১১০ রানে পাকিস্তানের ইনিংস শেষ, লর্ডসে জয়ের পথে ইংল্যান্ড
স্পোর্টস ডেস্ক ||
লর্ডসে পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টে ইংল্যান্ডের বোলিং তোপে মাত্র ১১০ রানে অলআউট হয়েছে সফরকারী দল। ওলি রবিনসনের দুর্দান্ত ৪ উইকেটের সঙ্গে জোফ্রা আর্চারের গতির ঝড় পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপকে একের পর এক চাপে ফেলে দেয়। দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে ৮১ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ইংল্যান্ডের লিড দাঁড়িয়েছে ২৬১ রানে।
এই অবস্থায় পাঁচ দিনের টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষেই ম্যাচে বড় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে ইংল্যান্ড। বৃষ্টির বাধা ও খারাপ আলোয় দিনের খেলা আগেভাগে শেষ হলেও পাকিস্তানের জন্য ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
২৯০ রানে থামল ইংল্যান্ড
দ্বিতীয় দিন সকালে ৯ উইকেটে ২৪৮ রান নিয়ে ব্যাটিং শুরু করে ইংল্যান্ড। আগের দিনের শেষ উইকেট জুটি গাস অ্যাটকিনসন ও জশ টাং পাকিস্তানি বোলারদের বেশ কিছুক্ষণ আটকে রাখেন।
দশম উইকেটে তারা যোগ করেন ৪৭ রান। অ্যাটকিনসন ৪৫ রান করে আউট হন, আর জশ টাং ৩০ রানে অপরাজিত থাকেন। শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংস থামে ২৯০ রানে।
পাকিস্তানের হয়ে মোহাম্মদ আব্বাস ৪ উইকেট এবং মোহাম্মদ আলী ৩ উইকেট নেন।
পাকিস্তানের ব্যাটিংয়ে ধস
২৯০ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমেই চাপে পড়ে পাকিস্তান। চোটের কারণে ইমাম-উল-হক ব্যাট করতে পারেননি। তাঁর জায়গায় আজান আওয়াইসের সঙ্গে ওপেন করেন অধিনায়ক শান মাসুদ।
কিন্তু ইংল্যান্ডের পেস আক্রমণের সামনে পাকিস্তানের ব্যাটাররা বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। জোফ্রা আর্চার শান মাসুদকে ১ রানে ফিরিয়ে শুরু করেন ধসের। এরপর জশ টাং আউট করেন আবদুল্লাহ শফিক ও বাবর আজমকে। বাবর ৮ রান করে ফিরে যান।
৩০ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর পাকিস্তানের বিপর্যয় আরও বাড়তে থাকে।
রবিনসনের দুর্দান্ত স্পেল
পাকিস্তানের ব্যাটিং ধসের মূল কারিগর ছিলেন ওলি রবিনসন। মাত্র ১৩ ওভার বোলিং করে তিনি দেন ১১ রান এবং নেন ৪ উইকেট। তাঁর স্পেলে ছিল ছয়টি মেডেন ওভার।
সৌদ শাকিলকে ১৬ রানে এলবিডব্লিউ করার পর মোহাম্মদ রিজওয়ানকেও একইভাবে ফিরিয়ে দেন রবিনসন। পরে খুররম শাহজাদ ও আজান আওয়াইসকেও নিজের শিকারে পরিণত করেন তিনি।
অন্যদিকে আর্চার ৩টি এবং টাং ২টি উইকেট নেন। চার পেসারের সম্মিলিত আক্রমণে মাত্র ৩৭.২ ওভারেই পাকিস্তানের ইনিংস শেষ হয়ে যায়।
একমাত্র লড়াই আজান আওয়াইসের
পাকিস্তানের হয়ে একমাত্র উল্লেখযোগ্য প্রতিরোধ গড়েন ওপেনার আজান আওয়াইস। তিনি ১০২ বলে ৪৬ রান করেন এবং দলের হয়ে সর্বোচ্চ রান সংগ্রহ করেন।
সৌদ শাকিল ১৬ ছাড়া পাকিস্তানের আর কোনো ব্যাটার দুই অঙ্কে পৌঁছাতে পারেননি। ফলে ১১০ রানে গুটিয়ে গিয়ে প্রথম ইনিংসে ইংল্যান্ডের চেয়ে ১৮০ রানে পিছিয়ে পড়ে পাকিস্তান।
দ্বিতীয় ইনিংসেও শুরুতে ধাক্কা
১৮০ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমেও শুরুটা ভালো হয়নি ইংল্যান্ডের। খুররম শাহজাদ দ্রুত বেন ডাকেট ও জর্ডান কক্সকে ফিরিয়ে দিলে ১৩ রানেই ২ উইকেট হারায় স্বাগতিকরা।
এরপর অধিনায়ক জো রুট ও এমিলিও গে তৃতীয় উইকেটে ৪৭ রান যোগ করে পরিস্থিতি সামাল দেন। রুট ২৪ রান করে মোহাম্মদ আলীর বলে এলবিডব্লিউ হন।
দিনের শেষ পর্যন্ত এমিলিও গে ৩০ রানে অপরাজিত থাকেন এবং হ্যারি ব্রুক ৭ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন। ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংসের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৮১/৩।
সিরিজ জয়ের পথে ইংল্যান্ড
দ্বিতীয় দিন শেষে ইংল্যান্ডের মোট লিড ২৬১ রান। প্রথম টেস্টে হেডিংলিতে পাকিস্তানকে ইনিংস ও ১০৩ রানে হারানোর পর সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে আছে ইংল্যান্ড। দ্বিতীয় টেস্টেও বর্তমান অবস্থান তাদের সিরিজে ব্যবধান বাড়ানোর শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে।
তবে লর্ডসের পিচে সিম মুভমেন্ট এখনো রয়েছে এবং ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংসেও তিন উইকেট পড়ে গেছে। ফলে পাকিস্তানের বোলাররা তৃতীয় দিনে দ্রুত উইকেট তুলে নিতে পারলে ম্যাচে কিছুটা চাপ তৈরি করার সুযোগ পেতে পারে।
দ্বিতীয় দিনের খেলা বৃষ্টির বাধা ও খারাপ আলোর কারণে নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ হয়। তৃতীয় দিনে ইংল্যান্ড কত দ্রুত লিড আরও বাড়াতে পারে এবং পাকিস্তান কতটা পাল্টা চাপ তৈরি করতে পারে—সেদিকেই এখন নজর।