বিএনপি নেতার সঙ্গে ‘গোপন আস্তানায়’ জুয়ার আসর, টাকায় চুমু খেয়ে ভাইরাল সরকারি কর্মকর্তা
নিউজ ডেস্ক | নিউইয়র্ক ভয়েস বাংলা
বরিশালের বাকেরগঞ্জে বিএনপির এক নেতা ও পৌরসভার এক হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কথিত জুয়ার আসরে থাকার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি নিয়ে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর থেকে ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে ভিডিওতে থাকা বিএনপি নেতার নাম ওবায়দুল ইসলাম মাহি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি বাকেরগঞ্জ পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তাঁর সঙ্গে পৌরসভার হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা ইফতেখার উদ্দিনকেও দেখা গেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
ভাইরাল ভিডিওতে কয়েকজনকে একটি স্থানে তাস খেলতে দেখা যায়। তাদের সামনে একটি ব্যানার বিছানো এবং তার ওপর টাকা রাখা রয়েছে। ভিডিওতে পৌরসভার হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা ইফতেখার উদ্দিনকে জুয়ায় জেতা টাকা হাতে নিয়ে চুমু খেতে দেখা যায় বলে একাধিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বাকেরগঞ্জ পৌরসভার পাশের একটি কথিত গোপন স্থানে ওবায়দুল ইসলাম মাহির নেতৃত্বে নিয়মিত রাতে জুয়ার আসর বসে। সেখানে রাজনৈতিক নেতা, চাকরিজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা এখনো নিশ্চিত হয়নি।
এদিকে ভাইরাল ভিডিওটির বিষয়ে বাকেরগঞ্জ পৌরসভার হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা ইফতেখার উদ্দিনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। ফলে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে বিএনপি নেতা ওবায়দুল ইসলাম মাহি অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, একটি ‘কুচক্রী মহল’ তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তিনি জুয়া খেলার সঙ্গে জড়িত নন এবং কথিত ওই আস্তানার সঙ্গেও তাঁর কোনো সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেন। তবে ভাইরাল ভিডিও সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনাটি নিয়ে বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদিল হোসেন জানিয়েছেন, তিনি ভাইরাল ভিডিওটি এখনো দেখেননি। এ বিষয়ে থানায় কোনো অভিযোগও পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি। তবে এলাকায় জুয়া বন্ধে পুলিশের নজরদারি রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট এলাকায় অভিযান চালানো হবে বলে জানিয়েছেন ওসি।
তবে ভিডিওটি কখন ধারণ করা হয়েছে, ঠিক কোথায় ধারণ করা হয়েছে এবং ভিডিওতে থাকা ব্যক্তিদের প্রকৃত ভূমিকা কী ছিল—এসব বিষয় এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও স্থানীয় অভিযোগের ভিত্তিতে কারও বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত প্রয়োজন।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে সরকারি কর্মকর্তার এমন একটি কথিত আসরে উপস্থিতি এবং রাজনৈতিক পরিচয়ের একজন ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এখন ভিডিওটির সত্যতা, ধারণের স্থান ও সময় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়াই মূল বিষয়।