বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় আইনশৃঙ্খলা, সার ও বিদ্যুৎ নিয়ে উদ্বেগ
নিজস্ব প্রতিবেদক ॥
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সার সরবরাহ এবং বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিএনপির সংসদীয় দলের সদস্যরা। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত দলের সংসদীয় সভায় এসব বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সভায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে সংসদ সদস্যদের অবহিত করেন এবং সংকট মোকাবিলায় সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ তুলে ধরেন।
সভায় বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম (অমিত) সংসদ সদস্যদের ব্রিফ করেন। তিনি জানান, আগের সরকারের রেখে যাওয়া বিদ্যুৎ অবকাঠামোর কারণে তাৎক্ষণিকভাবে সংকট পুরোপুরি সমাধান করা সম্ভব নয়। তবে শহর ও গ্রামের মধ্যে লোডশেডিংয়ের ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করা হবে বলে জানান তিনি।
সার পরিস্থিতি নিয়ে সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানান, দেশে পর্যাপ্ত সারের মজুত রয়েছে। তবে সরবরাহ ও বিতরণব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে সরকার সতর্ক রয়েছে। সারের সরবরাহে কোনো ধরনের নাশকতা বা ‘স্যাবোটাজ’ ঠেকাতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে আহ্বায়ক করে উপজেলা পর্যায়ে কমিটি গঠনের কথাও জানানো হয়। যেসব এলাকায় সার ডিলাররা অনুপস্থিত বা পলাতক রয়েছেন, সেখানে নতুন ডিলার নিয়োগের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সংসদ সদস্যদের সহযোগিতা চেয়েছেন। তিনি বিভিন্ন এলাকায় ‘মব কালচার’ বা সংঘবদ্ধভাবে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা নিয়ে সতর্ক করেন। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে দলের নেতা-কর্মীদের কেউ জড়িত থাকলে তা সরকারের জন্য রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিকর হতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন। একই সঙ্গে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য দেওয়ার জন্য সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান।
সভায় প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানও বক্তব্য দেন। তিনি মন্ত্রীদের দেওয়া তথ্য নিজ নিজ এলাকায় জনগণের কাছে তুলে ধরতে সংসদ সদস্যদের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, সার সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় মাঠপর্যায়ে সক্রিয় থাকার ওপর গুরুত্ব দেন।
সভায় আগামী ১ সেপ্টেম্বর বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিতে মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকায় উপস্থিত থাকার নির্দেশনাও দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সরকারের বিরুদ্ধে প্রচার বা অপপ্রচারের জবাব দিতে দলীয় নেতাদের জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।