নিশ্চিত সংক্রমণ শনাক্ত হয়নি।
আন্তর্জাতিক নির্দেশনা অনুযায়ী, ইবোলার সর্বোচ্চ ইনকিউবেশন সময়ের দ্বিগুণ অর্থাৎ ৪২ দিন নতুন সংক্রমণ না থাকাকে সংক্রমণ-শৃঙ্খল বন্ধ হওয়ার গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সেই সময়সীমা পূর্ণ হওয়ার পরই উগান্ডায় প্রাদুর্ভাব শেষ ঘোষণা করা হয়েছে। (WHO |
চলতি প্রাদুর্ভাবে উগান্ডায় মোট ২০টি নিশ্চিত সংক্রমণ এবং দুটি মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছিল। WHO-এর তথ্য অনুযায়ী, এসব সংক্রমণের সঙ্গে কঙ্গোতে চলমান প্রাদুর্ভাবের সরাসরি epidemiological যোগসূত্র ছিল।
সীমান্তবর্তী দেশগুলোর জন্যও সতর্কতা
উগান্ডায় প্রাদুর্ভাব শেষ হলেও WHO বলছে, কঙ্গোতে চলমান সংক্রমণের কারণে দেশটি এখনো বাইরে থেকে ইবোলা প্রবেশের ঝুঁকিতে রয়েছে। তাই সীমান্ত নজরদারি, রোগ শনাক্তকরণ এবং প্রস্তুতি অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ২৭ আগস্ট WHO উগান্ডার স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে একটি মোবাইল Biosafety Level-3 পরীক্ষাগারও হস্তান্তর করেছে। (WHO |
অন্যদিকে কঙ্গোতে চলমান সংক্রমণ শুধু দেশটির জন্য নয়, প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর জন্যও আঞ্চলিক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী জনগোষ্ঠীর চলাচল ও বাণিজ্যিক যোগাযোগের কারণে সংক্রমণ শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণে দ্রুত সমন্বিত পদক্ষেপকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে WHO।
কঙ্গোতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ
উগান্ডায় সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে এলেও ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে পরিস্থিতি এখনো গুরুতর। WHO-এর ২৮ আগস্টের সর্বশেষ Disease Outbreak News অনুযায়ী, ২৬ আগস্ট পর্যন্ত কঙ্গোতে ৫,৭৯৪টি নিশ্চিত Bundibugyo ইবোলা সংক্রমণ এবং ২,৭৮৬টি মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে প্রায় ৪৮ দশমিক ১ শতাংশ মারা গেছেন।
সংক্রমণটি কঙ্গোর ছয়টি প্রদেশের ৬০টি স্বাস্থ্যাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ইতুরি প্রদেশ; সেখানে মোট ৪,৮০২টি নিশ্চিত সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। উত্তর কিভুতেও সংক্রমণের বিস্তার অব্যাহত রয়েছে।
WHO বলছে, ১৪ আগস্টের পর থেকে কঙ্গোতে আরও ১,১২৯টি নিশ্চিত সংক্রমণ এবং ৬০২টি নিশ্চিত মৃত্যু রিপোর্ট হয়েছে। নতুন শনাক্তকরণ ও পরীক্ষার সক্ষমতা বাড়ার কারণে সংখ্যার কিছু অংশ পুরোনো তথ্যের হালনাগাদ থেকেও এসেছে; তবে সংক্রমণের ধারাবাহিক বৃদ্ধি এবং ভৌগোলিক বিস্তারকে চলমান সংক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে দেখছে সংস্থাটি।
আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা বহাল
কঙ্গোর এই প্রাদুর্ভাবকে WHO এখনো আন্তর্জাতিক উদ্বেগের জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা (PHEIC) হিসেবে বিবেচনা করছে। ১৮ আগস্ট অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় IHR Emergency Committee বৈঠকের পর WHO মহাপরিচালক এই অবস্থান বহাল রাখেন এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর জন্য নতুন অস্থায়ী সুপারিশ জারি করেন।
ইবোলা মোকাবিলায় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হলো দুর্গম ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় দ্রুত রোগী শনাক্ত করা এবং চিকিৎসার আওতায় আনা। নিরাপত্তাহীনতা, মানুষের স্থানান্তর এবং সীমান্তবর্তী চলাচলও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণকে জটিল করে তুলছে। WHO জানিয়েছে, দেরিতে রোগ শনাক্ত হলে পরিবার, কমিউনিটি ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ে।
চিকিৎসা ও প্রস্তুতি জোরদার
কঙ্গোতে সংক্রমণ মোকাবিলায় স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষা ও চিকিৎসা সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে। ২৭ আগস্ট দেশটির স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে ইবোলা টিকাদান শুরু করা হয়। একই সময়ে সীমিত হাসপাতাল শয্যা ও চিকিৎসা অবকাঠামোর ঘাটতি মোকাবিলায় পূর্ব কঙ্গোতে নতুন ইবোলা চিকিৎসাকেন্দ্রও চালু করেছে আন্তর্জাতিক চিকিৎসা সহায়তা সংস্থা Médecins Sans Frontières (MSF)।
WHO-এর মতে, এই প্রাদুর্ভাবটি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে নজরদারি, দ্রুত শনাক্তকরণ, পরীক্ষাগার সক্ষমতা, চিকিৎসা, সংক্রমণ প্রতিরোধ এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ—সব ক্ষেত্রেই দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা প্রয়োজন। সংস্থাটি সতর্ক করেছে, পর্যাপ্ত ও টেকসই অর্থায়ন না থাকলে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমের গতি কমে যেতে পারে। (WHO |
সীমান্তবর্তী দেশগুলোর জন্যও সতর্কতা
উগান্ডায় প্রাদুর্ভাব শেষ হলেও WHO বলছে, কঙ্গোতে চলমান সংক্রমণের কারণে দেশটি এখনো বাইরে থেকে ইবোলা প্রবেশের ঝুঁকিতে রয়েছে। তাই সীমান্ত নজরদারি, রোগ শনাক্তকরণ এবং প্রস্তুতি অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ২৭ আগস্ট WHO উগান্ডার স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে একটি মোবাইল Biosafety Level-3 পরীক্ষাগারও হস্তান্তর করেছে। (WHO |
অন্যদিকে কঙ্গোতে চলমান সংক্রমণ শুধু দেশটির জন্য নয়, প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর জন্যও আঞ্চলিক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী জনগোষ্ঠীর চলাচল ও বাণিজ্যিক যোগাযোগের কারণে সংক্রমণ শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণে দ্রুত সমন্বিত পদক্ষেপকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে WHO।